ভাইচুং ভুটিয়ার স্বপ্নপূরণ কি করবেন আলেসান্দ্রো মেনেন্দেস? 

ইস্টবেঙ্গলকে আসিয়ান কাপ-সহ অসংখ্য ট্রফি জেতানো ভাইচুং চাইছেন, শতবর্ষের ইস্টবেঙ্গল দলে খেলে ক্লাব ফুটবল থেকে অবসর নিতে। আগেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম আইকন। বুধবার লাল-হলুদ তাঁবুতে দাঁড়িয়ে ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন অধিনায়ক বলে দিলেন, ‘‘আমার বয়স চল্লিশ বছর। কোচিং করার ইচ্ছে আছে। অনুশীলনের মধ্যে আমি নেই। সিকিম বা দু’এক জায়গায় প্রদর্শনী ম্যাচ খেলেছি। ক্লাব থেকে প্রস্তাব এসেছিল শতবর্ষে একটা ম্যাচ খেলে অবসর নিই। আমি তাতে সম্মতি জানিয়েছে।’’ প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক ইঙ্গিত দিলেন, কলকাতা লিগ বা ডুরান্ড কাপের একটা ম্যাচে মিনিট পাঁচেক লাল-হলুদ জার্সি পরে খেলেই তাঁর স্বপ্ন পূরণ করতে চাইছেন।

কিন্তু লাল-হলুদের পরিস্থিতি যা, তাতে ফুটবল বিভাগে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই ক্লাব কর্তাদের। বিনিয়োগকারীরাই সব সিদ্ধান্ত নেন। ক্লাবের এক শীর্ষ কর্তা বললেন, ‘‘কোচই ঠিক করবেন কোন ম্যাচে ভাইচুং নামবেন। উনি এলে কথা বলব।’’ ফলে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে আলেসান্দ্রো ফিরলেই ভাইচুংয়ের স্বপ্ন চূড়ান্ত রূপ নেবে। তবে ভাইচুংকে ফের লাল-হলুদ জার্সি পরে মাঠে নামতে হলে আন্তঃ রাজ্য ছাড়পত্রেরও আবেদন করতে হবে। কারণ তিনি শেষ বার নিজের ক্লাব সিকিম ইউনাইটেডের হয়ে ফেডারেশনে নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। 

এ দিন লাল-হলুদ তাঁবুতে আবেগঘন বক্তৃতা দিতে গিয়ে তাঁর সিকিমের গ্রাম থেকে ইস্টবেঙ্গলে আসার গল্প থেকে শুরু করে ফুটবলার জীবনের সেরা দিনগুলির কথা শোনান তিনি। বলে দেন, ‘‘আসিয়ান কাপ জয় আর সেই এক লাখ তিরিশ হাজারের যুবভারতীতে করা হ্যাটট্রিক এখনও আমাকে উদ্বেল করে দেয়।’’

ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান ছাড়া ভারতের কোনও টুনার্মেন্ট সফল হতে পারে না বলেই ভাইচুংয়ের মন্তব্য, ‘‘সকলে মিলে ব্যক্তিত্বের সংঘাত এড়িয়ে সমস্যার সমাধান করা উচিত। ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট তিন বছর আই লিগ ও আইএসএল পাশাপাশি চালিয়ে তার পরে একটি লিগ করার যে প্রস্তাব দিয়েছেন সেটা বেশ ভাল মনে হয়েছে।’’ তিনি যোগ করেন, ‘‘ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের দেশের শীর্ষ লিগে খেলা উচিত। সে-জন্য ফেডারেশনের উচিত দুই প্রধানকে নিয়ে ভাবা।’’ পাশাপাশি ভারতীয় দল সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য, ‘‘কোচ হিসাবে ইগর স্তিমাচ নিশ্চয়ই একটা ভাবনা নিয়ে এগোচ্ছেন।’’