বিরাট কোহালিদের দলের সহকারী কোচ বাছা নিয়ে চলতে থাকা বিতর্কে এ বার পাল্টা বক্তব্য দিল ক্রিকেট অ্যাডভাইসরি কমিটি। যে কমিটিতে রয়েছেন তিন প্রাক্তন তারকা— সচিন তেন্ডুলকর, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং ভি ভি এস লক্ষ্মণ।

সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত পর্যবেক্ষকের দল কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্‌স (সিওএ)-এর কাছে চিঠি লিখে কমিটি জানায়, তাঁদের ভূমিকা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে নানা রকম লেখালেখি হচ্ছে। শাস্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে চিঠিতে বলা হয়েছে, সহকারী বাছা নিয়ে হেড কোচ খুশি নন বলে রিপোর্ট বেরিয়েছে। এতে কমিটির সদস্যরা হতাশ। বলা হয়েছে, শাস্ত্রীর মতামত নিয়েই রাহুল দ্রাবিড় এবং জাহির খানকে নিয়োগ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, শাস্ত্রীকে কোচ করার রাতেই সৌরভরা বিদেশে ব্যাটিং পরামর্শদাতা হিসেবে দ্রাবিড়ের নাম চূড়ান্ত করেন। সে রাতে জাহিরকে বর্ণনা করা হয়েছিল বোলিং কোচ হিসেবে। বৃহস্পতিবার সৌরভদের দীর্ঘ চিঠি হাতে পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বোর্ড একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে। তাতে রাহুল বা জাহির কারও নাম নেওয়া হয়নি। নাম না করে বলা হয়েছে, ব্যাটিং ও বোলিং পরামর্শদাতা করা হয়েছে।

ক্রিকেট অ্যাডভাইসরি কমিটিকে ফের ধন্যবাদ জানিয়ে বোর্ডের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ব্যাটিং এবং বোলিং পরামর্শদাতাদের নিয়োগ করা হয়েছে সফরভিত্তিক চাহিদা অনুসারে। যার অর্থ, তাঁরা সব সফরে যাবেন না। প্রয়োজন হলে তবেই যাবেন।  নিয়মিত ভাবে দলের সঙ্গে থাকা সহকারী নয়, তাঁরা সম্ভবত থাকবেন পরামর্শদাতা হিসেবে। এ ব্যাপারেও বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কার বলা হয়েছে, দলের চাহিদা অনুযায়ী তাঁদের ব্যবহার করা হবে।

আরও পড়ুন: বার্সেলোনার কারখানায় দুই বঙ্গসন্তান

প্রশ্ন উঠছে, তা হলে কি ব্যাটিং ও বোলিং পরামর্শদাতা ঠিক হয়নি? ফাস্ট বোলিংয়ের ক্ষেত্রে কি কপিল দেব বা ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে সুনীল গাওস্করকে ডাকা হতে পারে?  বোর্ডমহলে খোঁজ নিয়ে জানা গেল সেটা হলেও হতে পারে। সব রকম রাস্তা খোলা থাকছে।

দুই তারকার নিয়োগ নিয়ে আবার নানা জটিলতা থাকছেই। দ্রাবিড় ইতিমধ্যেই অনূর্ধ্ব উনিশ এবং ভারতীয় ‘এ’ দলের কোচের দায়িত্বে রয়েছেন। এদিকে, আসন্ন মরসুমে কোহালিদের বেশির ভাগ সিরিজই বিদেশে। দ্রাবিড় জুনিয়রদের ছেড়ে কতটা সিনিয়র দলের সঙ্গে ঘুরতে পারবেন, তা নিয়ে নিশ্চিত নন কেউ।

চর্চায়: রাহুল, জাহিরদের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন। ফাইল চিত্র

জাহিরও দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের ক্রিকেটার। শেষ আইপিএলেও খেলেছেন। এখনও অবসর ঘোষণা করেননি। বোর্ডের নিয়ম মতো, তাঁকে পরামর্শদাতার ভূমিকা যদি গ্রহণ করতে হয়, তা হলে অবসর নিতে হবে। আবার দ্রাবিড় বা জাহিরের আর্থিক দাবি কী হতে পারে, সেটাও জানা নেই কারও। বোর্ড কর্তাদের কথা ঠিক হলে এই দু’জনের নিয়োগ নিয়ে ডামাডোল সহজে থামার নয়। তা সে যতই অ্যাডভাইসরি কমিটি চিঠি দিক আর বোর্ড তড়িঘড়ি ধন্যবাদ জানিয়ে বিবৃতি পেশ করুক।

ওয়াকিবহাল মহলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দ্রাবিড় বা জাহিরকে নিয়োগ করা হলেও তাঁরা দলের পাকাপাকি অঙ্গ হিসেবে গণ্য হবেন না। টিমের সহকারী কোচেরা কারা হবেন, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়তো সেই হেড কোচ শাস্ত্রী এবং অধিনায়ক কোহালির উপর ছাড়া হবে। আনন্দবাজারে প্রথম লেখা হয়েছিল, শাস্ত্রী বোলিং কোচ হিসেবে আগে অশ্বিনদের সঙ্গে কাজ করে যাওয়া ভরত অরুণকে চান। তিনি কোনও বড় নাম না হলেও থিওরির দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে টিম ম্যানেজমেন্ট জানাতে পারে বোর্ডকে।

প্রয়োজনে অধিনায়ক কোহালি কথা বলতে পারেন বোর্ডের সঙ্গে। দলের বোলারদের মতামতও এ ব্যাপারে নেওয়া হতে পারে। যদি কোহালির মাধ্যমে অশ্বিনরা জানিয়ে দেন, দলের স্বার্থে অরুণকেই দরকার, ফের অধিনায়কের ইচ্ছারই জয় হতে পারে। সেক্ষেত্রে অরুণ দলের সঙ্গে ঘুরবেন বোলিং কোচ হিসেবে। জাহির থাকবেন পরামর্শদাতা হয়ে।

একই ভাবে সঞ্জয় বাঙ্গার থাকবেন ব্যাটিং কোচ। দ্রাবিড় ব্যাটিং পরামর্শদাতা। জাহির বা দ্রাবিড় বেছে বেছে কয়েকটি সফরে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য দলের সঙ্গী হতে পারেন। যদিও কারও কারও মনে হচ্ছে, পুরো বিষয়টাকেই অহেতুক জটিল করে তোলা হল। দু’জন দু’জন করে ব্যাটিং আর বোলিং বিশেষজ্ঞ— এমন আজগুবি জিনিস আগে কখনও দেখা যায়নি। ভারতীয় ক্রিকেট কেন, কোনও দেশেই এমন ঘটেছে বলে মনে করা যাচ্ছে না। 

এটা ঠিক যে, সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত প্রশাসকেরা আঁচ করতে পেরেছেন যে, আগুন নিভেও নিভছে না। সেই কারণেই সৌরভদের চিঠি কিছুক্ষণের মধ্যেই আশ্চর্যজনক ভাবে একটি চ্যানেলে ফাঁস হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে দেয় বোর্ড। সিওএ কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেই যে তা পাঠানো হয়েছে, এ নিয়ে সন্দেহ নেই।

আজ শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের দিন। যদি রায় ঘোষণা হয় তা হলে তোলপাড় পড়ে যাবে ক্রিকেটমহলে। নীরঞ্জন শাহ, নারায়ণস্বামী শ্রীনিবাসনদের প্রশাসনিক কেরিয়ার শেষ হয়ে যাবে।

কারও কারও মনে প্রশ্ন জাগছে, ক্রিকেট অ্যাডভাইসরি কমিটির ভবিষ্যৎ এর পর কী হতে যাচ্ছে? আগামী শনিবার, বিনোদ রাই-রা বৈঠক করবেন। সেখানে এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তেমনই কথা হতে পারে সহকারী নির্বাচন নিয়ে।