উইলিস প্লাজ়া বনাম জনি আকোস্তা।

জবি জাস্টিন বনাম খালিদ আউচো।

কেভিন লোবো বনাম টোনি দোভালে।

অ্যান্টনি উলফ বনাম বোরখা গোমেজ।

আজ রবিবার যুবভারতীর আই লিগ ম্যাচের ক্যানভাসে এ রকম অসংখ্য চমকপ্রদ লড়াই হাজির। কোথাও ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন বনাম বর্তমানের দ্বৈরথ। কোথাও আবার বিশ্বকাপারের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে তৈরি লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা। যুবভারতী সংলগ্ন মাঠে অনুশীলনের সময়ই ‘ধূর্ত’ প্লাজ়ার মুখ চোখে যেন আগুন ঝরছিল। ইতিমধ্যেই সতেরো গোল করে ফেলা ক্যারিবিয়ান স্ট্রাইকার কী করতে চান বলেও দিলেন সাংবাদিকদের সামনে এসে। ‘‘আমাকে আটকানোর ক্ষমতা ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের নেই। দেশের যে কোনও দলের রক্ষণ টপকে গোল করার ক্ষমতা আমি রাখি। তা প্রমাণও করেছি,’’ বলে দেন ইস্টবেঙ্গল থেকে  ছাঁটাই হয়ে যাওয়া ছিপছিপে চেহারার ‘গোল মেশিন’। 

প্লাজ়ার ছেড়ে যাওয়া চেয়ারে বসে আবার মিনিট পনেরো পরে কার্যত তাঁকেই ঘুরিয়ে পাল্টা  চ্যালেঞ্জ করে বসেন আলেসান্দ্রো মেনেন্দেসও। ইস্টবেঙ্গল কোচ বলে দেন, ‘‘আমরা কোনও একজন ফুটবলারকে নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি না। পুরো চার্চিলকে হারানোর জন্যই তৈরি হচ্ছি।’’

লিগ টেবলের যা অবস্থা তাতে আজকের ম্যাচ নিয়ে উত্তপ্ত আবহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। কারণ এই ম্যাচ জিতলে ইস্টবেঙ্গল পৌঁছে যাবে লিগের শীর্ষ বিন্দুতে। টেবল শীর্ষে থাকা চেন্নাই সিটি এফসিকে ধরে ফেলবেন জবিরা। অন্য দিকে গোয়ার পারিবারিক ক্লাব প্রথম পর্বের হারের প্রতিশোধ নিতে পারলে প্রবল ভাবে ফিরে আসবে খেতাবের লড়াইয়ে। ফলে ম্যাচের একদিন আগেই চাপ এবং পাল্টা চাপের খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে দুই শিবিরে। 

হুঙ্কার: ইস্টবেঙ্গল রক্ষণকে চাপে রাখতে প্রস্তুতি প্লাজ়ার। নিজস্ব চিত্র

আলেসান্দ্রো মেনেন্দেস দলকে চাপমুক্ত রাখতে অনুশীলন না করিয়ে ঘুরিয়ে এনেছেন ইকো পার্কে। আর প্রতিপক্ষকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য চার্চিলের রোমানিয়ান কোচ পেত্রে গিগুই তাঁর দলের সেরা স্টপার খালিদ আউচোকে মাঠের পাশে সারাক্ষণ দৌড় করিয়ে গিয়েছেন। স্টেডিয়াম ছেড়ে যাওয়ার সময় বলে গিয়েছেন, ‘‘খালিদকে খেলাতে পারব কী না বুঝতে পারছি না।’’ ইস্টবেঙ্গলকে অতি-আত্মবিশ্বাসী করতে জানিয়ে দিয়েছেন, অধিনায়ক গাম্বিয়ার যুব বিশ্বকাপার দাওদা সিসে-সহ প্রথম একাদশের চার ফুটবলারকে পাচ্ছেন না তিনি। ‘‘আরে আমরা তো খেতাব থেকেই ছিটকে গিয়েছি। ইস্টবেঙ্গলের এখনও পাঁচ ম্যাচ বাকি, আমাদের তিনটি। লড়ব কী ভাবে? তবুও আমরা দর্শকদের খুশি করার জন্য স্বাভাবিক খেলা খেলব’’ বলে দেন প্লাজ়াদের কোচ। চোখ মুখ দেখেই বোঝা যায়, এ সবই তাঁর কৌশলী চাল, কথাবার্তা।

কিন্তু তাতে কী আর চিড়ে ভেজে? বুনো ওলের জন্য বাঘা তেঁতুল হয়ে হাজির যে লাল-হলুদের স্প্যানিশ কোচও। আলেসান্দ্রো বলে দিয়েছেন, ‘‘আমরা আত্মবিশ্বাসী, তবে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী নই। ম্যাচ নিয়ে যখন কাটাছেঁড়া করতে বসি, তখনই সবাই নিজেদের সংযত করে ফেলি। পরের ম্যাচ জেতার জন্য ভাবতে শুরু করি। শুধু চার্চিল নিয়ে তাই এখন ভাবছি।’’ তাঁকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নানা রকম প্রশ্ন হয়। কেউ জানতে চান, শেষ তিনটি অ্যাওয়ে ম্যাচ। এটা কি অসুবিধা? কারও প্রশ্ন,  চার্চিল ম্যাচ জিতলে কি খেতাবের আরও কাছে পৌঁছে যাবেন? আলেসান্দ্রো দোভাষী মারফত একটা রেকর্ডই বাজিয়ে যান, ‘‘আমি অন্য কিছু নিয়ে ভাবছি না। শুধু চার্চিল ম্যাচ নিয়েই ভাবছি।’’ 

ইস্টবেঙ্গলের প্রধান অস্ত্র এনরিকে, দোভালেদের পাসিং ফুটবল। এক সঙ্গে পাঁচ-ছ’টি পাস খেলছে আলেসান্দ্রোর দল। প্রতিপক্ষের তুলনায় বল পজেশন যতটা সম্ভব বাড়িয়ে নিয়ে মাঝমাঠের দখল নেওয়া। যা করলে গোল আসবেই। পিছিয়ে পড়লেও ভেঙে পড়ে না মশালবাহিনী। বরং পাল্টা আক্রমণে গোল তুলে নিয়ে ম্যাচ জেতাটা অভ্যাস করে ফেলেছেন জবিরা। উল্টো দিকে চার্চিলের তূণে রয়েছে প্লাজ়া, উলফের মতো ভয়ঙ্কর তির। হার না মানা মনোভাব যাঁদের  সঙ্গী। এ জন্যই পিছিয়ে থেকে বহু ম্যাচ জিতে গিয়েছে গোয়ার ক্লাব। সব চেয়ে বড় কথা দু’দলের রণনীতি সাজানোটা প্রায় একই রকম। ৪-২-৩-১। 

ইস্টবেঙ্গলের সুবিধা ডার্বি-সহ টানা তিনটি ম্যাচ জিতেছেন জবিরা। শেষ তিনটি ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট নষ্ট করেছে চার্চিল। এ রকম ধুন্ধুমার ম্যাচে লিগ টেবলের এই আবহ অনেক ক্ষেত্রেই পার্থক্য গড়ে দেয়।