এটা কী বললেন মোহনবাগান সভাপতি টুটু বসু! লিগ জয়ের আনন্দ থাকতেই পারে। তাই বলে এমন মন্তব্য করবেন! যা শুনে, অসম্মানিত হতে হবে এ সমাজকে।

লিগ জয়ের আনন্দের সঙ্গে সমাজের একটা অন্ধকারময় উদাহরণকে টেনে এনে কোন সংস্কৃতির পরিচয় দিলেন তিনি? প্রশ্নটা তুলতে হচ্ছে। কারণ, বুধবার লিগ জয়ের দিন তিনি একটি সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, ‘‘সাত বার মেয়ে হওয়ার পর ছেলে হলে যেমন লাগে, তেমন অনুভূতি।’’ তাঁর এই মন্তব্যে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।

এ দিনের সাফল্যের পিছনে হয়তো ক্লাবের অনেক লড়াই রয়েছে। কিন্তু সেই লড়াইটা এক মুহূর্তেই নষ্ট করে দিলেন মোহনবাগান সভাপতি। টুটু বসুর মন্তব্য শুনে স্তম্ভিত সমাজকর্মী রত্নাবলীরায়। তাঁর কথায়, ‘‘আমি কি ঠিক শুনছি? নাকি আমারই কোথাও ভুল হচ্ছে? বুঝতে পারছি না!এতদিন ধরে যে লড়াইটা লড়ছি, সব মিথ্যে হয়ে যাবে?’’

বিস্ময় ছড়িয়ে পড়েছে চিত্র পরিচালক শতরূপা সান্যালের স্বরেও। টুটুর মন্তব্য শুনে প্রথমে একটি শব্দই ভেসে এল, ‘‘ছিঃ।’’কিছুটা নিস্তব্ধতা। যেন হজম করতে সময় লাগল খানিকটা। তার পর বললেন, ‘‘আমার জানতে ইচ্ছে করছে, সাত বার মেয়ে হওয়ার পর ছেলে হলে কেমন অভিজ্ঞতা হয়, তা উনি কী করে জানলেন? ওঁর তো এমন অভিজ্ঞতা হয়নি। চূড়ান্ত বাজে মানসিকতার পরিচয়। মেয়েদের পক্ষে অপমানজনক।’’

টুটুর মন্তব্য শুনে একরাশ হতাশা নিয়ে সাহিত্যিক তিলোত্তমা মজুমদার বলছিলেন, ‘‘লিগ জিতে এত দিন পর যে সম্মান, গর্ব পুনরুদ্ধার করল মোহনবাগান, তা এক লহমায় শেষ করে দিলেন উনি। এ তো কন্যা ভ্রুণ হত্যার সামিল। একই রকম অপরাধ করলেন তিনিও। মোহনবাগানের উৎসবটাই তো নষ্ট করে দিলেন।’’

আরও পড়ুন: ‘সাত বার মেয়ে হওয়ার পর ছেলে হলে যেমন লাগে’, বিতর্কিত মন্তব্যে ফাঁসলেন টুটু

এ দিন রাতে যখন রত্নাবলী কথা বলছেন, তখনও তাঁর আশ্চর্য হওয়ার ঘোর কাটেনি যেন। তিনি বললেন, ‘‘পুরুষ-নারীর সমানাধিকারের জন্য আমরা যে বিরাট আন্দোলনে নেমেছি,লড়াই করছি তাতে তো এই মানুষগুলোকেই আমাদের পাশে চাই। টুটু বসুরা আমাদের পাশে না থাকলে কী করে হবে? নিরানন্দ ছুঁয়ে গেল। ইহা কি ঠিক শুনিলাম?’’

নারী আন্দোলনের কর্মী শাশ্বতী ঘোষ তো মজা করে বলেই ফেললেন, ‘‘মেয়ে হওয়ার জন্য যে বাবারাই দায়ী থাকেন। বাবাদের জন্যই মেয়ে সন্তান হয়। মেয়ে হয়ে তা হলে এ বার বাবাদের চিহ্নিত করা হবে তো?’’ এর সঙ্গে তিনি জুড়ে দেন, ‘‘মজা করলাম বটে, কিন্তু পাবলিক ফোরামে দাড়িয়ে এমন একজন মানুষের থেকে এই মন্তব্য অপ্রত্যাশিত। কত মেয়ে আজকাল ফুটবল মাঠে যায়। এই লিগেই তো দেখেছি টেলিভিশনের পর্দায় মেয়েরা গ্যালারিতে বসে খেলা দেখছে। তা হলে তো যারা মাঠে আসছেন তাঁদের প্রতিও অপমানজনক।’’

বুধবার মোহনবাগান খেলতে নেমেছিল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যেই। প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়েও গিয়েছিল। জয়ের উৎসব শুরু হয়ে গিয়েছিল গোটা গ্যালারি জুড়ে। নানা বিতর্ক, নানা রেষারেষি ভুলে মাঠে হাজির হয়েছিলেন সব কর্তারা। জয় এল। কিন্তু,একটা মন্তব্যেই সব ভেস্তে দিলেন মোহনবাগান সভাপতি।