তাইল্যান্ড ওপেন জিতে গোটা দেশে ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলেছেন ব্যাডমিন্টন জুটি চিরাগ শেট্টি ও সাত্ত্বিকসাইরাজ রানকিরেড্ডি। ডাবলসে ভারতের এই দুই ব্যাডমিন্টন প্রতিভা ইতিমধ্যেই নিজেদের পরবর্তী লক্ষ্যও ঠিক করে ফেলেছেন। তা হল,আগামী সপ্তাহ থেকে বাসেলে শুরু হতে চলা বিশ্ব ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত ফল করে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।

চিরাগ ও সাত্ত্বিক ব্যাডমিন্টনে ভারতের প্রথম ডাবলস জুটি যাঁরা বিশ্ব ব্যাডমিন্টন সংস্থার সুপার ৫০০ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন গত রবিবার। যার সুবাদে এই মুহূর্তে তাঁদের র‌্যাঙ্কিং প্রথম দশের মধ্যে চলে এসেছে। গত মঙ্গলবার ব্যাডমিন্টনের যে ডাবলস র‌্যাঙ্কিং প্রকাশিত হয়েছে, তাতে সাত ধাপ এগিয়ে এসে নবম স্থানে রয়েছে এই জুটি। 

প্রথম দশে ঢুকে পড়ার আনন্দে মুম্বইয়ের ছেলে চিরাগ বলেন, ‘‘এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত প্রথম দশে থাকতেই হবে। না হলে আসন্ন টোকিয়ো অলিম্পিক্সে অংশ নেওয়া সমস্যা হয়ে যাবে। তাই আগামী ছয় মাস খুব গুরুত্বপূর্ণ আমাদের কাছে। কাজটা মোটেও সহজ নয়।’’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘‘তাই আমাদের লক্ষ্য আগামী ছয় মাসে যে প্রতিযোগিতাগুলোতে খেলব, সেখানে চ্যাম্পিয়ন হতে হবে। সেটা না হলে সেমিফাইনাল বা কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা বাধ্যতামূলক। তা হলেই র‌্যাঙ্কিংয়ে আরও এগিয়ে যেতে পারব আমরা।’’

তাইল্যান্ড ওপেনে প্রথম থেকেই এই ভারতীয় জুটি কোর্টে ঝড় তুলে এগিয়েছে। দ্বিতীয় রাউন্ডে তাঁরা হারিয়েছিলেন গত এশিয়ান গেমসে রুপোর পদক পাওয়া জুটি ফজ়র আলফিয়ান ও মুহম্মদ রিয়ান আর্দিয়ান্তোকে। তার পরে সেমিফাইনালে এই ভারতীয় জুটির কাছে হারেন প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জুটি কো সুং হিয়ুন ও শিন বায়েক চিয়োল। আর ফাইনালে চিরাগ-সাত্ত্বিক জুটির কাছে হারেন বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন  লি জুন হুই ও লিউ ইউ চেন। 

আর বিশ্বের সেরা সব জুটিকে এ ভাবে হারানোর পরেই আত্মবিশ্বাস এক ধাপে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে এই ভারতীয় জুটির। যা মেনে নিচ্ছেন চিরাগ নিজেও। তাঁর কথায়, ‘‘আগামী সপ্তাহেই শুরু হবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ। আশা করছি, সেই প্রতিযোগিতায় আমাদের ফল ভালই হবে। তাইল্যান্ডে বিশ্বের সেরা সব ডাবলস জুটিকে হারানোর পরে আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে রাতারাতি। আমরা ফেভারিট নই সেটা ঠিক। কিন্তু নিজেদের সেরা খেলাটা উজাড় করে দিলে পদক আমরা পেতেই পারি। এই আত্মবিশ্বাস রয়েছে।’’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘‘বিশ্বসেরা হওয়ার রসদ আমাদের রয়েছে। কারণ, তাইল্যান্ডে প্রতিযোগিতা খুব উচ্চমানের ছিল। যা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের সমতুল্য। সে কারণেই আসন্ন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ভাল ফল করতে মুখিয়ে রয়েছি আমরা।’’

বছরের শুরুতে চোটের কারণে অনেক প্রতিযোগিতাতেই ছন্দে খেলতে পারেনি এই জুটি। কিন্তু এই মুহূর্তে হারানো ছন্দ ফিরে পেয়েছে চিরাগ-সাত্ত্বিকরা। সে প্রসঙ্গ তুলে চিরাগ বলে দেন, ‘‘চার-পাঁচ মাস প্রতিযোগিতামূলক টেনিসে খেলিনি আমরা। তাই কোর্টে প্রত্যাবর্তনের পরে একটু ধন্দে ছিলাম। কারণ, এই প্রথম বার এ রকম একটা দীর্ঘসময় কোর্টের বাইরে ছিলাম আমরা। কিন্তু ব্রাজিল ওপেন জেতার পরেই নিজেদের আত্মবিশ্বাস ও ছন্দ ফিরে পেয়েছিলাম আমরা।’’