চোদ্দো বছর আগের এই দিনটা ভারতীয় ক্রিকেটে এখনও আলোড়ন ফেলে। শুধু একটা অবিশ্বাস্য জয় পাওয়ার জন্যই নয়, একটা চিরস্মরণীয় সেলিব্রেশনের জন্যও।

২০০২, ১৩ জুলাই। লর্ডসে ভারতের ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি জয়। আর লর্ডসের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জার্সি খুলে ওড়ানো।

যা নিয়ে আজ নিজের ব্যাটিংয়ের মতোই একটা ঝড় তোলা টুইট করলেন বীরেন্দ্র সহবাগ। লিখলেন, ‘‘চোদ্দো বছর আগে এই দিন আমরা ন্যাটওয়েস্ট সিরিজ জিতেছিলাম আর সৌরভ সলমন খান হয়ে সকলের হৃদয় জিতে নিয়েছিল।’’ সঙ্গে লর্ডসের ব্যালকনিতে সৌরভের জামা ওড়ানোর সেই বিখ্যাত ছবিতে লেখা ‘‘চোদ্দো বছর আগে লর্ডসে দাদা।’’

যা পড়ে সলমনের ফ্যানরা উচ্ছ্বসিত। কিন্তু শাহরুখের ফ্যানরা আবার আপত্তি তোলে। তাদের দাবি, কেন শাহরুখের সঙ্গে তুলনা টানা হবে না। দুই পক্ষের ধুন্ধুমার টুইট লড়াইয়ের পরও বলাই বাহুল্য এই বিবাদের কোনও ফয়সালা হয়নি। তবে সহবাগের এ দিনের টুইট প্রমাণ করেছে, সৌরভের জনপ্রিয়তায় কোনও কমতি নেই!

ঠিক যেমন কমতি নেই, সৌরভের প্রতি তাঁর সে দিনকার সহযোদ্ধাদের শ্রদ্ধার। ন্যাটওয়েস্ট ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর অন্যতম নায়ক  মহম্মদ কাইফ এ দিন বলেছেন, ‘‘ইংল্যান্ড ৩২৫ তোলার পর সবাই ধরেই নেয় ম্যাচটা আমরা হারছি। আগে কয়েকটা ফাইনাল হারায় টিমও কিছুটা দমে গিয়েছিল। একমাত্র সৌরভ বলেছিল আমরা পারব।’’ যোগ করেছেন, ‘‘এই জন্যই ও অন্য জাতের ক্যাপ্টেন। দারুণ বুদ্ধিমান। যে অসম্ভব কঠিন পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়েও টিমের মধ্যে এই আত্মবিশ্বাসটা গড়ে দিতে পারে যে, হ্যাঁ, আমরা পারব।’’

সে দিনও ব্যাট করতে নামার আগে ড্রেসিংরুমে সৌরভ টিমকে কী ভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন সেটা জানিয়েছেন কাইফ। বলেছেন, ‘‘সৌরভ বলে, বড় রান বলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পার্টনারশিপ গড়ে এগোতে হবে কারণ উইকেটে এখনও প্রচুর রান রয়েছে। আমাদের একটা লক্ষ্যও ঠিক করে দেয়, প্রথম পনেরো ওভারে নব্বই রান।’’ সৌরভ-সহবাগ জুটি প্রথম উইকেটে পনেরো ওভারের মধ্যে ১০৬ তোলার পর দ্রুত চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল ভারত। যেখান থেকে প্রথমে যুরবাজ-কাইফ জুটি এবং পরে টেলএন্ডারদের নিয়ে কাইফ জয় নিশ্চিত করেন।

নিজের সাফল্যের কৃতিত্বও এ দিন সৌরভকে দিয়ে কাইফ বলেছেন, ‘‘ক্যাপ্টেন আমাকে বলেছিল, সাত নম্বরে নেমে তিরিশ বলে তিরিশ রান করতে পারাটা সেঞ্চুরির চেয়ে কম নয়। তবে ম্যাচ জেতাতে হবে, এই চাপটা আমার উপর দেয়নি বলেই খোলা মনে খেলতে পেরেছিলাম।’’ সেই সিরিজে তাঁর আর যুবরাজের উপর সৌরভ যে আস্থা দেখান, তার জন্য আজও কৃতজ্ঞ কাইফ। যিনি বলছেন, ‘‘সে দিন আমার ক্রিকেট জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নব্বইটা মিনিট খেলেছিলাম। ফিল্ডিং মজবুত করতে চায় বলে বড় নামদের আগে আমাকে আর যুবরাজকে ফাইনালে সুযোগ দিয়েছিল সৌরভ। ক্যাপ্টেন যা চেয়েছিল, সেই ভূমিকাটা পালন করতে পেরেছিলাম ভেবে আজও ভাল লাগে।’’