এটিকেতে জবি জাস্টিনের সই বৈধ কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দিল সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। কেরল স্ট্রাইকারের চুক্তি সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখে ফেডারেশন পুরো বিষয়টি নিয়ে শনিবার রাজ্য ফুটবল সংস্থাকে (আইএফএ) তদন্ত করে তাদের মতামত জানাতে বলল।

ফেডারেশনের চিঠি হাতে পাওয়ার পরই জবি জাস্টিন এবং ইস্টবেঙ্গলকে ডেকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইএফএ। সচিব উৎপল গঙ্গোপাধ্যায় বললেন, ‘‘জবির সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের চুক্তি সংক্রান্ত  কাগজপত্র আমরা দেখেছি। ফেডারেশন তদন্ত করে আমাদের মতামত জানাতে বলেছে। আমরা জবি এবং ইস্টবেঙ্গলের প্রতিনিধিকে ডেকে পাঠাচ্ছি।’’ তিনি এও জানিয়ে দেন, ‘‘সামনের সপ্তাহে দু’পক্ষকে ডেকে পাঠাচ্ছি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাদের মতামত জানিয়ে দেব ফেডারেশনকে।’’

পুরনো ক্লাব ইস্টবেঙ্গলকে টোকেন এবং একটি চিঠি দিয়েও এটিকের সঙ্গে তিন বছরের চুক্তি করেছেন জবি। তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল এটিকে-র ঘোষণার পরই। সেই সময় জবি বলেছিলেন, ‘‘ইস্টবেঙ্গলে খেলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ওরা রাখতে চায়নি। আমি তাই এটিকে-র সঙ্গে চুক্তি করেছি।’’ এ বারের দলবদল যে হেতু বিনিয়োগকারীরাই দেখছেন, সে জন্য ক্লাব কর্তারা অপেক্ষা করছিলেন, তাঁরা কী করেন দেখার জন্য। বিনিয়োগকারীদের চেয়ারম্যান পুরো বিষয়টি ক্লাবকে দেখতে বলার পরই আসরে নামেন লাল-হলুদ কর্তারা। তাঁরা জবির সঙ্গে ক্লাবের সমস্ত কাগজপত্র পাঠিয়ে দেন ফেডারেশন ও আইএফএতে। তার জেরেই তদন্তে নামছে আইএফএ।

কিন্তু এটিকেতে সই করার আগে জবির সঙ্গে কি ইস্টবেঙ্গলের কোনও চুক্তি হয়েছিল?  সূত্রের খবর, জবির যে কাগজপত্র ইস্টবেঙ্গল জমা দিয়েছে, তা নাকি চুক্তির সমান। ইস্টবেঙ্গলের এক কর্তা দাবি করলেন, ‘‘আমাদের কাছে জবির যে কাগজ আছে, সেটা দিয়ে ওকে আটকাতে পারি আমরা। ওটা চিঠি নয়, চুক্তিপত্র। জবির সামনে আইএফএ নিশ্চয়ই সেটা দেখাবে। দেখি ও কী বলে।’’ আইএফএ সূত্রের খবর, জবির সই নিয়ে জল অনেক দূর গড়াতে পারে।

এ দিকে, এএফসি কাপের জন্য ভুবনেশ্বরের মাঠ না পাওয়ায় মিনার্ভা পঞ্জাব নাম তুলে নেওয়ার হুমকি দিলেও এখনও পর্যন্ত ফেডারেশনকে কোনও চিঠি পাঠায়নি। আই লিগের সিইও সুনন্দ ধর দিল্লি থেকে ফোনে বললেন, ‘‘ওরা টুইট করেছে। কাগজে খবরও বেরিয়েছে। কিন্তু আমাদের কাছে ক্লাব তুলে দেওয়ার কোনও চিঠি মিনার্ভা পাঠায়নি।’’

মিনার্ভা পঞ্জাব নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরির মধ্যেই আবার ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট প্রফুল্ল পটেলের সঙ্গে আই লিগের জোটের বৈঠক নিয়েও প্রশ্নচিগ্ন তৈরি হল। ফিফা কাউন্সিলে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রফুল্ল বলে দিলেন, ‘‘লোকসভা নির্বাচন এবং ফিফার নির্বাচনের ব্যস্ততার মধ্যেও আমি ক্লাব জোটকে কথা দিয়েছিলাম ১১-১৪ এপ্রিল আলোচনায় বসব। তবুও ওরা সুপার কাপ বয়কট করল। যা দুর্ভাগ্যজনক। এর পর আর আলোচনা করার কী আছে।’’