দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক তিক্ততা যতই থাকুক না কেন, তাঁর বিশ্বাস বিশ্বকাপের আগে তিনি ‘আদর্শ’ সচিন তেন্ডুলকরের থেকে পরামর্শ নিয়েই ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে খেলতে নামবেন।

বক্তার নাম? আবিদ আলি। যিনি এ বার বিশ্বকাপগামী পাকিস্তান দলের নতুন ওপেনার হিসেবে ডাক পেয়েছেন। ৩১ বছরের আবিদ সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রচুর রান করেছেন। শুধু তাই নয়। গত মাসে দুবাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অভিযেক ওয়ান ডে ম্যাচেই দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেছিলেন। তার পরেই বিশ্বকাপের দলে তাঁর জায়গা পাকা হয়ে যায়। লাহৌরে এক অনুষ্ঠানে আবিদ বলেছেন, ‘‘আমার জীবনে একটাই ইচ্ছা রয়েছে। তা হল সচিন তেন্ডুলকরের সঙ্গে এক বার দেখা করার।’’ সেখানেই না থেমে তিনি আরও বলেছেন, ‘‘ওঁর সঙ্গে দেখা হলে অবশ্যই আলিঙ্গন করব। আমি নিশ্চিত, অন্য মহান ক্রিকেটারদের মতো তিনিও আমার মতো নতুন ক্রিকেটারকে অবশ্যই কিছু পরামর্শ দেবেন। সচিন আমাকে খালি হাতে ফেরাবেন না।’’ আবিদের আরও মন্তব্য, ‘‘আমি নিশ্চিত, ক্রিকেট সংক্রান্ত কোনও প্রশ্ন করলে সচিন তার ইতিবাচক জবাবই দেবেন। যে দিন ওঁর সঙ্গে দেখা হবে, সেটাই হবে আমার জীবনের সেরা দিন।’’ 

সচিন তেন্ডুলকর ছাড়াও আবিদ পছন্দ করেন ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি Wভিভ রিচার্ডসকে। তবে ‘মাস্টার ব্লাস্টারের’ ক্রিকেট-দর্শন মেনেই যে তিনি চলতে চান, তা জানিয়ে দিতে ভোলেননি আবিদ। তাঁর কথায়, ‘‘ভিভ রিচার্ডসের সঙ্গে দেখা হলে অবশ্যই পরামর্শ নেব। আমি আসলে ক্রিকেটবিশ্বের সেরা তারকাদের প্রত্যেকের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের কথা শুনতে চাই। তাঁদের পরামর্শ কাজে লাগাতে পারলেই আমি জীবনে সফল হতে পারব।’’ 

তবে পাকিস্তানের নতুন ওপেনার সবচেয়ে বেশি খুশি হবেন সচিনের দেখা পেলেই। আবিদ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘‘ক্রিকেট জীবনের প্রথম দিন থেকে আমি সচিনের ব্যাটিং টেকনিক অনুসরণ করে এসেছি। সত্যি বলতে, সচিনের খেলা দেখার পরে তাঁর মতো ব্যাটিং করার চেষ্টাও করেছি। ওই স্টাইলটা অনুকরণ করার চেষ্টা করেছি।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘আমাদের দেশে যেমন ইনজ়ামাম উল হক এবং মহম্মদ ইউনুস রয়েছেন, সচিনও তেমনই বিশাল উচ্চতার ক্রিকেটার।’ ওঁর মতো ক্রিকেটার হয় না।’’ আবিদ জানিয়েছেন, এই তিন কিংবদন্তির ক্রিকেট টেকনিক অনুসরণ করেই তিনি নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করে চলেছেন। আবিদের কথায়, ‘‘ওঁদের ক্রিকেটের ভাল দিকগুলি আমি গ্রহণ করেছি। খারাপ ব্যাপারগুলোকে বর্জন করেছি।’’ আবিদের আরও মন্তব্য, ‘‘সচিনের সঙ্গে দেখা হলে ব্যাটিং নিয়ে কিছু পরামর্শ অবশ্যই নিতে চাইব। যাতে আমি সামগ্রিক ভাবে নিজের খেলায় উন্নতি ঘটাতে পারি।’’

আবিদ বিশ্বাস করেন, টেস্টে সচিনের ১৫,৯২১ রান এবং ওয়ান ডে ক্রিকেটে ১৮,৪২৬ রানের কীর্তি কেউ স্পর্শ করতে পারবেন না। তিনি বলেছেন, ‘‘ওই কীর্তিগুলো রীতিমতে ঈর্ষাদায়ক। আমিও স্বপ্ন দেখি পাকিস্তানের হয়ে যখনই খেলার সুযোগ পাব, সেটাকে স্মরণীয় করে রাখব। সে ভাবেই নিজেকে তৈরি করার 

চেষ্টা করছি। এই মুহূর্তে আমার প্রধান লক্ষ্য বিশ্বকাপে সফল হওয়া। তার আগে সচিনের সঙ্গে দেখা হলে ওঁকে আলিঙ্গন করে পরামর্শ নেব।’’