আরও এক মোটামুটি অচেনা বাঁ-হাতির সামনে আত্মসমর্পণের পালা মেয়েদের পেশাদার টেনিস সার্কিটের? কী আশ্চর্য! ইনিও চেক মহিলা!

চার বছর আগের অচেনা পেত্রা কিভিতোভার মতোই!

উইম্বলডন যেমন সেবার অবাক চোখে দেখেছিল বাঁ-হাতি কিভিতোভার চূড়ান্ত উত্থান, তেমনই কি এ বার ঘটতে চলেছে ফরাসি ওপেনে? লুসি সাফারোভার বাঁ হাতে?

যে মেয়ের হাই ফোরহ্যান্ড টপ স্পিন কিনা রাফায়েল নাদালের সঙ্গে সার্কিটে তুলনীয়! টেনিস বিশেষজ্ঞরা আরও বলে থাকেন, নাদালের মতোই দ্রুত কোর্ট কভারিংয়ে সাফারোভার গ্রাউন্ডস্ট্রোকও প্রচণ্ড শক্তিশালী। 

গত বছর কিভিতোভা দ্বিতীয় বার উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন মহাতারকা হিসেবে। যেখানে চার সেমিফাইনালিস্টের এক জনের নাম ছিল লুসি সাফারোভা। কিভিতোভার দেশোয়ালি মেয়ের এত দিন সেটাই ছিল তাঁর ১১ বছরে ৪০ গ্র্যান্ড স্ল্যাম লড়াইয়ে সেরা পারফরম্যান্স। আঠাশ বছর বয়সি পাঁচ ফুট ন’ইঞ্চির ছিপছিপে শরীরটা বৃহস্পতিবার সেটা টপকে গেল, রোলাঁ গারোয় ফাইনালে উঠে। এবং দুর্দান্ত দাপটে।

২০১৪ উইম্বলডনের আগে সাফারোভা সেই ২০০৭-এ অস্ট্রেলীয় ওপেন কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিলেন তার আগের বারের চ্যাম্পিয়ন মরেসমোকে ছিটকে দিয়ে। যার সঙ্গে ২০১৫ ফরাসি ওপেনেরও কী মিল! এ বার প্যারিসের গ্র্যান্ড স্ল্যামে ফাইনালে ওঠার পথে সাফারোভা হারিয়েছেন গত বারের চ্যাম্পিয়ন শারাপোভাকে। রুশ টেনিস সুন্দরীর মতোই এ দিন সার্কিটের আর এক গ্ল্যামারাস প্লেয়ার সার্বিয়ার ইভানোভিচ-ও মুখ থুবড়ে পড়লেন চেক প্রজাতন্ত্রের নতুন বাঁহাতি শক্তির কাছে। ৫-৭, ৫-৭। টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত ছ’টা ম্যাচে একটাও সেট হারাননি সাফারোভা। ডাবলসেও বেথানি মাটেককে নিয়ে শীর্ষ বাছাই সানিয়া-মার্টিনা হিঙ্গিসকে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে গিয়েছেন।

তবু ১৯৮১-তে হানা মান্ডলিকোভার পর প্রথম চেক মেয়ে হিসেবে ফরাসি ওপেন সিঙ্গলস ফাইনালে উঠেই অনেক বেশি আপ্লুত সাফারোভা। ‘‘স্বপ্ন সত্যি হল। বিশ্বাস করতে পারছি না। সত্যিকারের অ্যাটাকিং খেলেছি। কারণ সেটাই জেতার একমাত্র রাস্তা।’’ এ বছরই অস্ট্রেলীয় ওপেন ডাবলস চ্যাম্পিয়ন সাফারোভাকে এখন বিশেষজ্ঞরা রোলাঁ গারোয় দ্বিমুকুটের দাবিদারও দেখছেন! সে শনিবার ফাইনালে যতই তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীর নাম সেরেনা উইলিয়ামস হোক না কেন!

বিশেষ করে বিশ্বের এক নম্বর তথা এখানে শীর্ষ বাছাই এ দিন সেমিফাইনালেও যে ভাবে হোঁচট খেয়ে জিতলেন অখ্যাত সুইস ব্যাসিনস্কির বিরুদ্ধে। ৪-৬, ৬-৩, ৬-০। শেষ পাঁচের চারটেই প্রথম সেট খুইয়ে বার করলেন সেরেনা। ফাইনালেও একই ‘ট্রেন্ড’ চলবে, না কি সাফারোভা ম্যাজিকই? টেনিস মহলের এখন সেরা চর্চা।