ভারত ১ (২)      •       কোরিয়া ১ (৪)

আজ়লান শাহ কাপে ফের স্বপ্নভঙ্গ ভারতীয় হকি দলের। শনিবার দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে এগিয়ে গিয়েও জয় হাতছাড়া করলেন মনদীপ সিংহেরা।

২০১০ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গেই যুগ্মভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। ২০১৬ সালেও ফাইনালে উঠেছিল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ০-৪ হেরে সে বার দেশে ফিরেছিলেন সর্দার সিংহেরা। এ বারও ছবিটা বদলাল না। অথচ মালয়েশিয়ার ইপোতে এ দিন নয় মিনিটেই সিমরনজিৎ সিংহ গোল করেন। সমতা ফেরাতে মরিয়া দক্ষিণ কোরিয়া আক্রমণের ঝড় তোলে। কিন্তু দুর্দান্ত ভাবে তা সামলায় ভারতীয় রক্ষণ। ফলে তৃতীয় কোয়ার্টার পর্যন্ত এগিয়েছিলেন মনদীপরাই। চতুর্থ কোয়ার্টারে নাটকীয় ভাবে বদলে যায় ছবিটা। ম্যাচ শেষ হওয়ার ১৩ মিনিট আগে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করে সমতা ফেরান দক্ষিণ কোরিয়ার ঝাং ঝোংহিয়ান। যদিও আম্পায়ারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে ভারতীয় শিবিরে। ম্যাচ শেষ হওয়ার দু’মিনিট আগে ভারত পেনাল্টি কর্নার পেলেও তা থেকে গোল হয়নি। ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। 

বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ভারত পাঁচ নম্বরে। দক্ষিণ কোরিয়া ১৭তম স্থানে। টাইব্রেকার শুরু হওয়ার আগে বিশেষজ্ঞেরা ভারতকেই এগিয়ে রেখেছিলেন। বীরেন্দ্র লাকড়া ও বরুণ কুমার গোল করলেও ব্যর্থ সুমিত এবং কুমার সুমিত। দক্ষিণ কোরিয়ার হয়ে গোল করেন জি উ চিয়ন, লি জুংঝুন, জাং মানজে ও লি নামইয়ং। ব্যর্থ হন শুধু কিম কিহুন।

২৮তম আজ়লান শাহ কাপে শুরুটা দুর্দান্ত করেছিল ভারতীয় দল। প্রথম ম্যাচেই এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী জাপানকে ২-০ হারায় তারা। তবে গ্রুপ পর্বেও দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে জিততে পারেনি ভারত। সেই ম্যাচেও মনদীপ সিংহের গোলে ২৬ মিনিটে এগিয়ে গিয়েছিল ভারত। কিন্তু ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরান দক্ষিণ কোরিয়ার ঝাং ঝং হিউন। শনিবার ফাইনালেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল। পার্থক্য একটাই, গ্রুপ পর্বের ম্যাচে টাইব্রেকার ছিল না। ফাইনালে টাইব্রেকারেই স্বপ্নভঙ্গ হল ভারতীয় দলের। 

পোলান্ডকে ১০-০ চূর্ণ করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফাইনালে যোগ্যতা অর্জন করার পরে ভারতকেই সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন মনে করা হচ্ছিল। কারণ, দক্ষিণ কোরিয়া রীতিমতো লড়াই করে গ্রুপ রানার্স হয়ে ফাইনালে উঠেছিল। অথচ শনিবার তারাই ভারতকে হারিয়ে কাপ নিয়ে গেল।