মাথায় বলের আঘাত লেগে গত কয়েক বছরে বিহ্বল অবস্থার মধ্যে পড়েছেন বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। এঁদের মধ্যে কেউ কেউ  প্রাণও হারিয়েছেন। এ বার সেই ঘটনা এড়াতে বিরাট কোহালিদের আরও সুরক্ষিত হেলমেট ব্যবহারের পরামর্শ দিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। তবে এর পাশাপাশি ক্রিকেটাররা ‘নেক গার্ড’ (ঘাড়ে আঘাত প্রতিরোধী ক্রিকেট-সরঞ্জাম) ব্যবহার করবেন কি না, তা সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারের উপরেই ছেড়েছে বোর্ড। যদিও আরও সুরক্ষিত হেলমেটের সঙ্গে ‘নেক গার্ড’ ব্যবহার করার জন্য ইতিমধ্যে দাবি উঠছে ক্রিকেট বিশ্বের বিভিন্ন মহল থেকে।

চলতি অ্যাশেজ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডের পেসার জোফ্রা আর্চারের বল আছড়ে পড়েছিল স্টিভ স্মিথের গলায়। তার পরে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন স্মিথ। যে কারণে তৃতীয় টেস্টে দলে রাখা হয়নি তাঁকে। 

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্তা বলেছেন, ‘‘আইসিসি-র নতুন নিয়ম অধিনায়ক, কোচ ও তাঁর সহকারীদের বিশদে জানানো হয়েছে। এমনকি আরও সুরক্ষিত হেলমেট ও ‘নেক গার্ড’ ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই শিখর ধওয়নের মতো কেউ কেউ এই সরঞ্জাম ব্যবহার করেন। কিন্তু আইসিসি তা বাধ্যতামূলক না করায় বোর্ড জোর করতে পারে না।’’
 
অস্ট্রেলিয়া দলের প্রাক্তন ডাক্তার পিটার ব্রাকনার বলেছেন, ‘‘আরও সুরক্ষিত হেলমেট ও ‘নেক গার্ড’ বাধ্যতামূলক করা উচিত।’’ যদিও ভারতীয় ক্রিকেটারদের অনেকেই মনে করেন, স্মিথের টেকনিকের উপর ভিত্তি করে এই সরঞ্জাম বাধ্যতামূলক করা যায় না। হরভজন সিংহই যেমন বলেছেন, ‘‘শর্ট বল খেলার জন্য সুনীল গাওস্করের পরামর্শ, বলের উপর থেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চোখ না সরাতে। এর পরেও কিছু অস্বাভাবিক বল গায়ে লাগবেই। পুরো ব্যাপারটাই টেকনিক।’’ আরও বলেন, ‘‘নিশ্চয়ই একজন তরুণ ক্রিকেটারকে বলা যায় না, স্টিভ স্মিথের টেকনিক অনুসরণ করতে। হয়তো এই সরঞ্জাম খুব কার্যকরী ও অভিনব। কিন্তু তা স্মিথের জন্য।’’ হরভজন যোগ করেন, ‘‘প্রত্যেক দলে তো জোফ্রা আর্চারের মতো জোরে বোলার নেই। ফিরোজ় শাহ কোটলায় মিডিয়াম পেসারকে খেলতে গেলে এই সরঞ্জামের কী দরকার?’’