‘বেঁটে, মোটা মুলার’। গোটা কেরিয়ারে এই ডাকনামেই পরিচিত ছিলেন টমাস মুলার। সালভাদরে ‘সুপার মানডে’র পর যেটা বদলে হয়েছে ‘এল ফ্লাকো’ বা ‘ছিপছিপে’। নবরূপে আবির্ভূত জার্মান তারকার নামকরণ করা ভদ্রলোকের নাম জানতে চান? দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা।

ঘটনাটা কী?

গত ৪৮ ঘণ্টায় ব্রাজিল বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিকে পর্তুগালকে গুঁড়িয়ে দেওয়া মুলারের বন্দনার ঝড় বয়ে গিয়েছে গোটা বিশ্বে। সেই সরণিতে এ বার ঢুকে পড়েছেন আর্জেন্তিনীয় কিংবদন্তিও। “ছেলেটার শরীরে কোনও পেশি নেই। তা সত্ত্বেও পর্তুগালকে ছিন্নভিন্ন করে দিল,” ভেনিজুয়েলা টিভিকে সাক্ষাৎকারে বলেছেন মারাদোনা।

বায়ার্ন মিউনিখের ২৪ বছরের ফুটবলারকে উইং বা আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার পজিশনেই বেশি দেখা গিয়েছে এত দিন। ক্লাব হোক বা দেশ, স্ট্রাইকার হিসেবে কত বার মাঠে নেমেছেন সেটা হাতে গুনে বলা যায়। রেকর্ড যাই হোক, জার্মান কোচ জোয়াকিম লো কিন্তু গত বিশ্বকাপের সোনার বুট জেতা তরুণ প্লেয়ারের উপর ভরসা রেখেছিলেন। প্রথম ম্যাচেই স্ট্রাইকার হিসেবে তাই মাঠে নামাতে বেশি ভাবেননি লো। বাকিটা ইতিহাস।

শুধু বিশ্ব ফুটবলের রাজপুত্রই নন, মুলারে আচ্ছন্ন জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারও। গোল করার অবিশ্বাস্য ক্ষমতার জন্য বিশ্ব ফুটবলের ‘ডাস বম্বার’-এর ভবিষ্যদ্বাণী, “ছেলেটার গতি আছে, টেকনিক ভাল, খুব বড় মাপের ফুটবলার হওয়ার গুণ রয়েছে। গ্রেট প্লেয়ার হবে একদিন।” ৬২ আন্তর্জাতিক ম্যাচে গার্ড মুলার ৬৮ গোল করেছেন। সেখানে ৫০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে টমাস মুলারের গোলসংখ্যা ২০। তার মধ্যে বিশ্বকাপে করে ফেললেন আট গোল। সালভাদরে মাঠে নামার আগে মুলার কি ভাবতে পেরেছিলেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকেও পিছনে ফেলে দিতে পারবেন? জবাবটা দিচ্ছেন প্রাক্তন জার্মান ক্যাপ্টেন অলিভার কান, “মুলারের স্টাইলটা ঠিক প্রথাগত নয়। নিজের ক্ষমতাটা ও জানে না। তবে এটা জানে যে ওকে মাঠে নেমে ঠিক কী করতে হবে। আর শরীরী ভাষাটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেন বলতে চাইছে, ‘আমরা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।’ যেটা আমার খুব পছন্দের।”

যাঁকে নিয়ে এত চর্চা চলছে বিশ্ব জুড়ে, তাঁর আত্মবিশ্বাসও কোন পর্যায়ের তার হদিশ দিলেন প্রাক্তন ফুটবল অ্যাসেসিয়েশন প্রেসিডেন্ট উলফগ্যাং নিয়েরসবাখ। “মজার ছেলে। মাথাটা খুব ঠান্ডা। ব্রাজিল বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে বলেছিল আবার বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হতে চায়। আর প্রথম ম্যাচেই কিনা হ্যাটট্রিক করে ফেলল!” জার্মান কোচ জোয়াকিম লো আবার বলেন, “মুলার যে কোন লাইনে দৌড়বে, সেটা কেউ জানে না। ওর স্টাইলটা প্রথাগত নয়। আর একটাই লক্ষ্য নিয়ে নামে, ‘কী ভাবে গোল করব?’ এটাই মুলারকে বিপজ্জনক করে তোলে। বিশেষ করে বিপক্ষের বক্সে।”