• সংবাদ সংস্থা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সুয়ারেজের গোল আর কামড় বিতর্কে আশা-আশঙ্কায় বার্সা

6
ম্যান সিটি সমর্থক বনাম নেইমারের সেই মুহূর্ত। বুধবার। ছবি: টুইটার।

Advertisement

ম্যাঞ্চেস্টার সিটির বিরুদ্ধে নক আউটের অ্যাওয়ে  ম্যাচে জোড়া গোল করে বার্সেলোনাকে ২-১ জেতালেন লুই সুয়ারেজ। কিন্তু উরুগুয়ান সুপারস্টার স্ট্রাইকার কি বিশ্বকাপের মতোই চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও তাঁর কুখ্যাত কামড়-কাণ্ড ঘটালেন?

ভয়ঙ্কর অভিযোগ কিন্তু উঠে গিয়েছে! সুয়ারেজের দিকে আর একপ্রস্থ কামড়-বিতর্ক ধেয়ে আসছে। ব্রিটিশ মিডিয়া থেকে। ম্যান সিটির ঘরের মাঠ এতিহাদ স্টেডিয়ামে গত রাতে প্রি-কোয়ার্টারের প্রথম লেগ শেষ হওয়ার পরেই স্থানীয় মিডিয়ার মারাত্মক দাবি, ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনির দলের আর্জেন্তাইন ডিফেন্ডার মার্টিন দেমিশেলিসকে কামড়েছেন সুয়ারেজ। যদিও সঙ্গে সঙ্গে বার্সেলোনার তরফ থেকে সটান খারিজ করে দেওয়া হয়েছে সেই মহা অভিযোগ! গত বছর বিশ্বকাপে ইতালি-উরুগুয়ে ম্যাচে বিপক্ষের চিয়েলিনির কাঁধে কামড় বসিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিতাড়িত হওয়ার পাশপাশি ফিফার দীর্ঘ নির্বাসনের কবলে পড়েছিলেন সুয়ারেজ। সাসপেনশনের মেয়াদ ফুরনোর পরেই যোগ দেন মেসি-নেইমারের দলে।

সুয়ারেজের কুখ্যাত দন্ত-বিতর্কের ফের উস্কে ওঠাই শুধু নয়, বার্সা-ম্যান ইউ যুদ্ধে অন্য বারুদেরও কমতি ছিল না। শুরুর আধঘণ্টাতেই বার্সার দু’গোলে এগিয়ে যাওয়া, দ্বিতীয়ার্ধে আগেরোর গোলে ম্যান সিটির পাল্টা লড়াইয়ে ফেরা, নাটকীয় ভাবে ম্যাচের অন্তিম লগ্নে মেসির পেনাল্টি মিস, ম্যান সিটি সমর্থকদের সঙ্গে নেইমারের ঝামেলায় জড়ানো চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আর্জেন্তিনার গৃহযুদ্ধের ঘনঘটা আরও বাড়িয়ে তুলেছিল।

মূলত সুয়ারেজের নেতৃত্বেই বার্সার আক্রমণের সামনে শুরু থেকেই যে ভাবে কুঁকড়ে ছিল ম্যান সিটি রক্ষণ যে, ব্রিটিশ মিডিয়ার রসিকতা, ‘সিটির বুকে দাঁত ফোটালেন সুয়ারেজ।’ একইসঙ্গে ব্রিটিশ মিডিয়া থেকে বলা হয়েছে, ‘সুয়ারেজ চিবিয়ে খেলেন একজনকে।’ ফুটেজে নাকি দেখা গিয়েছে, ম্যাচের শেষ মিনিটে বিপক্ষ রক্ষণে দেমিশেলিসের দিকে এগোচ্ছেন সুয়ারেজ। তাঁকে কাছাকাছি দেখতে পেয়ে হাত দিয়ে কভার করেন দেমিশেলিস। সুয়ারেজকে দেখা যায়, সেই হাত তাক করে মাথা ঝাঁকাতে। এর পরেই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে ম্যান সিটি সমর্থকদের পোস্ট শুরু হয়ে যায়, “এ বার কামড় খেল দেমিশেলিস।” তবে স্বয়ং দেমিশেলিস এ ব্যাপারে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি এখনও। বার্সার জার্সিতে গত রাতে ছিল মেসির শততম অ্যাওয়ে ম্যাচ। সেই ম্যাচেই পেনাল্টি নষ্ট করে হতাশ মুখে মাঠ ছাড়েন বার্সার মহাতারকা ফরোয়ার্ড। মেসিকে স্বদেশীয় জাবালেতা ম্যান সিটি বক্সে ফাউল করেছিলেন। মেসির পেনাল্টি কিক বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে বাঁচান ইংল্যান্ডের জাতীয় কিপার জো হার্ট। ম্যাচ শেষে লুই এনরিকের দল যখন সেলিব্রেট করতে ব্যস্ত তখন মেসিকে দেখা যায় কারও সঙ্গে কথা না বলে টানেলের দিকে এগোতে।

মেসির পেনাল্টি মিস নিয়ে ম্যান সিটি কোচ পেলেগ্রিনির প্রতিক্রিয়া, “পেনাল্টি বাঁচিয়ে হার্ট টুর্নামেন্টে আমাদের চ্যালেঞ্জটাই বাঁচিয়ে রাখল। কারণ ১-৩ পিছিয়ে ন্যু কাম্পে খেলতে হলে আর কোনও আশা থাকত না।” যার পাল্টা সুয়ারেজ বলেছেন, “ফিরতি ম্যাচে যে কেউ জিততে পারে। তবে প্রতিপক্ষরা যেন মনে রাখে আমরা বার্সেলোনা।”

ত্রয়ীর তৃতীয় মুখও গত রাতের ম্যাচে খবরের শিরোনামে। তিনি নেইমার ম্যাচের দশ মিনিট বাকি থাকতে কোচের নির্দেশে বসে যান। বেঞ্চে বসে নেইমার খেলা দেখার সময় গ্যালারির এক ম্যান সিটি সমর্থকের সঙ্গে পর্তুগিজে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। ম্যাচ শেষে পিঠে ইয়াইয়া তোরের নাম লেখা ম্যান সিটির ৪২ নম্বর জার্সি পরা সেই সমর্থকের দিকে এগিয়ে যেতেও দেখা যায় নেইমারকে। নিরাপত্তারক্ষীরা এসে পরিস্থিতি সামলায়। পরে নেইমার বলেন, “ওদের ওই সমর্থক হাত দিয়ে বিশ্রী অঙ্গভঙ্গি করছিল। আমাদের মধ্যে কী কথা হয়েছে বলব না। তবে আমার মা একটা শিক্ষা দিয়ে আমাকে মাঠে পাঠিয়েছেন। জানি না ওই সমর্থকের মা ছেলেকে কী শিক্ষা দিয়ে মাঠে পাঠিয়েছিলেন!”

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন