বার্মিংহাম টেস্টের প্রথম দিনের আগে অনেকেই হয়তো ভেবেছিলেন ব্যাটসম্যানরা হিমশিম খাবেন পেসারদের বিরুদ্ধে। কিন্তু সব ভাবনা পাল্টে দিয়ে মাঠ ছাড়লেন অন্য একজন, আর অশ্বিন। চার উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের ইনিংসের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার পরে বুধবার এই তামিল স্পিনার জানালেন, কাউন্টির অভিজ্ঞতা ও বোলিং অ্যাকশন বদলেই এই সাফল্য পেয়েছেন তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া সফরে এর আগে এত ভাল বোলিং আর কখনও করেননি অশ্বিন। কী করে বিদেশের মাটিতে নিজেকে এতটা ধারালো করে তুললেন? অশ্বিনের জবাব, ‘‘গত বছর আমি যখন এখানে কাউন্টি খেলতে এসেছিলাম, তখন সবার আগে লক্ষ্য করি বোলারদের গতি। প্রথম দিন এখানকার পরিবেশে বলের গতি খুব কম থাকে। বাউন্স হয়তো কিছু পাওয়া যায়, কিন্তু সঠিক গতিতে যদি এখানে বল করা না যায়, তা হলে ব্যাটসম্যানরা ব্যাকফুট বা ফ্রন্টফুটে আসার আগে অনেক সময় পেয়ে যায়। এখানে এসে এই ব্যাপারটা আমি উপলব্ধি করি।’’

গত বছর উরস্টারশায়ারের হয়ে খেলা অশ্বিন নিজের বোলিং অ্যাকশনও পাল্টেছেন বলে বোর্ডের ওয়েবসাইটকে জানান বুধবার। বলেন, ‘‘গত ১২-১৮ মাসে আমি প্রচুর ক্লাব ক্রিকেট খেলেছি। নিজের বোলিং অ্যাকশন আরও সরল করার চেষ্টা করেছি। বোলিংয়ে নিজের শরীরকে আরও বেশি কাজে লাগাই। হাওয়ায় বলকে আরও বেশি ঘোরানোর চেষ্টা করি এখন। এটা খুব কাজে লাগছে আমার।’’ উইকেট কেমন, তা নিয়ে বেশি  না ভেবে হাওয়ায় ব্যাটসম্যানকে জব্দ করার চেষ্টা এখন বেশি করেন তিনি। অশ্বিন এই নিয়ে বলেন, ‘‘উইকেট কেমন, সেটা নিয়ে এখন আর ভাবি না আমরা। এখনকার ক্রিকেটে ভাল উইকেটে ব্যাটসম্যানরা খেলতে পছন্দ করে। আমি আরও বড় করে ভেবেছি ব্যাপারটা। হাওয়ায় ব্যাটসম্যানকে কী ভাবে বিভ্রান্ত করা যায়, সে দিকে বেশি মন দিয়েছিলাম গত এক বছরে।’’

কিন্তু এই নতুন ধরনের বোলিং অ্যাকশনে অভ্যস্ত হতে গিয়ে শরীরের ওপর অনেক বেশি চাপ পড়ে বলে জানান টেস্টে ৩১৬ উইকেট পাওয়া এই স্পিনার। ‘‘সেই কারণেই বোলিং অ্যাকশন আরও সরল করে ফেলার প্রয়োজন হয়ে পড়ে আমার’’, বলেন অশ্বিন। অ্যাকশন বদলে অনেক উপকারও পেয়েছেন বলে মনে করেন অশ্বিন। বলেন, ‘‘এই অ্যাকশনে বল করে আমি মাঠে যথেষ্ট ভাল সময় কাটিয়েছি। আগে বল করার সময় আমার হাত মাঝখানে চলে আসত। অ্যাকশন বদলানোয় সেই অভ্যাসটা দূর করতে পেরেছি এখন।’’