এশিয়ান গেমসে পুরুষদের হকিতে ভারত সেই অর্থে প্রথম কঠিন পরীক্ষার সামনে পড়বে শুক্রবার। নিজেদের পুল-এ সর্দার সিংহদের এ বার খেলতে হবে জাপানের সঙ্গে। যারা অতীতে বহু বার অপ্রত্যাশিত ভাল খেলে বিশ্বসেরাদের হারিয়ে অঘটন ঘটিয়েছে। বলা যায় না, ভারতের বিরুদ্ধেও হয়তো তেমন কিছুই করে ফেলবে জাপান।

এমনিতে পুল-এ নিজেদের প্রথম দু’টি ম্যাচ ভারত হাসতে হাসতে জিতেছে বললেও কম বলা হয়। ইন্দোনেশিয়াকে ১৭-০ হারিয়ে ওঠার পরেই চিনা হংকংকে ভারত অবিশ্বাস্য ২৬-০ হারিয়েছে। যে ফল ভেঙে দিয়েছে ৮৬ বছর আগে অলিম্পিক্সে যুক্তরাষ্ট্রকে ২৪-১ গোলে হারানোর নজিরকেও। অবশ্য হকিতে সব চেয়ে বেশি গোলে জেতার নজির এখনও নিউজিল্যান্ডের। তারা ১৯৯৪ সালে সামোয়াকে হারিয়েছিল ৩৬-১ গোলে। যে রেকর্ড আজও অক্ষত।

বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে এখন ভারতীয় হকি দল পঞ্চম স্থানে রয়েছে। সেখানে জাপানের অবস্থান ১৬ নম্বরে। সংখ্যার বিচারে ভারত অবশ্যই ফেভারিট। কিন্তু সেই অর্থে এশিয়াডে এটাই ভারতের প্রথম কঠিন ম্যাচও বটে। ভারতীয় হকি দলের কোচ হরেন্দ্র সিংহও সেটাই মনে করেন। এমনিতে নিজেদের পুল-এ ভারতই এখন শীর্ষে। ভারতের মতোই সমান সংখ্যক ম্যাচ জিতলেও কোরিয়া ও জাপানের তুলনায় মোট গোল অনেক কম। জাপান যেমন নিজেদের প্রথম খেলায় শ্রীলঙ্কাকে ১১-০ গোলে হারালেও ইন্দোনেশিয়ার বিরুদ্ধে ৩-১ গোলে জয় পেয়েছে।

হকি বিশ্লেষকরা বলছেন, ফর্ম এবং র‌্যাঙ্কিং বিচার্য হলে পি আর সৃজেশের নেতৃত্বাধীন ভারতেরই জাপানকে হারানো উচিত। প্রথম দু’টি ম্যাচে দল নিয়ে প্রচুর পরীক্ষাও করেছে ভারত। জাপানের বিরুদ্ধে যে সুযোগ থাকবে না। কোচ হরেন্দ্র বলেছেন, ‘‘আমার কাছে প্রথম দুটি খেলা প্রস্তুতি ম্যাচ ছাড়া অন্য কিছু না। সত্যি কথা বলতে গেলে জাপান ম্যাচ থেকে আমাদের এশিয়ান গেমস শুরু হচ্ছে। দলের সবাই যা জানে। সে ভাবেই তৈরি থাকবে ছেলেরা।’’

প্রথম দু’টি ম্যাচে ভারতীয় দলের প্রায় সবাই গোল করেছেন। এখন দেখার, জাপানের বিরুদ্ধে এই গোলদাতারা কতটা সফল হন। আরও বড় উদ্বেগ হল, প্রথম দু’টি ম্যাচে ভারতীয় রক্ষণ সেই অর্থে কোনও চ্যালেঞ্জের সামনেই পড়েনি। তাই ডিফেন্ডাররা কতটা তৈরি সেটাও দেখার। এমনিতে শুক্রবার জাপান ম্যাচের পরে ভারতকে খেলতে হবে আর একটি শক্তিশালী দেশ কোরিয়ার সঙ্গে। এবং পুল-এ তাদের শেষ প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা।