Advertisement
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Presents
Personal Finance 2023

লগ্নি করবেন আর তা নিজের মতো সূচকের সঙ্গে বাড়বে! সম্ভব? কেন নয়?

লগ্নির বাজারে নানান সূচক রয়েছে। আর এই সূচকগুলি তৈরি হয় বিশেষ কয়েকটি শেয়ারের দামের গড় ওঠাপড়া ধরে বাজারের অবস্থা জানান দেওয়ার জন্য। আবার সব শেয়ার সমান ওজনদার হয় না।

অ্যাকটিভ ফান্ড এবং প্যাসিভ ফান্ড

অ্যাকটিভ ফান্ড এবং প্যাসিভ ফান্ড

প্রসূনজিত মুখোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪:৩০
Share: Save:

এই তো সেদিনের কথা। মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করতে হলে এত কিছু খবর রাখতে হত না। জানতেও হত না এত কিছু। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই গোটা চিত্রটাই বদলে গিয়েছে। এখন শুধু ঋণপত্রে বা ইক্যুইটিতে টাকা রাখব বললেই হয় না। বাছতে হয় ঝুঁকির অঙ্ক এবং সঞ্চয়ের লক্ষ্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফান্ড। কোনটায় এক্ষুণি ভাঙানোর সুযোগ, কোনটা তিন বছরের আগে ভাঙানো যায় না, কোনটা আবার ঋণপত্র আর ইক্যুইটির মিশ্রণ। আর তাই টাকা ঢালার আগে সঞ্চয় উপদেষ্টার কাছে যাওয়াটাই রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আর মিউচুয়াল ফান্ডের এই বিরাট সম্ভারকে বোঝার সুবিধার জন্য তাদের নানান শ্রেণিবিভাগ হয়েছে। যেমন অ্যাকটিভ আর প্যাসিভ। এক ভাবে ভাবলে এই বিভাজনটা হল মিউচুয়াল ফান্ড সংস্থারা তাদের কোন ফান্ড কী ভাবে পরিচালনা করে তার ভিত্তিতে করে। আর অন্যভাবে ভাবলে এই বিভাজনটা অনেকটাই হল স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত ফান্ড আর সাধারণ ভাবে ফান্ড ম্যানেজারের চিন্তায় কোনটা আপনার জন্য ভাল বা সব থেকে ভাল রিটার্ন দেবে সেই যুক্তিতে লগ্নির সিদ্ধান্ত নেওয়া ফান্ড। দেখে নেওয়া যাক বিস্তারে।

প্যাসিভ ফান্ড কিন্তু এক অর্থে বেশ মজার। লগ্নির বাজারে নানান সূচক রয়েছে। আর এই সূচকগুলি তৈরি হয় বিশেষ কয়েকটি শেয়ারের দামের গড় ওঠাপড়া ধরে বাজারের অবস্থা জানান দেওয়ার জন্য। আবার সব শেয়ার সমান ওজনদার হয় না। কিছু শেয়ার ভারে বেশি কাটে অন্যের তুলনায়। তাই এই গড় দামে কোনটার শতাংশের মাপে ওজন বেশি তা নির্ধারিত হয় সে কতটা বাজারে ওজনদার তা দেখেই।

ধরা যাক নিফটি ৫০ সূচকের কথাই। ধরা যাক এই সূচকে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ়ের শেয়ারের ওজন ২০ শতাংশ। তা হলে এই ফান্ডের গোটা বিনিয়োগের ২০ শতাংশ লগ্নি হবে রিলায়েন্সে। বিনিয়োগের যে তহবিল তৈরি হয়েছে ওই ফান্ডে তার থেকে বাকি অংশও ওই হিসাবেই অন্য শেয়ারে বিনিয়োগ করা হবে। ব্যস। ফান্ড ম্যানেজারের কাজ শেষ। এবার সূচক উঠলে আপনার বিনিয়োগ উঠবে, পড়লে আপনার বিনিয়োগ পড়বে। তবে সব সময়ই যে আনুপাতিক ওঠাপড়া এক রকম হবে তার কোনও মানে নেই। সূচকের আনুপাতিক হিসাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফান্ডের আনুপাতিক ওঠাপড়ার একটা ফারাক হতে পারে। আর সেটা কেন তা নিয়ে আলাদা আলোচনা করা যাবে।

অন্যদিকে, অ্যাক্টিভ ফান্ডের ক্ষেত্রে সে রকম কোনও সীমাবদ্ধতা নেই। তবে মিউচুয়াল ফান্ড সংস্থাগুলিকে কিন্তু তাদের নানান ফান্ডের ঝুঁকির এবং দক্ষতা বিচারের জন্য কোনও কোনও সূচকের সঙ্গে তুলনা করতে হয়। যাতে বিনিয়োগকারী বুঝতে পারে বাজারে একই রকম অন্য ফান্ডের তুলনায় এই ফান্ডটি কতটা দক্ষ। মাথায় রাখতে হবে ম্যানেজারের বিনিয়োগের স্বাধীনতা কিন্তু অগাধ নয়। বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি ফান্ড ম্যানেজারদের বিনিয়োগকারীদের প্রতি দায়বদ্ধতা স্পষ্ট করে দিয়েছে এমন ভাবে যাতে কোনও ম্যানেজার তার স্বেচ্ছাচারের কারণে বিনিয়োগকারীর লগ্নিকে বিপদের মুখে ঠেলে না দিতে পারেন।

এবার হল আসল প্রশ্ন। কোন পথে যাব? তাই তো? আসলে দুটোই ভাল। কিন্তু আপনার জন্য কোনটা ভাল তা কিন্তু আপনাকেই ঠিক করতে হবে। আমি শুধু আমার অভিজ্ঞতাটা আপনার সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি। আমার অভিজ্ঞতা বলে পড়ে যাওয়া বাজারে সূচক নির্ভর ফান্ড তুলনামূলক ভাবে কম লোকসান করে এবং বাজার যখন ভাল থাকে অ্যাক্টিভ ফান্ড বেশি ভালভাবে কাজ করে। তবে আমার ধারণা, ভারতে আগামী এক দশকে বা তারও বেশি সময় ধরে অ্যাক্টিভ ফান্ড আরও উপার্জন করবে। আর এর প্রাথমিক কারণ হল একটি বড় সংখ্যার কোম্পানির শেয়ার সূচকে নেই। আর তাই সূচক নির্ভর ফান্ডে সেই সব সংস্থার শেয়ারের ওঠাপড়ার সুযোগ পাওয়া যায় না। অন্যদিকে অ্যাক্টিভ ম্যানেজারদের ক্ষেত্রে সে রকম কোনও সীমাবদ্ধতা নেই। তাই কোনও শেয়ারের দাম পড়লে অন্য শেয়ারে বিনিয়োগ সরিয়ে নিয়ে যেতে পারেন এঁরা। একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় সংস্থার শেয়ারে এখন বিনিয়োগ করে ভবিষ্যতে বা দীর্ঘমেয়াদে লাভ ঘরে তোলার ব্যবস্থা করতে পারেন এঁরা।

এটা ঠিক যে প্যাসিভ ফান্ডে বিনিয়োগ করলে ফান্ড পরিচালনার খাতে আপনার পকেট থেকে কম টাকা খরচ হবে। কারণ একটাই এ জাতীয় ফান্ডে শেয়ারের ঝুলি নাড়তে চাড়তে হয় না। কিন্তু অ্যাকটিভ ফান্ডের ক্ষেত্রে যেহেতু আপনার বিনিয়োগের ঝুলি নাড়তে চাড়তে হয় তাই খরচও একটু বেশি। কিন্তু তাতে আখের লাভ আপনারই। কারণ আপনার বিনিয়োগের ঝুলিতে যত নড়াচড়া পড়বে এক অর্থে তত বেশি সুরক্ষিত থাকবে আপনার বিনিয়োগ। তবে কোন রাস্তায় আপনি হাঁটবেন সেটা একান্তই আপনার সিদ্ধান্ত।

প্রতিবেদক সঞ্চয় উপদেষ্টা। বক্তব্য নিজস্ব।

বিশেষজ্ঞদের কাছে সমাধান খুঁজতে সঞ্চয় নিয়ে আমাদের প্রশ্ন পাঠান — takatalk2023@abpdigital.in এই ঠিকানায় বা হোয়াটস অ্যাপ করুন এই নম্বরে — ৮৫৮৩৮৫৮৫৫২আপনার আয়, খরচ এবং সঞ্চয় জানাতে ভুলবেন না। পরিচয় গোপন রাখতে চাইলে অবশ্যই জানান।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement

Share this article

CLOSE