Advertisement
E-Paper

অবশেষে ‘চাঁদের বাড়ি’! নকশা কেমন জানিয়ে দিল নাসা, ছ’বছরের মধ্যেই তৈরি হয়ে যাবে বাসযোগ্য আবাসন

চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির জন্য যে সমস্ত যন্ত্র ও যানবাহন আবশ্যিক তার মধ্যে অন্যতম রোবটিক ল্যান্ডার এবং হপিং ড্রোন। জেফ বেজ়োসের সংস্থা তা তৈরির বরাত পেয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ ১৬:০৯
চাঁদের মাটিতে স্থায়ী ঘাঁটি তৈরি করতে চলেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

চাঁদের মাটিতে স্থায়ী ঘাঁটি তৈরি করতে চলেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। —ফাইল চিত্র।

চাঁদে ফের মানুষ পাঠানোর তোড়জোড় করছে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সেই সঙ্গে পৃথিবীর এই উপগ্রহের মধ্যেই স্থায়ী একটি ঘাঁটি তৈরি করে ফেলতে চায় তারা। সেই ঘাঁটিতে থাকবে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র। গত মার্চ মাসে এই সংক্রান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল নাসা। বলা হয়েছিল, ২০৩২ সালের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পরমাণু এবং সৌরশক্তি চালিত একটি স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। তার জন্য ২০ হাজার কোটি ডলার বরাদ্দও করা হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল মার্কিন সংস্থা। চাঁদে পাঠানোর জন্য রোবটিক ল্যান্ডার, হপিং ড্রোন এবং প্রয়োজনীয় যানবাহনের বিস্তারিত তথ্য তারা প্রকাশ করেছে।

চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির জন্য যে সমস্ত যন্ত্র ও যানবাহন আবশ্যিক তার মধ্যে অন্যতম রোবটিক ল্যান্ডার এবং হপিং ড্রোন। জেফ বেজ়োসের সংস্থা ব্লু অরিজ়িন-সহ কয়েকটি মার্কিন সংস্থাকে এই যন্ত্রগুলি তৈরির বরাত দেওয়া হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে দাবি, ২০২৯ সালের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকাকালীনই চাঁদে মানুষ পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায় নাসা। সেই লক্ষ্যে আপাতত তারা এগোচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে চিনের সঙ্গে কঠোর প্রতিযোগিতা চলছে। ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদেরও। সেই লক্ষ্যে বেজিং এগিয়ে চলেছে। নাসার প্রস্তুতি দেখে বিজ্ঞানীদের একাংশ এ-ও মনে করছেন, চিন এ বিষয়ে আমেরিকার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এমনকি, নাসার আগে চিনা সংস্থা চাঁদে মানুষ পাঠিয়ে দিতে পারে বলেও তাঁদের দাবি।

চাঁদে মানুষ পাঠানোর জন্য সেখানে একটি স্থায়ী ঘাঁটি গড়া প্রয়োজন। নাসার লক্ষ্য ২০৩২ সালের মধ্যে চাঁদের মাটিতে মানুষের থাকা জন্য ‘অর্ধ-স্থায়ী’ আবাসন তৈরি করে ফেলা। তাদের এই ‘মুন বেস প্রোগ্রাম’-এর তিনটি পর্যায় রয়েছে। মানুষ পাঠানোর আগে সেখানে রোবটিক ল্যান্ডার এবং হপিং ড্রোন পাঠাবে নাসা। সেগুলি চাঁদের দুর্গম ভূখণ্ড অন্বেষণ করবে এবং একটি গঠনমূলক মানচিত্র তৈরি করবে। এমন একটি পরিবহণকারী যান চাঁদে নিয়ে যাওয়া হবে, যাতে চেপে সেখানকার উঁচুনিচু জমিতেও ভ্রমণ করতে পারেন নভোচারীরা। ওই যানে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি এবং যোগাযোগের সামগ্রীও যাতায়াত করবে। ব্লু অরিজ়িন-সহ একাধিক সংস্থাকে এই সমস্ত যন্ত্র তৈরির বরাত দেওয়ার কথা মঙ্গলবার নাসা ঘোষণা করেছে।

চাঁদে একটি স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির সুবিধা অনেক। বিজ্ঞানীদের মতে, আমেরিকার বৈজ্ঞানিক পরীক্ষানিরীক্ষা, চাঁদ থেকে মূল্যবান সম্পদ উত্তোলন সে ক্ষেত্রে আরও সহজ হবে। এমনকি, মঙ্গলগ্রহে যাতায়াতও আরও সহজ হয়ে যাবে চাঁদের ওই ঘাঁটি থেকে। চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যে নাসা যে অভিযান ঘোষণা করেছে, তার নাম আর্টেমিস। সেই অভিযানের দ্বিতীয় পর্যায়ে গত এপ্রিলে চার জন মহাকাশচারীকে চাঁদের চারপাশ দিয়ে ঘুরিয়ে আনা হয়েছে। এ বার উপগ্রহের মাটিতে কবে ‘চাঁদের বাড়ি’ বানায় নাসা, সেটাই দেখার।

NASA Moon Space Science
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy