• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

আন্তর্জাতিক

সম্বল নারকেল আর বৃষ্টির জল, মহাসাগরে হারিয়ে গিয়ে জনহীন দ্বীপে দ্বীপে ভেসে বেড়ালেন ওঁরা

শেয়ার করুন
১২ 1
নারকেল আর বৃষ্টির জল। এক মাস ধরে এটাই ছিল খাবারের সম্বল। এই খেয়েই প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে এক মাস ধরে বেঁচে থাকতে হয়েছে চারজনকে। সঙ্গে ছিল এক দুর্ঘটনার ভয়াবহ স্মৃতি। যে দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে তাঁদের আট সঙ্গীর প্রাণ। নিহতদের মধ্যে ছিল একটি শিশুও। ভয়ঙ্কর এই অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দিচ্ছে সাহিত্যের রোমাঞ্চকর সৃষ্টিকে। যেখানে দুঃসাহসিক সামুদ্রিক অভিযানই হয়ে উঠেছে লেখকের কলমের উপজীব্য।
১২ 2
জুল ভার্নের ‘অ্যাড্রিফ্ট ইন দ্য প্যাসিফিক: টু ইয়ার্স ভ্যাকেশন’ আচ্ছন্ন করে রেখেছে বহু কৈশোরকে। প্রায় সে রকম এক অভিজ্ঞতাই হয়েছে পাপুয়া নিউগিনির কিছু লোকের। তাঁদের খবর প্রকাশ করেছে ‘দ্য সলোমন স্টার নিউজ’। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁরা গত ২২ ডিসেম্বর একটি ছোট্ট নৌকায় রওনা দিয়েছিলেন পাপুয়া নিউগিনির বোগেইনভিল থেকে। গন্তব্য ছিল ১০০ কিমি দূরে কার্টেরেট দ্বীপ।
১২ 3
কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছবার আগেই নৌকাডুবি। জল ঢুকে উল্টে যায় নৌকো। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান এক শিশু-সহ আট সদস্য। ঘটনার অভিঘাতে মুহ্যমান হলেও দলের বাকিরা কোনওমতে ওই নৌকা মেরামত করে নেন।
১২ 4
কিন্তু গন্তব্যে আর পা রাখা যায়নি। ফুটিফাটা নৌকা আর নিজেদের প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্রোতের কাছে সমর্পণ করে দেওয়া ছাড়া কোনও উপায় ছিল না।
১২ 5
ভীতিজনক এই অভিজ্ঞতা সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন ডোমিনিক স্ট্যালি। এই অভিযানে যাঁরা বেঁচে ফিরেছেন তাঁদের মধ্যে ডোমিনিক অন্যতম। তিনি ছাড়া রক্ষা পেয়েছেন আরও একজন পুরুষ, একজন মহিলা এবং ১২ বছরের এক কিশোরী। তাঁদের উদ্ধার করা হয় গত ২৩ জানুয়ারি, নিউ ক্যালেডোনিয়ার উপকূল থেকে। তত ক্ষণে প্রশান্ত মহাসাগরে প্রায় দু’হাজার কিমি ভেসে থেকেছেন তাঁরা।
১২ 6
ডোমিনিকের দাবি, তাঁদের পাশ দিয়ে বেশ কিছু মাছ ধরার নৌকা চলে গেলেও কেউ উদ্ধারের জন্য এগিয়ে আসেনি। নয়তো আরও আগেই শেষ হত তাঁদের ভেসে থাকার পর্ব। দুর্ঘটনাগ্রস্ত নৌকা থেকে উদ্ধারের পরে তাঁদের গত সপ্তাহে নামিয়ে দেওয়া হয় সলোমন দ্বীপের রাজধানী হোনিয়ারায়।
১২ 7
তাঁরা সকলেই প্রায় জলশূন্য হয়ে পড়েছিলেন। চিকিৎসার পরে তাঁদের তুলে দেওয়া হয় পাপুয়া নিউ গিনির হাইকমিশনার জন বালাভুর তত্ত্বাবধানে।
১২ 8
‘রবিনসন ক্রুসো’ থেকে ‘সুইস ফ্যামিলি রবিনসন’। বিশ্বসাহিত্যের উপন্যাসে বারবার নিজেই চরিত্র হয়ে উঠেছে সুমদ্র। বাস্তবেও যে ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে মানুষ যে কয়েকবার মহাকাব্যিক রক্ষা পেয়েছে, তার বেশির ভাগ ঘটনারই সাক্ষী থেকেছে প্রশান্ত মহাসাগর।
১২ 9
২০১৪ সালের জানুয়ারিতে প্রশান্ত মহাসাগরের মার্শাল দ্বীপ থেকে উদ্ধার করা হয় এল সালভাদরের মৎস্যজীবী হোস অ্যালভারেঙ্গাকে। তাঁর দাবি ছিল, ১৩ মাস আগে তিনি রওনা দিয়েছিলেন মেক্সিকোর পশ্চিম উপকূল থেকে। পথে মৃত্যু হয় সঙ্গীর। তিনি বেঁচে ছিলেন পাখি এবং সামুদ্রিক জীবের কাঁচা মাংস খেয়ে।
১০১২ 10
তেষ্টা মেটানোর জন্য বৃষ্টির জল ছাড়া হোসের ভরসা ছিল কাছিমের রক্ত আর নিজের মূত্র। প্রথমে তাঁর দাবি বিশ্বাস করা হয়নি। সন্দেহ করা হয়েছিল, তিনি সঙ্গীকে খুন করেছেন। ফলে করা হয়েছিল পলিগ্রাফ টেস্ট। খতিয়ে দেখা হয়েছিল প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট অংশে নির্দিষ্ট সময়ের যান চলাচলের রেকর্ড। তারপর অভিযোগমুক্ত হন হোসে। বোঝা যায়, সত্যি কথাই বলছেন তিনি।
১১১২ 11
ইন্দোনেশিয়ার এক কিশোর ২০১৮ সালে সাত মাস একা যুঝেছিলেন সমুদ্রের সঙ্গে। মাছ ধরতে বেরিয়ে পথ হারিয়েছিল সে। আড়াই হাজার কিলোমিটার ভেসে থাকার পর তাকে উদ্ধার করা হয়েছিল প্রশান্ত মহাসাগরের গুয়াম দ্বীপের কাছ থেকে।
১২১২ 12
সেই কবে থেকেই সমুদ্র শরিক হয়েছে মানুষের দুঃসাহসিক অভিযানের। উত্তাল ঢেউয়ে মানুষের বেঁচে থাকার ইচ্ছায় সাধারণ ডিঙি নৌকাও বোধহয় হয়ে ওঠে অলৌকিক জলযান। কখনও মানুষ জয়ী হয়। আবার কখনও ‘লাইফ অফ পাই’ বিলীন হয়ে যায় জলরাশিতেই। (ছবি: আর্কাইভ ও সোশ্যাল মিডিয়া)

Advertisement

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন
বাছাই খবর
আরও পড়ুন