• নিজস্ব প্রতিবেদন
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বিনোদন

প্রথম ছবিতে স্ক্রিন টেস্টে বাদ পড়েছিলেন সৌমিত্র!

শেয়ার করুন
১৩ soumitra
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়...যাঁর নাম শুনলেই বাঙালি হৃদয় উদ্বেলিত হয়...শ্রদ্ধায় মাথা নত হয় আট থেকে আশির... তাঁর জন্মদিন আজ। আজ ছিয়াশিতে পা দিলেন এই লিভিং লেজেন্ড। জন্মদিনে দেখে নেওয়া যাক সৌমিত্রের জীবনের কিছু কথা যা হয়ত আপনার অজানা।
১৩ SOUMITRA
১৯৩৫-এর ১৯ জানুয়ারি নদিয়ায় জন্ম সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের। বাড়িতে নাট্যচর্চার পরিবেশ ছিলই। ছোট বয়স থেকেই নাটকে অভিনয় করতে শুরু করেন তিনি।
১৩ SOUMITRA
কলকাতার সিটি কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে সৌমিত্র ভর্তি হন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে বাংলা সাহিত্য নিয়েই স্নাতকোত্তর করেন সৌমিত্র। কলেজের ফাইনাল ইয়ারে হঠাৎই একদিন মঞ্চে শিশির ভাদুরির নাটক দেখার সুযোগ হয়। জীবনের মোড় ঘুরে যায় সে দিনই।
১৩ SOUMITRA
পুরোদস্তুর নাটকে মনোনিবেশ করেন তিনি। তাঁর থিয়েটার কেরিয়ারে চিরকাল শিশির ভাদুরিকে গুরুর মান্যতা দিয়ে এসেছেন সৌমিত্র। নিজেও বলেছেন, অদ্ভুত এক বন্ধুত্ব ছিল তাঁদের মধ্যে। সব রকম আলোচনা হত দু’জনের মধ্যে।
১৩ SOUMITRA
তাঁর প্রথম ছবি হতে পারত ‘নীলাচলে মহাপ্রভু’। সব কথাও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে স্ক্রিন টেস্টে বাদ পড়ে যান সৌমিত্র। তাঁর জায়গায় নেওয়া হয় অসীম কুমারকে।
১৩ SOUMITRA
সালটা ১৯৫৮। সৌমিত্র গিয়েছেন সত্যজিতের ‘জলসাঘর’ ছবির শুটিং দেখতে। সেট ছেড়ে বেরোবেন, এমন সময়েই ডাক পড়ে তাঁর। ডাকেন স্বয়ং ‘রে’। এর পর যা হয় তার জন্য বোধ হয় প্রস্তুত ছিলেন না সৌমিত্র নিজেও। বাংলা সিনেমা জগতের আর এক কিংবদন্তি ছবি বিশ্বাসের কাছে সৌমিত্রকে সত্যজিৎ পরিচয় করান অনেকটা এই ভাবে, “এই হল সৌমিত্র। আমার পরবর্তী ছবি অপুর সংসারে ও অপু করছে।”
১৩ soumitra
তারপরের অধ্যায়টা ইতিহাস। সিনেমার জগতে হাতেখড়ি হয় সৌমিত্রর।‘অপুর সংসার’-এর হাত ধরে। প্রথম ছবিতেই বাজিমাত। ফার্স্ট শটেই সিন ওকে। ছবিতে ‘খাওয়ার পর একটা করে, কথা দিয়েছ’, তাঁর আর শর্মিলা ঠাকুরের সেই সংলাপ, কেমিস্ট্রি এখনও বাঙালি মননে অমলীন।
১৩ soumitra
এসেই যেন লাইমলাইট কেড়ে নিয়েছিলেন এই দীর্ঘাকৃতি, সুদর্শন পুরুষ। মহিলা মহলে তুমুল হিল্লোল তোলা ব্যক্তিটিকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।এর পর একে একে ‘ক্ষুধিত পাষাণ’, ‘দেবী’, ‘ঝিন্দের বন্দি’, ‘চারুলতা’, ‘কিনু গোয়ালার গলি’... তালিকাটা গুনে শেষ করা যাবে না। সত্যজিতের প্রায় ১৪টি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন তিনি।
১৩ soumitra
সত্যজিতের সৃষ্টি ফেলুদাকে বড় পর্দায় জীবন্ত করেছিলেন তিনিই। ফেলুদা এর পরেও বহুবার হয়েছে বড় পর্দায়, ছোট পর্দায়। কিন্তু হেন বাঙালি নেই যিনি একবাক্যে স্বীকার করে নেবেন, সৌমিত্রেরমতো কারও পক্ষে ওই চরিত্র ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয়নি।
১০১৩ soumitra
১৯৬০ সালে তিনি বিয়ে করেন দীপা চট্টোপাধ্যায়কে। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। (স্ত্রীর সঙ্গে সৌমিত্র)
১১১৩ soumitra
তাঁর মেয়ে পৌলমী চট্টোপাধ্যায়ও বিখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব। জীবনে পেয়েছেন হাজারও পুরস্কার। ২০০৪ সালে তাঁকে পদ্মভূষণে সম্মানিত করা হয়। এ ছাড়াও তাঁর ঝুলিতে রয়েছে জাতীয় পুরস্কার, দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার আরও অনেক কিছু। (ছবি: মেয়ে পৌলমী এবং নাতি)
১২১৩ soumitra
অভিনয় তাঁর একটি সত্তা মাত্র। কবিতাচর্চা, রবীন্দ্রপাঠ, সম্পাদনা, নাট্যসংগঠন তাঁর বিপুল বৈচিত্রের এক একটি দিক। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় সব কিছু নিয়েই অনন্য।এই ৮৬-তে এসেও একই প্রাণশক্তি নিয়ে কাজ করে চলেছেন তিনি।
১৩১৩ soumitra
এত এনার্জি কী করে পান? হেসে বলেছিলেন, “এনার্জি-টেনার্জি নয়, এটিই তো আমার কাজ। এটি না করলে আর কী করব আমি।” কিছুদিন আগেই মুক্তি পেয়েছে তাঁর ‘সাঁঝবাতি’। সামনে আসছে একগুচ্ছ ছবি। ‘বরুণবাবুর বন্ধু’, ‘বেলাশুরু’... লিস্টটা বড়, অনেকটাই বড়। ছবি: সোশ্যাল মিডিয়া এবং আর্কাইভ থেকে নেওয়া হয়েছে।

Advertisement

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন
বাছাই খবর
আরও পড়ুন