বাঁ হাতি স্পিনার হিসেবে বাংলার হয়ে খেলেন তিনি। কিন্তু ব্যাট হাতে একের পর এক বল ইডেনের গ্যালারির উদ্দেশে উড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও তাঁর রয়েছে। সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির অনুশীলনে এক নতুন প্রদীপ্ত প্রামাণিককে আবিষ্কার করলেন কোচ অরুণ লাল। জাতীয় টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় ‘পিঞ্চহিটার’-এর ভূমিকায় দেখা যেতে পারে ২১ বছর বয়সি এই অলরাউন্ডারকে।

তামিলনাড়ুর বিরুদ্ধে রঞ্জি ট্রফির মরণ-বাঁচন ম্যাচে ২৫ রানের অমূল্য ইনিংস খেলে বাংলাকে জিতিয়েছিলেন প্রদীপ্ত। কঠিন পরিস্থিতিতে বড় শট খেলে চাপ হাল্কা করে দেওয়ার ক্ষমতাও রয়েছে তাঁর। সোমবার ইডেনে ভিভিএস লক্ষ্মণের সামনে আরও এক বার নিজের ব্যাটিং দক্ষতা প্রমাণ করলেন প্রদীপ্ত। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী পেসার রবিকান্ত সিংহের বল নির্দ্বিধায় পাঠিয়ে দিচ্ছিলেন গ্যালারির উদ্দেশে। যা দেখে মুগ্ধ অরুণ বলেন, ‘‘ওর হাতে বড় শট রয়েছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এ ধরনের ব্যাটিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আসন্ন প্রতিযোগিতায় ব্যাটিং অর্ডারে প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করবে প্রদীপ্ত। পরিস্থিতি দাবি করলে ব্যাটিং অর্ডারের প্রথম তিনের মধ্যেও খেলানো যেতে পারে ওকে।’’ লক্ষ্মণের সামনে এ দিন ‘সিমিউলেশন ট্রেনিং’ করে বাংলা। অর্থাৎ ম্যাচের পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিলা করার অনুশীলন। ব্যাটসম্যান ও বোলারদের নির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করে দেওয়া হয়। ফিল্ডিংও সাজিয়ে দেওয়া হয় পরিস্থিতি অনুযায়ী। প্রদীপ্তকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বড় শট খেলার। যেখানে শুধু তিনি পাশই করেননি, নজর কেড়েছেন লক্ষ্মণেরও। প্রাক্তন ভারতীয় ব্যাটসম্যান অবশ্য ভাল শট খেলার পাশাপাশি উইকেটে টিকে থাকার পরামর্শও দিয়ে গেলেন বাঁ হাতি স্পিনারকে। প্রদীপ্ত বলেন, ‘‘আমার বড় শট খেলার ক্ষমতা যে রয়েছে, তা আগে থেকেই জানতেন লক্ষ্মণ। যদিও তিনি সতর্ক করে বলেছেন শট নেওয়ার বল নির্বাচন করা শিখতে হবে। উইকেটে টিকতে না পারলে বড় শট খেলে কোনও লাভ নেই।’’ প্রদীপ্ত যদিও উপরের দিকে ব্যাট করার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘যেখানে দল চাইবে, সেখানে পারফর্ম করার জন্য আমি প্রস্তুত। ওপেন করতে বললেও কোনও অসুবিধা নেই। প্রাণ খুলে ব্যাট করতে বরাবরই ভালবাসি। সুযোগ পেলে হাতছাড়া করব না।’’

প্রদীপ্তের পাশাপাশি অরুণের নজর কেড়েছেন বাঁ হাতি স্পিনার রাজু হালদার। তাঁর উচ্চতা খুব বেশি হলে পাঁচ ফুট। যা বাড়তি সুবিধা দেবে বলেই মনে করেন বাংলার কোচ। উচ্চতা কম থাকায় বল বেশি ওঠে না রাজুর। টি-টোয়েন্টিতে বাংলার অন্যতম সেরা অস্ত্র হতে পারেন তিনিই। অরুণ বলছিলেন, ‘‘রাজুর ডেলিভারি মারা খুব কঠিন। আজ অসাধারণ বল করল। উচ্চতাকে খুব সুন্দর ব্যবহার করে। বল বেশি ফ্লাইট দিতে হয় না ওকে। তাই বেশি বাউন্সও করে না। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ওকে মারা কিন্তু 

খুব কঠিন।’’