নতুন বিশ্বরেকর্ড-সহ ১০মিটার এয়ার রাইফেল ইভেন্টে সোনা জিতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ভারতের অপূর্বী চান্দেলা। আন্তর্জাতিক শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশন (আইএসএসএফ) বিশ্বকাপের এই খেতাব তিনি উৎসর্গ করলেন পুলওয়ামায় নিহত সিআরপিএফ জওয়ানদের স্মৃতিতে।

ডা. কর্ণী সিংহ শুটিং রেঞ্জে সোনা জয়ের পরে অপূর্বী বলেন, ‘‘পুলওয়ামায় জঙ্গি হানায় নিহত সিআরপিএফ জওয়ানদের এই সাফল্য উৎসর্গ করছি।’’

ফাইনালে অপূর্বী স্কোর করেছেন ২৫২.৯। এই ইভেন্টে রুপো ও ব্রোঞ্জ পেয়েছেন চিনের রুয়োঝু ঝাও (২৫১.৮) ও হং ঝু (২৩০.৪)। এই তিন জন শুটারের মধ্যে অপূর্বী আগেই দেশকে একটি টোকিয়ো অলিম্পিক্সের কোটা এনে দিয়েছিলেন। গত বছরের এপ্রিল মাসে কোরিয়াতে ২৫২.৪ স্কোর করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন রুয়োঝু ঝাও। 

এ দিন বিশ্বরেকর্ড ভাঙতে গিয়ে বাছাই পর্বের শেষ দশ শটে ১০.৫ বা তার বেশি স্কোর করেন অপূর্বী। বিশ্বরেকর্ড-সহ নিজের এই সোনাজয় সম্পর্কে জয়পুরের মেয়ে অপূর্বী বলেন, ‘‘কাজটা মোটেও সহজ ছিল না। কিন্তু হাল না ছেড়ে অনুশীলন চালিয়ে গিয়েছি। সেই প্রস্তুতি ও পরিশ্রম আজ কাজে লাগায় আমি খুশি। সামনে আরও অনেক প্রতিযোগিতা রয়েছে। এতেই সন্তুষ্ট হয়ে পড়লে চলবে না। আমাকে আরও অনেক দূর যেতে হবে।’’ 

১০মিটার এয়ার রাইফেল ইভেন্টের ফাইনাল দেখতে এ দিন দর্শকদের ভিড় ছিল প্রচুর। দর্শকদের ভিড়ে ছিলেন অপূর্বীর মা বিন্দু চান্দেলাও। যিনি অতীতে রাজস্থানের হয়ে জাতীয় বাস্কেটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। ফাইনালের শুরুতে পিছনের দিকেই ছিলেন অপূর্বী। ১১তম শটে ১০.৬ স্কোর করে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসেন তিনি। কিন্তু মেয়ের জয়ের পরে আবেগ সংবরণ করতে না পেরে দর্শকদের সঙ্গে লাফিয়ে উঠেছিলেন তিনিও। 

বিশ্বকাপে এটি অপূর্বীর তৃতীয় ব্যক্তিগত পদক। ২০১৪ সালে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতেছিলেন। কিন্তু গত বছর গোল্ড কোস্টে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসে ব্রোঞ্জ পেয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাকে। গত বছর মিউনিখে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে অল্পের জন্য সোনা হাতছাড়া হয়েছিল অপূর্বীর। এ দিন সোনা জিতে সেই খেদ মেটালেন তিনি।

টোকিয়ো অলিম্পিক্সে ১০মিটার এয়ার রাইফেল ইভেন্টে সর্বোচ্চ দু’টি কোটা পেতে পারে ভারত। যেখানে অপূর্বীকে অলিম্পিক্স দলে জায়গা পেতে লড়তে হবে অঞ্জুম মুদগিল, মেহুলি ঘোষ ও এলাভেনিল ভালারিভানের সঙ্গে। যে প্রসঙ্গ উঠলে অপূর্বী বলছেন, ‘‘এতে আমার মনোনিবেশ আরও বাড়ছে। আত্মতৃপ্ত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে না।’’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘‘মনোনিবেশ করতে ধ্যান করছি। যা কাজে লাগছে স্নায়ুযুদ্ধে জিততে।’’ মেহুলি এই বিশ্বকাপে পদকের লড়াইয়ে না থাকলেও কোয়ালিফাইং রাউন্ডে মোট ৬৩১ পয়েন্ট স্কোর করে অলিম্পিক্স-টিকিট পাওয়ার দৌড়ে থাকলেন। আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে অলিম্পিক্সের চূড়ান্ত দল ঠিক হবে।

অপূর্বীর সোনা জয় ছাড়াও এ দিন মহিলাদের ২৫মিটার পিস্তল বিভাগের বাছাই পর্বে ২৯৬ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষে রয়েছেন মনু ভাকের। তার সঙ্গে বাছাই পর্ব পেরিয়েছেন চিঙ্কি যাদব (২৮৮ পয়েন্ট) ও রাহি সর্নোবত (২৮৭ পয়েন্ট)। পুরুষদের ৫০মিটার রাইফেলে যোগ্যতামান পেরিয়েছেন সঞ্জীব রাজপুত (১১৭৩), পারুল কুমার (১১৪৯)।