গ্রিক টেনিস খেলোয়াড়— স্তেফানোস চিচিপাসের এই পরিচয় পেয়ে এতদিন অনেকে অবাক হতেন। গ্রিসে আবার টেনিসও হয়? প্রশ্ন করতে তাঁরা। রবিবারের পর থেকে তাঁরা বোধহয় আর এই প্রশ্ন করবেন না। 

আসলে পেশাদার টেনিসে গ্রিক খেলোয়াড়ের সংখ্যা এতই কম যে, চিচিপাসদের কথা শুনলে অনেকেই অবাক হন। তবে রবিবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে রজার ফেডেরারকে হারানোর পরে যেমন চিচিপাসকে লোকে মনে রাখবে, মনে রাখবে তাঁর দেশকেও। 

কুড়ি বছর বয়সি এই ওয়াই –জেন টেনিস খেলোয়াড় এ বার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেরা অঘটন ঘটিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘রজার কিংবদন্তি। খুবই শ্রদ্ধা করি ওকে। আমার স্বপ্ন সত্যি হল আজ। কী ভাবে এই অনুভূতি বলে বোঝাব, জানি না। আমি এখন বিশ্বের সবচেয়ে সুখী মানুষ’’। 

এই প্রথম গ্রিসের কেউ কোনও গ্র্যান্ড স্ল্যাম কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেন। এটা যেমন বেনজির ঘটনা, তেমনই শুনে অবাক হতে পারেন, রজার ফেডেরারকে হারাতে যে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন চিচিপাস, তার অনেকটাই জুড়ে ছিল তাঁর ইউটিউব-প্রশিক্ষণ। এই বিখ্যাত সোশ্যাল ওয়েবসাইটে নাগাড়ে ফেডেরারের খেলা দেখে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন গ্রিক তরুণ। ফেডেরারের সেই ক্লিপিংসগুলো মাথায় গেঁথে নিয়ে অবশেষে তাঁকেই হারিয়ে দিলেন। 

চিচিপাস নিজেই কয়েকদিন আগে বিবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, ‘‘ইউটিউবে দিনরাত রজার ফেডেরারের খেলা দেখেই বড় হয়েছি আমি। ফেডেরারের মুখোমুখি হতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করব’’। রবিবার শুধু মুখোমুখি হওয়াই নয়, ফেডেরারকে চার সেটে হারিয়ে সারা বিশ্বে হইচইও ফেলে দিলেন তিনি। বছরটাই সাফল্যের মধ্যে কেটেছে তাঁর। হারিয়েছেন নোভাক জোকোভিচ, কেভিন অ্যান্ডারসন, আলেকজান্দার জেরেভকে। এ বার ফেডেরারকে। সত্যিই মনে রাখার মতো বছর।