শেষ ম্যাচে কানাডাকে হারিয়ে সরাসরি বিশ্বকাপ হকির কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার লক্ষ্যে শনিবার নামছে ভারত। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে পাঁচ নম্বর ভারত পুল সি-র শীর্ষে রয়েছে। দু’ম্যাচে পয়েন্ট ৪। গোল পার্থক্যে পিছিয়ে থাকায় একই পয়েন্ট হলেও বেলজিয়াম দু’নম্বরে। 

বিশ্ব হকি লিগে ভারতকে ৩-২ হারিয়ে চমকে দিয়েছিল কানাডা। ২০১৬ রিয়ো অলিম্পিক্সে ২-২ ড্র করে। ভারতীয় হকি দলের কোচ হরেন্দ্র সিংহ অতীত নিয়ে ভাবছেন না, ‘‘অতীতে ওদের বিরুদ্ধে ব্যর্থতাটা বড় শিক্ষা। সেই অভিজ্ঞতাই শনিবারের ম্যাচে আমাদের শক্তি। কানাডাকে হারাতেই হবে, গোল খেলেও চলবে না। অন্য কিছু মাথায় রাখছি না। অন্য কার কী ফল হল তার জন্য অপেক্ষা চাই না।’’ কানাডার বড় শক্তি প্রতিআক্রমণ। সেটাই মাথায় রাখছেন হরেন্দ্র। তবে আক্রমণাত্মক হকি থেকে সরবেন না, ‘‘নীচে নেমে রক্ষণ সামলানোর জন্য খেলব না। আক্রমণাত্মকই খেলতে হবে। জানি, ওরা জমি ছাড়বে না। এটা ওদের পরিকল্পনা। তবে আমাদের আক্রমণের ধরন আলাদা হতে পারে।’’ হরেন্দ্রর আরও কথা, ‘‘খুব ছোটবেলা থেকেই ছেলেরা আক্রমণাত্মক হকি খেলছে। এটাই আমাদের হকির সংস্কৃতি।’’  পুল-এ ভারত সুবিধাজনক অবস্থায় থাকলেও অঘটনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবারই আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বড় অঘটন ঘটিয়েছে ফ্রান্স। ফর্ম ও অতীত রেকর্ডের নিরিখে কানাডার বিরুদ্ধে এগিয়ে থাকলেও মনপ্রীত সিংহদের তাই গা-আলগা দেওয়ার অবকাশ নেই। শুধু র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা নয়, ২০১৩ সাল থেকে পাঁচ বারের মুখোমুখি সাক্ষাতেও ভারত জিতছে তিন বার। ড্র একবার। কানাডা জিতেছে একবার। তবে শেষ কয়েক বছরে কানাডার খেলাতে উন্নতি হয়েছে। তাদের রক্ষণ বেশ ভাল। এই বিশ্বকাপেই বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ম্যাচে সেটা প্রমাণ হয়েছে। যে ম্যাচ কোনও রকমে বেলজিয়াম ২-১ জিতে পুরো পয়েন্ট তোলে।

হরেন্দ্রর সঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলনে ছিলেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক মনপ্রীত সিংহও। তাঁর কথা, ‘‘বেলজিয়াম ম্যাচের পরে এই ছ’দিন আমরা মূলত ফিটনেস নিয়েই কাজ করেছি। সঙ্গে ম্যাচের জন্যও প্রস্তুতি নিয়েছি। কানাডা দলটা ঠিক কেমন সেটাও ভাল করে দেখে নিয়েছি। আশা করছি ভাল ভাবেই জিততে পারব ম্যাচটা।’’ 

শনিবার বিশ্বকাপ হকিতে: ভারত বনাম কানাডা, সন্ধে ৭টা, ডিডি স্পোর্টস চ্যানেলে।