কলকাতা লিগের ঢাকে কাঠি পড়েও যেন পড়ল না। প্রথম দিনই বৃষ্টির জেড়ে  পরিত্যক্ত হয়ে গেল খেলা। ২০১৮ কলকাতা লিগের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল ও টালিগঞ্জ অগ্রগামী। ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল বৃষ্টি। যত সময় গড়িয়েছে ততই মাঠের অবস্থা খারাপ হয়েছে। তাও কোনও রকমে প্রথমার্ধ শেষ হলেও দ্বিতীয়ার্ধের খেলা আর চালানো গেল না। কারণ বৃষ্টি কাদায় মাঠের অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল যে বল আটকে যাচ্ছিল বার বার। এর পর দু’পক্ষের সঙ্গে কথা বলে ও ম্যাচ কমিশনারের সঙ্গে আলোচনার পর ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করে দেয় রেফারি।

এ দিন প্রথম থেকে ঘরের মাঠে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। সঙ্গে ছিল গত পাঁচ বছরের ইতিহাস। যেখানে ইস্টবেঙ্গলকে কখনওই হারাতে পারেনি টালিগঞ্জ। কিন্তু এ বার সেই টালিগঞ্জ অগ্রগামীর দায়িত্বে রয়েছেন ইস্টবেঙ্গলের ঘরের ছেলে মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাই উল্টোদিকে থাকা আরও এক ইস্টবেঙ্গলের ঘরের ছেলে সুভাষ ভৌমিকের সঙ্গে লড়াইটা প্রথম ম্যাচেই ছিল হাড্ডাহাড্ডি। ম্যাচ শুরুর এক মিনিটের মধ্যেই গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন আইদারা। ডিকার ক্রস থেকে আইদারার শট রিচার্ডের গায়ে লেগে চলে যায় গোলে। এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল।

প্রথমে গোল হজম করে কিন্তু থমকে যায়নি টালিগঞ্জ। বরং সেখান থেকেই লড়াই শুরু করে মনোরঞ্জনের ছেলেরা। ৩০ মিনিটে গোলও পেয়ে যায় কমলা ব্রিগেড। ড্যানিয়েল বিদেমির পাস থেকে লাগসের শট দ্বিতীয পোস্ট ঘেঁষে চলে যায় গোলে। ততক্ষণে জল জমতে শুরু করেছে মাঠে। সেই অবস্থাতেই চলতে থাকে প্রথমার্ধের খেলা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে মাঠ দেখে আর খেলা শুরু করেনি রেফারি। ম্যাচ কমিশনার বিকাশ মুখোপাধ্যায় ঘোষণা করে দেন ম্যাচ পরিত্যক্ত। কলকাতা লিগের ইতিহাসে এমনটা নাকি প্রথম হল, উদ্বোধনী ম্যাচ ভেস্তে গেল।

আরও পড়ুন
শেষ পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের ভিসা পেল ভারতীয় সাইক্লিং দল

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ কমিশনার ম্যাচ বাতিল করে দেওয়ার রীতিমতো বিরক্ত টালিগঞ্জ কোচ মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, সেই সময় মাঠ থেকে জল নেমে গিয়েছিল। খেলা বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না। ম্যাচ কমিশনার চোট-আঘাতের কথা বলে ম্যাচ বাতিল করেন। কিন্তু মনোরঞ্জনের দাবি, তাই যদি করতে হত তা হলে এই ম্যাচটি বিরতির ১৫ মিনিট আগেই বাতিল করে দেওয়া উচিত ছিল। প্রশ্ন উঠছে ম্য়াচ কমিশনারের ভূমিকা নিয়েও।