বিরাট কোহালি এবং রবি শাস্ত্রীর পুনর্মিলনের মাঝে প্রাচীর তৈরি হয়ে গিয়েছে। সেই প্রাচীরের নাম ক্রিকেট অ্যাডভাইসরি কমিটি। যে কমিটিতে রয়েছেন অতীতের তিন মহাতারকা। সচিন তেন্ডুলকর, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং ভি ভি এস লক্ষ্মণ।

যদিও লক্ষ্মণের ভূমিকা নিয়ে জোরাল প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে, অন্যতম প্রার্থী যেখানে টম মুডি সেখানে লক্ষ্মণ বিচারকের আসনে বসছেন কী ভাবে? তিনি এবং মুডি তো সানরাইজার্স হায়দরাবাদের দুই কোচ হিসেবে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে ডাগ-আউটে বসেন! স্বার্থ সঙ্ঘাতের গুরুতর প্রশ্ন উঠে পড়েছে এ নিয়ে।

আপাতত যদিও লক্ষ্মণের স্বার্থ সঙ্ঘাতের প্রশ্ন নয়। ক্রিকেট জনতা বেশি করে জানতে চায়, কোহালিদের পরবর্তী কোচ কে হবেন? সেটাই সোমবার জানানোর কথা ছিল এবং শেষ পর্যন্ত জানানো গেল না। কমিটির তরফে সৌরভ সাংবাদিকদের জানান, কোচ বাছাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ। নামও নাতি ঠিক হয়ে গিয়েছে। কিন্তু কোহালি ফিরলে তাঁর সঙ্গে কথা বলে তবেই নতুন কোচের নাম ঘোষণা করা হবে।

সৌরভদের পছন্দ করা নাম কোহালির পছন্দের সঙ্গে না-ও মিলতে পারে। কোহালিদের পছন্দ হিসেবে এত দিন এক জনের নামই শোনা যাচ্ছিল— রবি শাস্ত্রী। কিন্তু সৌরভ এ দিন মুম্বইয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে বসে দাবি করেন, কোহালি তাঁদের কাছে কোনও পছন্দের নাম পাঠাননি। তবে সৌরভ এমন বললেও শাস্ত্রীর প্রতি কোহালির সমর্থন নিয়ে ক্রিকেট মহলে কারও সন্দেহ নেই। 

আরও পড়ুন: নীরজ, স্বপ্নারা ছাড়া চমক নেই ভারতের

কোহালির মত জানার জন্য কেন বসে থাকা হচ্ছে, সেটাও রহস্যময়। এই যুগে একটা ফোন বা একটা হোয়াটসঅ্যাপ মেজেস করেই জেনে নেওয়া যেত অধিনায়কের কাকে পছন্দ। তা না করে তিনি ফিরলে ফের বৈঠক করে মতামত জানার সিদ্ধান্ত সমালোচিত হচ্ছে। টুইটার, ফেসবুকে রীতিমতো হাসাহাসি শুরু হয়ে গিয়েছে কোচ নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে। কে বলবে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত দেশের তিন সেরা তারকা!  

ঘোষণা: বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে এলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। জানিয়ে দিলেন, বিরাট কোহালির সঙ্গে কথা বলে নাম চূড়ান্ত করা হবে।ছবি: পিটিআই

কোহালি আবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর শেষ করে আমেরিকা ঘুরতে চলে গিয়েছেন সোমবারেই। তিনি ফিরবেন শ্রীলঙ্কা সফরের ঠিক আগে আগে। দেশে ফিরেই তাঁকে শ্রীলঙ্কার বিমান ধরতে হবে। তার মধ্যে এসে পড়ল কোচ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। ওয়েস্ট ইন্ডিজগামী বিমানে তাঁর পাশে কুম্বলে ছিলেন না। যাত্রার দিনেই কোচ পদত্যাগ করেন। এ বারও শ্রীলঙ্কাগামী উড়ানে নতুন কোচ না-ও উঠতে পারেন। তত দিনে কোচের নাম চূড়ান্ত হবে কি না, তা নিয়েই তীব্র ডামাডোল বেধে গিয়েছে।

ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে, শাস্ত্রীর নাম কোচ হিসেবে খুব সহজে পাশ করবেন না সৌরভ। পুরনো তিক্ততা মেটার কোনও লক্ষণ এখনও নেই। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, তাঁর সঙ্গে এ ব্যাপারে গলা মেলাতে পারেন লক্ষ্মণ। শোনা যাচ্ছে, কোহালির প্রতি স্নেহশীল সচিন তাঁর ইচ্ছাকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন। কিন্তু সেটাও পরের বৈঠক পর্যন্ত গড়াচ্ছে।

যদিও শাস্ত্রী এ দিন ইন্টারভিউ দেওয়ার সময় গত বারের মতো কোনও বিতর্কিত ঘটনা ঘটেনি। বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই সময় সৌরভ নিজেও উপস্থিত ছিলেন। শাস্ত্রী ছাড়াও ইন্টারভিউ দিলেন সহবাগ, মুডি, রিচার্ড পাইবাস, লালচাঁদ রাজপুত। সহবাগ শুধু ইন্টারভিউ দিতে সশরীরে হাজির হয়েছিলেন। ইন্টারভিউ দিতে আসেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রাক্তন ক্রিকেটার ও কোচ ফিল সিমন্স।

কিন্তু সোমবারের পরে যা পরিস্থিতি, সৌরভের সঙ্গে কোহালির ঠান্ডা যুদ্ধ না শুরু হয়ে যায়। সৌরভ এ দিন বলেছেন, ‘‘কোচেদের কাজের ভঙ্গিমা কোহালিকে বুঝতে হবে।’’ যা নিয়ে দ্রুতই বিতর্ক শুরু হয়ে যায়। প্রশ্ন উঠে পড়ে, ভারত অধিনায়ককে কি বার্তা পাঠালেন সৌরভ যে, কোচের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েও চলতে হয়? আকার ইঙ্গিতে কি বুঝিয়ে দিতে চাইলেন, কুম্বলের অপসারণ নিয়ে খুব একটা খুশি হতে পারেননি?

গত বছর কোচ নির্বাচনের এমনই প্রক্রিয়া থেকে রবি শাস্ত্রীকে সরিয়ে অনিল কুম্বলেকে বেছে নিয়েছিলেন সৌরভ-লক্ষ্মণরা। তখন দুই অধিনায়ক কোহালি বা ধোনির সঙ্গে কথা না বলেই কোচ বাছা হয়। এ বার সৌরভরা একই ভুল করতে চান না বা বোর্ডও চায় না বিতর্কের পুনরাবৃত্তি ঘটুক, সেটা একটা দিক। আর একটা দিক হচ্ছে, কুম্বলের বিদায় নিয়ে ভিতরে ভিতরে কোহালির প্রতি খুব প্রসন্ন না-ও হয়ে থাকতে পারেন সৌরভ, লক্ষ্মণরা। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, সৌরভরা চেয়েছিলেন, ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে কুম্বলে-কোহালি ফের একসঙ্গে ঘর করুন। কিন্তু অনড় কোহালি সেই রফাসূত্র মানতে চাননি।

কোহালিকে তাই নিজের পছন্দের কোচ হিসেবে শাস্ত্রীকে ফেরত আনতে হলে দ্বিতীয় রাউন্ডের যুদ্ধে নামতে হবে। সৌরভদের কমিটির সামনে উপস্থিত হয়ে জোর দিয়ে বলতে হবে, ইয়েস, আমি ওঁকেই চাই। কারও কারও মনে হচ্ছে, জেদি কোহালি সেটাই করতে পারেন। তাঁকে সমর্থন করার জন্য পরবর্তী বৈঠকে বোর্ডের অন্য কর্তারা এবং কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস-ও থাকতে পারেন।

সৌরভদের কমিটি তা হলে কাকে  পছন্দ করল? কোনও নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি। শোনা যাচ্ছে, সহবাগের প্রেজেন্টশন মোটেও আহামরি ছিল না। ভাল প্রেজেন্টেশন দেন শাস্ত্রী এবং মুডি। কে বেশি ভোট পেলেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। যেটা নিয়ে কোনও সংশয়ই নেই, তা হচ্ছে, কোচ নির্বাচন পর্বকে প্রহসনের পর্যায়ে নামিয়ে আনা হল!