প্রথমার্ধে গোল না হওয়ায় বিদ্রুপ শুনতে হয়েছিল তিতের দলকে। কিন্তু কোপা আমেরিকার গ্রুপ লিগের প্রথম ম্যাচে শেষ পর্যন্ত চওড়া হাসি মুখে নিয়েই মাঠ ছাড়ল ব্রাজিল। নেমার দা সিলভা  স্যান্টোস জুনিয়র ছাড়াই বলিভিয়ার বিরুদ্ধে তিন গোলে জিতল সাম্বার দেশ। জোড়া গোল করলেন বার্সেলোনা তারকা ফিলিপ কুটিনহো। অন্য গোল করে গেলেন পরিবর্ত হিসেবে নামা এভার্টন।

‘‘দর্শকরা দলের জয় দেখতে চান। তাঁরা বিদ্রুপ করতেই পারেন। জয়ের পরে একই দর্শকরা কিন্তু উৎসবও করেছেন গ্যালারিতে। ভাল করেই জানি, বিদ্রুপ এবং উৎসব— দুটোই খেলার অঙ্গ। তবে আমরা নিজেদের লক্ষ্য ঠিক রেখেছিলাম। তাই জিততে অসুবিধা হয়নি,’’ ম্যাচের পরে বলে দিয়েছেন জোড়া গোলের নায়ক কুটিনহো। পাশাপাশি বার্সেলানা তারকার মন্তব্য, ‘‘প্রথম ম্যাচে জেতাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেটা আমরা পেয়েছি।’’

ব্রাজিলিয়ান মডেলকে ধর্ষণে অভিযুক্ত নেমার চোট পেয়ে কোপা থেকে ছিটকে যাওয়ার পরে বেশ চাপে ছিল ব্রাজিল। শুক্রবার রাতে সেটাই সম্ভবত শুরুতে কাজ করেছিল। বিরতি পর্যন্ত তাই ম্যাচ ছিল গোলশূন্য। তিতের দল প্রথম গোল পায় কুটিনহোর পেনাল্টি থেকে। দ্বিতীয় গোলও করেন কুটিনহো তিন মিনিটের মধ্যে। বলিভিয়া দশ জনকে গোলের সামনে দাঁড় করিয়ে রুখতে চেয়েছিল ব্রাজিলকে। কিন্তু বলিভিয়া রক্ষণে কুটিনহোর একের পর এক বাঁকানো সেন্টার মানব-প্রাচীর ভাঙার চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। এক সময় সফলও হন তিনি। রবের্তো ফিরমিনোর ফ্লিক রুখে দেন বলিভিয়া গোলকিপার কার্লোস লাম্পে। হ্যাটট্রিক করতে পারতেন কুটিনহো। বেশ কয়েকটি সুযোগও পেয়েছিলেন। থিয়াগো সিলভাও গোল করতে পারতেন। কিন্তু অল্পের জন্য তাঁর শট লক্ষ্যভ্রস্ট হয়।

সাও পাওলোর মরুম্বি স্টেডিয়ামে প্রায় সাতষট্টি হাজার দর্শক এসেছিলেন খেলা দেখতে। বেশির ভাগই ছিলেন হলুদ জার্সির সমর্থক। বিরতি পর্যন্ত গোল না পেয়ে নেমারহীন ব্রাজিলকে নানা ভাবে বিদ্রুপ করতে থাকেন তাঁরা। কিন্তু গোল পাওয়ার পরই শুরু হয়ে যায় উৎসব। বলিভিয়ার কোচ ভিলোগাস বলেছেন, ‘‘যে কোনও ম্যাচ জিততে হলে আক্রমণ করতে হয়। আমরা সেটা করেছিলাম দু’একবার। তা দিয়ে ব্রাজিলকে হারানো যায় না। পেনাল্টি থেকে গোল হয়ে যাওয়ার পরেই ম্যাচ হাতের বাইরে চলে যায়।’’

ধীর গতির ম্যাচে ব্রাজিলের তিনটি গোলের মধ্যে সেরা ছিল এভার্টনের গোল। বাঁ দিক থেকে কাট করে ঢুকে অসাধারণ একটি শটে গোল করে যান এই পরিবর্ত ফুটবলার।