• নিজস্ব প্রতিবেদন
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

দেশ

উকিলের মেয়ে থেকে যৌনপল্লির মক্ষীরানি! নেহরুকে পর্যন্ত চমকে দিয়েছিলেন মাফিয়া রানি গাঙ্গুবাঈ

শেয়ার করুন
১৪ 2
প্রধানমন্ত্রী নেহরু তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, “আপনি নিজে পরে বিয়ে করেননি কেন?” শুনে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেছিলেন, “আপনি বিয়ে করবেন আমাকে?” হতভম্ব ও অপ্রস্তুত নেহরু তাঁর সামনে থেকে চলে গিয়েছিলেন।
১৪ 3
দু’জনের সাক্ষাৎ হয়েছিল স্বেচ্ছাসেবী সং‌স্থার এক অনুষ্ঠানে। সেখানে বক্তা হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন ওই মধ্যবয়সি। তিনি আজীবন বলতেন, “উপদেশ দেওয়ার থেকে নিজে কিছু করে দেখানো অনেক কঠিন।” সেই মনোভাব ফুটে উঠেছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময়েও!
১৪ 4
যে নিষিদ্ধপল্লির অস্তিত্ব নিয়ে এত সরব ছিলেন, তার ভালমন্দ নিয়েও ভেবেছেন সারা জীবন। কারণ তরুণীবেলা থেকে জীবনের শেষ দিন অবধি তাঁর কেটেছিল মুম্বইয়ের কামাথিপুরার পতিতাপল্লিতেই। যদিও গুজরাতের কাথিয়াবাড়ে সম্পন্ন আইনজীবীর একমাত্র মেয়ে গঙ্গা দুঃস্বপ্নেও ভাবতেও পারেননি এক দিন তাঁর গন্তব্য হবে কামাথিপুরা!
১৪ 5
শৈশবে গঙ্গা আক্ষরিক অর্থেই ছিলেন আলালের ঘরের দুলালী। এক দিন তিনি প্রেমে পড়লেন তাঁর বাবার এক কর্মচারীর। প্রেমিকের হাত ধরে ঘর ছেড়ে চলে এলেন সাবেক বম্বে, আজকের মুম্বই। স্কুলের পরে এগোল না পড়াশোনাও। ঘরছাড়া ষোড়শী গঙ্গার দু’চোখে তখন স্বপ্ন, বিয়ে করে সংসার করবেন, আবার হিন্দি ছবিতে অভিনয়ও করবেন।
১৪ 6
মুম্বই এসে বিয়ে হল। কিন্তু অভিনয় করা আর হল না। এক দিন গঙ্গাকে তাঁর স্বামী বিক্রি করে দিল মুম্বইয়ের নিষিদ্ধপল্লিতে, পাঁচশো টাকার বিনিময়ে। যখন বুঝতে পারলেন, তিনি ‘বিক্রি’ হয়ে গিয়েছেন, প্রথম কয়েক দিন শুধু কেঁদেছেন গঙ্গা।
১৪ 7
এক দিন বুঝলেন, কেঁদে কোনও লাভ নেই। বন্ধ হয়ে গিয়েছে ফেরার রাস্তাও। তাঁকে থাকতে হবে ‘মন্দ মেয়ে’ হয়েই। ভাবলেন, ওই পঙ্কিল পরিবেশেই থাকবেন। কিন্তু বাঁচবেন রানির মতো করে। নিজের কাছে নেওয়া সেই শপথ রেখেছিলেন গঙ্গা হরজীবনদাস। তিনি হয়েছিলেন মুম্বইয়ের ‘মাফিয়া কুইন’।
১৪ 8
ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছনর প্রথম ধাপগুলো ছিল যন্ত্রণাময়। সেই ‘যন্ত্রণা’-কেই তিনি পরিণত করলেন নিজের ‘ক্ষমতায়’। হলেন নিষিদ্ধপল্লির সেরা আকর্ষণ। কুখ্যাত মাফিয়া থেকে বিত্তবান ব্যবসায়ী। সবাই তাঁর বশংবদ হয়ে পড়লেন। সরল গঙ্গা তত দিনে কামাথিপুরার গাঙ্গুবাঈ কাথিয়াবাড়ি।
১৪ 9
তাঁর সিন্দুক এবং ক্ষমতা, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্ফীত হয়ে উঠল দুটোই। দাগী অপরাধী থেকে পুলিশের কর্তা, সমাজের দুই মেরুর সঙ্গেই মধুর সম্পর্ক পতিতাপল্লির অধীশ্বরী গাঙ্গুবাঈ কাথিয়াবাড়ির।
১৪ 10
তাঁর ক্ষমতার শীর্ষে ওঠার পিছনে অবদান ছিল মাফিয়া ডন করিম লালার। নিষিদ্ধ-জীবনের প্রথম দিকে করিমের দলের লোকদের হাতে ধর্ষিতা হয়েছিলেন গঙ্গা। তিনি ঠিক করেছিলেন, এর প্রতিশোধ তিনি নেবেন।
১০১৪ 11
চলে গিয়েছিলেন এক শুক্রবার। ডন করিম লালা তখন প্রার্থনারত। রাখি হাতে নিয়ে গঙ্গা অপেক্ষা করতে লাগলেন তাঁর জন্য। করিমের প্রার্থনা শেষ হলে তাঁর সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন গঙ্গা। হাতে রাখি পরিয়ে দিলেন। তার পর বললেন, কী ভাবে করিমের লোকদের হাতে পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি।
১১১৪ 12
সব শুনে গঙ্গার সামনেই দলের সেই লোকদের নির্মম ভাবে বেত্রাঘাত করেছিলেন করিম লালা। তার পর বলেছিলেন, এর পর থেকে তাঁর বোন গঙ্গার গায়ে যেন কোনও আঁচ না লাগে। এর পর গঙ্গার সামনে ক্ষমতার ধাপ আরও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। গঙ্গা থেকে গাঙ্গুবাঈ হয়ে ওঠার পথ মসৃণ হয়ে গিয়েছিল।
১২১৪ 13
নিষিদ্ধপল্লির কর্ত্রী খেয়াল রাখতেন তাঁর কুঠির মেয়েদের। সবসময় তাঁদের পাশে থাকতেন। তাঁর আশ্রয়ে থাকত কুঠির মেয়েদের সন্তানরাও। নিজের উপার্জনের বড় অংশ তিনি খরচ করতেন অনাথদের কল্যাণে এবং কামাথিপুরার উন্নয়নে।
১৩১৪ 14
কোনও মেয়েকে নির্যাতন করে নিজের কাছে রাখতেন না গাঙ্গুবাঈ। তিনি নিজেকে ‘পরিস্থিতির শিকার’ বলে ভাবতেন না। ভাবতে দিতেন না তাঁর কাছে থাকা বাকি মেয়েদেরও। সমাজচ্যুত অবস্থাতেও তাঁদের বাঁচতে শেখাতেন।
১৪১৪ 15
গাঙ্গুবাঈ নিষিদ্ধপল্লিতে থেকেই উপভোগ করতেন জীবনকে। তাঁর বাহন ছিল বহুমূল্য গাড়ি। পরিণত বয়সে চশমার ফ্রেমের সঙ্গে পরনের শাড়িতেও থাকত সোনার উপস্থিতি। হার-না-মানা এই নারীকে তুলে ধরেছেন সাংবাদিক হুসেন জাইদি। তাঁর ‘মাফিয়া কুইনস অব মুম্বই’ বইয়ে। গাঙ্গুবাঈয়ের জীবন নিয়ে আসছে হিন্দি ছবিও। সঞ্জয়লীলা ভনশালীর পরিচালনায় সেই ছবিতে গাঙ্গুবাঈ-এর ভূমিকায় দেখা যাবে আলিয়া ভট্টকে। পাঁকের মধ্যেও উজান স্রোত খুঁজে সাঁতার দেওয়া গাঙ্গুবাঈয়ের মূর্তি যেন আজও কামাথিপুরার রক্ষক। (ছবি: শাটারস্টক ও সোশ্যাল মিডিয়া)

Advertisement

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
বাছাই খবর
আরও পড়ুন