আমাদের ঠাকুরঘরের দেওয়ালে দুটো কান্না টাঙানো ছিল। আমার একান্ত গোপন কান্না। আমার বাবা আর মায়ের বাঁধানো ছবি। এরকম সাধারণত সব বাড়িতেই থাকে। মৃত্যুদিন এলে তারা আগে রজনীগন্ধার মালা পেত। অথবা বাড়িতে কোনও পুজো-আচ্চা থাকলে ঠাকুরের জন্য যা বরাদ্দ, তার থেকে একটু সরু মালা পেত। কারণ বাবা-মা তো আর ঠাকুর নয়। আমার বাবা-মা, বাকিদের কাছে অতি সাধারণ মানুষ!
আমার ছেলে তখন খুব ছোট। মাঠে খেলতে যাওয়ার বয়স তখনও হয়নি। প্লাস্টিকের ব্যাট-বল। আমি বল করতাম। ছেলে ড্রয়িংরুমে ব্যাট করত। এক দিন হঠাৎ সপাটে একটা শট নিল। বুঝিনি কোন ফাঁকে এতটা বড় হয়ে গেছে। মানে এবার মাঠে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বলটা গিয়ে লাগল একদম ঠিক আমার বাবার ছবির উপরে। ঝনঝন করে ভেঙে পড়ল দীর্ঘ দিনের কাচের কারাগার। একটা মানুষ যেন বহু দিন বাদে মুক্তি পেলেন তাঁর তৃতীয় পুরুষের হাতে। সুচরিতা তখন ছেলেকে মারতে উদ্যত। ছেলের অকপট জবাব, “দাদুর তো আর লাগেনি। ওটা তো ছবি! কাচ পাল্টে নিলেই হবে।”
এরা নতুন প্রজন্ম। এদের মুখে খই ফোটে। এই বয়সে আমাদের কেউ নাম জিজ্ঞেস করলে গুলিয়ে যেত, কোনটা বলব! ভাল নাম একটা, কিন্তু ডাকনাম তো অজস্র! কত মানুষ যে কত নামে ডাকত, তার ইয়ত্তা নেই। কেউ কোনও দিন আমাদের ছোটবেলায় বলে দেয়নি যে, শুধু ভাল নামটাই বলতে হয়। মানুষের কাছে শুধু নিজের ভালটুকু তুলে ধরতে হয়। তবে বড়দের দোষ দিয়ে লাভ নেই। তখন তো আর সামাজিক মাধ্যম আসেনি যে, বাচ্চা পেট থেকে পড়েই বুঝে যাবে, কী করলে সমাজমাধ্যমে পছন্দচিহ্ন বেশি পাওয়া যায়। এখন মানুষের সাফল্য লাইকের উপর দাঁড়িয়ে, আমরা ছোটবেলা কাটিয়েছি স্পাইকের উপর। খেলাধুলো ছাড়া আর কিছু বুঝতাম না। তবে ছেলের কথায় সেদিন অদ্ভুত বোধোদয় হল। বাবা চলে গেছেন প্রায় পাঁচ বছর। মা তারও অনেক আগে। কিন্তু সেদিন প্রথম উপলব্ধি করলাম যে, বাবা-মা আর বাস্তবে নেই। কারণ ক’দিন আগেও আমি সন্ধেবেলা অফিস থেকে ফিরে ছবির উপর মশা দেখলে উড়িয়ে দিয়েছি। খুব গরমে মনে হত, ফ্যানটা কি চালিয়ে দেব? বাবার মৃত্যুদিনে ওঁর পছন্দের মাখা সন্দেশ আনতাম। মায়ের বেলায় তাঁর প্রিয় শোনপাপড়ি। কেন? জানি না! ওগুলো তো জলে দেওয়া হত। বাবা-মা খেতেন না। তবু একটা বিশ্বাস ছিল।
বিশ্বাস বড় মারাত্মক জিনিস। পাথরকে ঠাকুর করে দেয়, আবার ঠাকুরকে দাঙ্গাবাজ। সেই বিশ্বাসটাই ভেঙে দিল একটা সামান্য প্লাস্টিকের বল। বাবার ছবিটা আসলে ভাঙেনি, ভেঙেছে আমার মনের ভিতরের সঞ্চিত ছবিটা। মনে মনে ঠিক করলাম, ছবিদুটো ভেঙে একটা করে নেব। আসলে আমাদের সঙ্গে আর এঁদের কোনও যোগাযোগ নেই। এঁদের স্তর আলাদা। আমরা ইহলোকে, ওঁরা পরলোকে। তাই মনে হয় ওঁদের দু’জনকে এক সঙ্গে রাখাটাই সমীচীন। আমি কথাটা পাড়তেই স্ত্রী সুচরিতাও রাজি হয়ে গেল। কিছু দিন পরেই বাবা-মাকে আবার একই কাঠের ছোট্ট ফ্রেমে বন্দি করে দিলাম। বহু দিন পর ওঁরা একত্রিত হয়ে মনে হচ্ছে যেন আমার দিকে তাকিয়ে হাসছেন। অবশ্যই সেটা আমার মনের ভুল। তবু আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ওঁরা খুশি।
ছেলে বাড়তে লাগল কলমের গাছের মতো। সত্যিই এরা আমাদের মতো বীজের অঙ্কুর নয়। এরা ছোটবেলা থেকেই নানা হেল্থ ড্রিঙ্কের সাহায্য পায়। আমরা কখন ভিতরে ভিতরে বুড়োবুড়ি হতে থাকলাম, বুঝতেই পারলাম না। প্রতিটা ধাপেই ভাল রেজ়াল্ট করছে ছেলে। আমরা মশগুল হয়ে পড়ছি তার সাফল্যের আনন্দে। প্রতিনিয়ত নিজেদের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলছি, বুঝতেই পারছি না। বাবা-মা হয়তো এভাবেই আমার ভিতরে নিজেকে দেখতেন। নিজেদের কোনও দিন আয়নায় দেখেননি। তখন আমি বুঝিনি। এখন বুঝি। সুচরিতার জন্য মাঝেমধ্যে কষ্ট হয়। ভাবি, পৃথিবীতে ও তো এসেছে একা, যাবেও একা। সন্তান বড় করা, মানুষ করা নিশ্চয়ই বাবা-মায়ের কর্তব্য। তা বলে নিজের প্রতি অবিচার করাটাও তো ঘোরতর অন্যায়। এটাও তো এক ধরনের নিঃশব্দ আত্মহত্যা। ছেলে ছাড়া সুচরিতার মাথায় আর কোনও লক্ষ্য নেই। বাবু কী খাবে! বাবু কী পরবে! কিসে বাবু ভাল থাকবে! কী করলে বাবুকে আরামে রাখা যাবে!
তবে হ্যাঁ, অন্যায় কথা বলব না, ছেলেও আমার অমানুষ নয়। মায়ের দুঃখ বোঝে। মায়ের খুবই বাধ্য। মায়ের সব কথা শোনে। আর তাতেই সুচরিতা অত্যন্ত গর্বিত। ওর খুশি, সাফল্যের তাপে উথলে ওঠে। আমি তাতে মাঝেমধ্যে ভারসাম্যের ফুঁ দিয়ে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করি। না হলে তো বেসামাল হয়ে যাবে। কিন্তু কে কার কথা শোনে! ছেলের জীবনকেই নিজের জীবন ভাবে সুচরিতা। এটা সুচরিতার অন্যায় নয়, এই অপত্যস্নেহ হয়তো যে কোনও মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। আমার তখনই ভয় হয়। চারাগাছে বেড়া লাগে। ঠিক কথা। তা না হলে তো ছাগলে মুড়োবে। কিন্তু সে যখন বেড়া ভেঙে বৃক্ষ হয়ে উঠবে! নিজের শাখাপ্রশাখা মেলে ধরবে! গাছে ফুল আসবে! পরাগমিলন হবে! ফল ধরবে! তখন সুচরিতার কী হবে! যে বেড়া যত্নে আগলে বাড়িয়ে তুলল এই বৃক্ষকে, শিকড় কী তাকে মনে রাখবে! সুচরিতার দাবি অন্যায্য? না কি এটাই জীবনের দস্তুর!
খোকা ইঞ্জিনিয়ারিং-এ চান্স পেল। একেবারে আইআইটি। ভাল সাবজেক্ট। সুচরিতাকে এখন সবাই রত্নগর্ভা বলে। সুচরিতা সেই সব প্রশংসায় আবিষ্ট। আমি খুশি। রত্নকে নিয়ে আমার চিন্তা নেই। আমার চিন্তা গর্ভের মালিককে নিয়ে। কারণ সে বোঝে না যদিও পাহাড়ের বুক ফেটে ঝর্নার সৃষ্টি হয়, তবুও ঝর্নার উপর পাহাড়ের দাবি রাখতে নেই। ঝর্না একদিন নদী হবে। সেই নদীর উপর পাহাড়ের জোর বা অধিকার খাটে না। তার বয়ে চলার খাত আলাদা। সে সাগর অভিমুখে ছুটবেই। এটাই জাগতিক নিয়ম। সেখানে সেই পাহাড় বা হিমবাহের কোনও স্থান নেই।
পড়াশোনা শেষ হতেই খোকা যে চাকরিটা পেল, সেটা আমাদের মতো নিম্নমধ্যবিত্ত ঘরে স্বপ্নের ব্যাপার। একটি নামকরা বহুজাতিক সংস্থায়। তার মাসিক বেতন প্রায় আমার বাৎসরিক আয়ের সমান। সুচরিতার মুখে পূর্ণিমার জ্যোৎস্না। সেই চাঁদের দুধে ভেসে যাচ্ছে আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, সবাই। আমি আনন্দিত, কিন্তু সঙ্গত কারণে উচ্ছসিত নই। নিয়ন্ত্রিত। স্বভাবতই খোকা পাড়ি দিল অতলান্তিক পেরিয়ে আমাদের এই গোলার্ধের ঠিক উল্টো পিঠে। মানে আমেরিকা। গরিবের গোলার্ধে জন্মে সবারই তো লক্ষ্য থাকে সেই সুখের ফোয়ারা মাখা পশ্চিম গোলার্ধ। সেই অমোঘ সুখের হাতছানি অস্বীকার করার ক্ষমতা আমাদের কোথায়!
এখন রোজ গভীর রাতে খোকার সুপ্রভাতের ফোন আসে। আমাদের বিছানায় যাওয়ার আগে যেন সুন্দর সকাল শুরু হয়। আমাদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের সূর্যোদয়। এবার খোকার একটা বিয়ে দিতে হবে। কিন্তু এরকম হিরের টুকরোর আংটি বাঁধানো কী চাট্টিখানি ব্যাপার! তাই এ ছেলের পাত্রী খোঁজা খুবই ব্যস্ততার। আমরা যে ডাহা ভুল, সেটা আবার প্রমাণিত হল। হিরে ঠিক খুঁজে নেবে জহুরি। ছেলে যেখানে থাকে, সেই ফ্লোরিডার ইউনিভার্সিটিতে গবেষণা করে মেয়েটি। রসায়ন নিয়ে। সুচরিতাকে ছবি পাঠিয়েছে। আমিও দেখলাম। যদিও মতামত দেওয়া অবান্তর। কারণ আমাদের নব্বইয়ের দশকের বেড়ে ওঠা মানসিকতায় পুত্রবধূ দেখার যে বিচারপদ্ধতি মনে গেঁথে আছে, সেই জ্ঞান এখানে বেমানান। জীবন ছুটছে এখন মহাকাশযানের গতিতে। সেখানে সাংসারিক গুণ তুচ্ছ। গতিবেগের শংসাপত্রটাই আসল। সুচরিতা একটু হলেও উপলব্ধি করতে পারে এখন, যে জাহাজের নোঙর ছিঁড়ে গেছে। সে এখন তীব্রগতিতে বন্দর ছেড়ে মাঝসমুদ্রে। এই পৃথিবীর অথৈ জোয়ার-ভাটা কাটিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। লক্ষ্য শুধু সাফল্যের চূড়া। তাই সুচরিতাও রাজি।
চার হাত এক হয়ে গেল। আমাদের এই এঁদো পাড়ায় নয়, প্রীতিভোজের অনুষ্ঠান হল কলকাতার এক ঝাঁ-চকচকে উদ্যানে। সেটাকে কোনও মতেই আমার বা আমাদের অনুষ্ঠান বলা চলে না। বড়জোর আমরা নিমন্ত্রিত, বলা যায়। তাতে ছেলের কোনও দোষ নেই। ওর সিদ্ধান্ত একশো ভাগ ঠিক। আসলে আমাদেরই শীতকাল এসে গেছে। এই অত্যাধুনিক পৃথিবীতে আমরা পর্ণমোচী বৃক্ষের শুকনো পাতার মতো এখন। শুধুমাত্র লেগে আছি। ঝরে পড়ার সময় এসে গেছে। এই শুষ্ক পৃথিবীতে আর মানিয়ে নিতে পারছি না। তাই দোষ আমাদেরই। আসলে আমরা তো সম্পর্কের সিক্ততায় অভ্যস্ত। আমাদের বেঁচে থাকতে গেলে শুধু দামি খাবার বা পোশাক যথেষ্ট নয়। আমাদের দাবি অনেক। আমরা এখনও ভিজে চোখ চাই, বুকফাটা হাসি চাই। যা এই নতুন পৃথিবীতে দুষ্প্রাপ্য! তাই বসন্তে যে-সব কচি পাতারা আসবে তারা ঠিক মানিয়ে নেবে এই নতুন মুমূর্ষু পৃথিবীতে। তাই আফসোস বৃথা।
তবে হ্যাঁ, এই দৌলতে আমাদের আমেরিকা যাওয়া হল। শান্তি আর সুখের পার্থক্য দেখে এলাম। কোনটা বেশি দামি! জানি না! তবে জীবনে কোনও দিন ভাবিনি আমি পৃথিবীর উল্টো পিঠে পা রাখব। ওখানের গাছের পাতা রুপোর মতো, রোদ সোনার মতো, আকাশ আমাদের থেকে অনেক বেশি নীল। পরিষ্কার। মায়ের হাতে কাচা আমার স্কুলের সাদা জামার মতো। ওই রকম ধবধবে! শুধু মায়ের হাতের ছোঁয়াটা নেই।
ঘুরে আসার পরেই সুচরিতা অসুস্থ হয়ে পড়ল। উচ্চ রক্তচাপ। তার সঙ্গে রক্তে শর্করা। কেন? সুচরিতার রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে গেল কেন? সুচরিতার রক্ত তো উচ্চপ্রতিষ্ঠিত। তা হলে ওর কিসের চাপ! কিসের দুঃখ! নাকি সুচরিতার সাধারণ ঘরোয়া ধমনী নিতে পারছে না রক্তের ওই সাংঘাতিক চাপ! সুখের আধিক্যে হয়তো বেড়ে যাচ্ছে রক্তে চিনির মাত্রা। হয়তো যাকে এত দিন সবটা চিনি বলে ভেবে এসেছে, সে হয়তো এই ক’দিনেই ভীষণ রকম অচেনা।
ধরে রাখতে পারলাম না সুচরিতাকে। ঈশ্বরের কৃপায় পয়সার এখন আমাদের অভাব নেই। তাই সুচরিতার চিকিৎসার ত্রুটি হয়নি। তবু ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক। আমাকে চিরকাল জল গড়িয়ে দেওয়া মানুষটার মুখ দিয়ে আমারই দেওয়া এক ফোঁটা জল চিরকালের মতো গড়িয়ে পড়ে গেল। দাঁতের কপাট বন্ধ করে নিল সুচরিতা। ডাক্তারবাবু চোখের পাতা ফেলে দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, এই জন্মের মতো সুচরিতার এই পৃথিবী দেখা শেষ। তার পর পিস হাভেনে তিন দিন। কিছু করার নেই, খোকা এল তিন দিন পর। ওই তিন দিনেই আমি জীবনে প্রথম উপলব্ধি করলাম, সোলো ট্রিপ কী রকম ভয়ঙ্কর হয়!
আমি পুরনো পাড়া ছেড়ে এখন উঠে এসেছি এক নতুন বেশ বড়লোকের বস্তিতে। আমি সেখানে বেশি মিশি না। মানে মিশতে পারি না। সেটাও আমারই দোষ। বুঝি, আমি এই চিড়িয়াখানার উপযুক্ত নয়। দেখাশোনার লোক আছে। সব খোকা ব্যবস্থা করে দিয়ে গেছে। আপাতদৃষ্টিতে আমার এখন কোনও অসুবিধে নেই। আমার বলতে আমার শরীরের! বৃদ্ধ মানুষের কোনও মন হয় না। হওয়া উচিত নয়। মন আসলে আগে মরে, শরীর অনেক পরে। বোধহয় মানসিক যন্ত্রণাতেই অসুস্থ হয়ে পড়লাম। ছেলেকে প্রথমে বিরক্ত করতে চাইনি। শেষে জানতে পারল, ওর এক বন্ধু মারফত। বার বার বাবার ছোটখাটো অসুস্থায় অত দূর থেকে ছুটে আসা সত্যিই অসম্ভব। ছেলে আমাকে ক্রমাগত অনুরোধ করে ওর ওখানে চলে যাওয়ার জন্য। আশপাশের ফ্ল্যাটেও অনেকে উপদেশ দেয়, “সুকল্যাণবাবু, আপনার এখন ছেলের ওখানে চলে যাওয়াই উচিত।”
জানি, সবাই উচিত কথাই বলছে। প্রায়ই বিরক্ত করার হাত থেকে ওরাও মুক্তি পেতে চাইছে। বাধ্য হলাম ছেলের কাছে চলে যেতে।
প্রায় দু’বছর পরে এলাম ছেলের বাড়ি। কুড়ি ঘণ্টার যাত্রাপথ। বেশ ক্লান্ত লাগছে। দামি নরম সোফায় শরীরটা এলিয়ে দিলাম। দেখলাম, দেওয়ালে একটা ফোটোফ্রেম। তার ভিতর সুচরিতার একই রকম দুটো ছবি বাঁধানো। পাশাপাশি। অবাক হলাম! একই ছবি দুটো কেন! তাও আলাদা আলাদা ঘরে নয়, একই সঙ্গে!
খোকাকে জিগেস করলাম, “কী রে! মায়ের দুটো ছবি কেন?”
“জানো তো বাবা, এটা দারুণ সিস্টেম। তুমি একটা ছবি পিছন দিক দিয়ে বার করে নিয়ে অন্য আর একটা ছবি ঢোকাতে পারবে! ওরা বলল। এটাই সুবিধে। তাই করিয়ে নিলাম!”
আমি “আচ্ছা!” বলে চুপ করে গেলাম। বুদ্ধিমানের পক্ষে ইশারাই যথেষ্ট। বুঝলাম, সুচরিতার দ্বিতীয় ছবিটা আসলে একটা শূন্যস্থান ঢাকা দিয়ে রেখেছে। আরও বুঝতে পারলাম, সময়ের হিসেবে আমেরিকা পিছিয়ে-পড়া হলেও, ওই ছবির পাশের শূন্যস্থান পূরণের জন্য আমার নতুন করে দিন গোনা শুরু হল।
ঠিক আমার বাবা-মায়ের মতো।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)