• রাজীব ঘোষ
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

স্মার্ট ক্রিকেট ও নারিন কাঁটার যন্ত্রণায় মেজাজ খারাপ গম্ভীরের

Sunil Narine

গৌতম গম্ভীর কো গুস্সা কিঁউ আতা হ্যায়?

এক দিকে তখন বৃষ্টিতে তড়িঘড়ি পুরো মাঠ ঢাকার মহড়া চলছিল ইডেনে। সেই সময় শোনা গেল, দেশের আর এক প্রান্তে বোলিং অ্যাকশনের কলঙ্ক ঢাকার প্রক্রিয়ায় নাকি ব্যস্ত সুনীল নারিন।

বুধবার চেন্নাই সুপার কিঙ্গসের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে নামার আগে এই দুই কাঁটাই যে লেগে কেকেআরের গলায়।

গত মরসুমে যা ছিল খেতাবজয়ের অভিযানে নাইটদের সেরা অস্ত্র, সেই সুনীল নারিনই এখন কেকেআরের সবচেয়ে অস্বস্তিদায়ক কাঁটা!

বোর্ডের ফতোয়ায় সবচেয়ে ধারালো অস্ত্র অফ স্পিনই যখন খোয়াতে হল নারিনকে, তখন এর চেয়ে অস্বস্তিকর আর কী হতে পারে? সে জন্যই বোধহয় বুধবার বিকেলে বিমানবন্দরে বেশ গম্ভীর দেখাল গৌতমকে।

চেন্নাইয়ের শ্রী রামচন্দ্র অর্থ্রোস্কোপি অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স সেন্টারে ক্রিকেট জীবনের সবচেয়ে কঠিন লড়াই নাকি এ দিন থেকেই শুরু করে দিলেন নারিন। অন্তত কেকেআর শিবিরে তেমনই খবর। সে জন্যই বুধবার দলের সঙ্গে এলেন না শহরে।

বিকেলে বিমানবন্দর থেকে এক এক করে কেকেআরের অন্য সব ক্রিকেটার বেরিয়ে টিম বাসে উঠে পড়লেও সুনীল নারিনকে যখন বেরতে দেখা গেল না তখনই প্রশ্ন উঠে গেল, তা হলে তিনি কোথায়? নাইটদের বিমান এ দিন চেন্নাইয়ের মাটি থেকে ওড়ার পরই বোর্ড সারা দেশের মিডিয়াকে জানিয়ে দেয় নারিনের নির্বিষ হওয়ার খবর।

বোর্ডের প্রেস রিলিজে বলা হল, ‘‘নারিন নাকল বল করতে পারে, জোরে সোজা বলও করতে পারে। কিন্তু কখনও অফস্পিন করলেই  আম্পায়ার তাঁকে ‘নো’ ডাকবেন এবং নির্বাসন অবধারিত।’’ এর পরও আর তাঁকে মাঠে নামানোর ঝুঁকি নেবে কী করে টিম ম্যানেজমেন্ট?

তবু কেকেআর সিইও বেঙ্কি মাইসোর সন্ধ্যায় বলে দিলেন, ‘‘ওকে তো বল করতে বারণ করা হয়নি। শুধু অফস্পিন করতে বারণ করা হয়েছে। নারিনের আপত্তি না থাকলে ও খেলতে পারে। হি ইজ অ্যাভেলেবেল ফর দ্য সিলেকশন।’’

কিন্তু অফস্পিন ছাড়া নারিনের আছেটা কী? প্রাক্তন টেস্ট ওপেনার আকাশ চোপড়া যেমন টুইট করলেন, ‘‘অফস্পিন ছাড়া সুনীল নারিন আর বিষহীন সাপ তো একই রকম। কেকেআর বরং এ বার হগ বা কুলদীপ বা বোথাকে দিয়ে বল করাক।’’

নাইট শিবিরেও সে রকমই ভাবনা। বুধবার সন্ধ্যায় টিম হোটেলে গিয়ে জানা গেল, বৃহস্পতিবার বদলার ম্যাচে সে রকমই দল নামানোর ভাবনা চলছে নাইটদের শিবিরে। কোচ ট্রেভর বেইলিস যদিও নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে কফি শপের দিকে যেতে যেতে বললেন, ‘‘সুনীলের জায়গায় কে খেলবে, এখনও ভাবিনি কিছু। কাল সকালে ঠিক করব।’’

মঙ্গলবার যে ভাবে চেন্নাইয়ের কাছে হারতে হয়েছে, তাতে গম্ভীরের মেজাজ একেবারেই ভাল নেই বলে ঘনিষ্ঠ মহল থেকে জানা গেল। তার উপর নাকি নারিনের খবরটা তাঁর কানে আসে মঙ্গলবার চিপকে নামার আগেই। সঙ্গে হারের ধাক্কা। সব মিলিয়ে আগের রাত থেকেই মেজাজ খাপ্পা নাইট অধিনায়কের। এ দিনও যখন কেকেআরের শহরে পা রাখলেন, তখন দৃশ্যতই বিরক্ত ও আশাহত। ধোনিদের কাছে হারার পরই বলেছিলেন, ‘‘আমাদের ব্যাটসম্যানদের আরও স্মার্ট হতে হবে। বিশেষ করে এই সব পরিস্থিতিতে।’’ তিন দিনে দু’টি ম্যাচ। তাই অবশ্য ‘স্মার্ট’ হওয়াটা প্র্যাক্টিসে ঝালিয়ে নিতে পারলেন না। সোমবার পর্যন্ত এ রকমই চলবে। আগামী পাঁচ দিনে তিনটি ম্যাচ। মঙ্গলবার চিপকের ম্যাচ ধরলে সাত দিনে চারটে ম্যাচ খেলতে হচ্ছে কেকেআরকে।

বুধবার সন্ধ্যায় যখন টিম হোটেলের লবিতে ঘুরতে দেখা গেল নাইটদের ব্যাটিংয়ের অন্যতম স্তম্ভ রবিন উথাপ্পাকে, তখন তাঁকেও চেনা মুখ দেখে ‘হাই-হ্যালো’ ছাড়া আর কিছু বলতে শোনা গেল না। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, কর্নাটকের এই ব্যাটসম্যান স্পনসরদের প্রচার অনুষ্ঠানেও নাকি যেতে চাইছেন না। দলের মধ্যে এই দম বন্ধ করা পরিবেশ থেকে বার করে আনার জন্যই বোধহয় মর্নি মর্কেল ও রায়ান টেন দুশখাতেকে নিয়ে ডিনারে বেরতে দেখা গেল ওয়াসিম আক্রমকে।             

শহরে এ দিন নাইটরা ঢুকে পড়ার আগেই শ্বশুরবাড়ির শহরে দল নিয়ে চলে আসেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। তার পরই সবাই পুরো বিশ্রামে। শিবিরে একটাই খারাপ খবর, চিপকে হাতে চোট লাগায় দু’টো ম্যাচে খেলতে পারবেন না রবিচন্দ্রন অশ্বিন। বাকিটা পুরোটাই ‘ফিল গুড’ আবহাওয়া। অপ্রত্যাশিত ভাবে হারের আফসোসও নেই বা নারিনের মতো সেরা অস্ত্র খোয়ানোর হা-হুতাশও নেই ‘হুইসল পোড়ু’ শিবিরে। সে জন্যই সেই চেনা হাসি ধোনির মুখে।

নারিনের হঠাৎ নির্বিষ হয়ে পড়া যদি হয় কেকেআরের এক নম্বর সমস্যা, তা হলে ইডেনের আউটফিল্ড অবশ্যই দু’নম্বর। আগের ম্যাচে এক-দেড় ঘন্টার বৃষ্টিতেই ইডেনের ম্যাচ পণ্ড হয়ে গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার নাকি ম্যাচ শুরুর আগে আধ ঘণ্টার মুষলধারে বৃষ্টিতেই সে দিনের মতো দর্শকদের বিফল মনোরথে বাড়ি ফিরতে হতে পারে। সিএবি যুগ্মসচিব সুবীর গঙ্গোপাধ্যায় বললেন, ‘‘গত কাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যার বৃষ্টিতে হয়তো কিছুটা জল কভার চুঁইয়ে ঢুকে আউটফিল্ডের সামান্য ক্ষতি করেছে। কাল ম্যাচের আগে আধ ঘন্টা বৃষ্টি হলেও হয়তো সমস্যা হতে পারে।’’ এ দিন বিকেলেও ইডেনে একটি সুপার সপার চলতে দেখা গেল।

সিএবি-র আবেদনে বিজেপি, বামেরা সাড়া দেওয়ায় বনধ নিয়ে দুশ্চিন্তা কেটেছে ঠিকই। কিন্তু প্রকৃতি তো কোনও আবেদনেই সাড়া দেবে না। এখন সুনীল নারিন নিয়েও নাইটদের কোনও আবেদন ধোপে টিকবে না।

এ বার নিশ্চয়ই উত্তরটা আন্দাজ করতে পারছেন।

গৌতম গম্ভীর কো গুস্সা ইসি লিয়ে আতা হ্যায়!

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন