আসন্ন বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের আসল ‘মস্তিষ্ক’ মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। ইংল্যান্ডে ক্যাপ্টেন কুল-ই হয়ে উঠতে পারেন তুরুপের তাস। এমনটাই মনে করছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন কিংবদন্তি ক্রিকেটার জ়াহির আব্বাস।

দু’হাজার সাতে ধোনির নেতৃত্বে ভারত জেতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। দু’হাজার এগারোয় ওয়ান ডে-তে বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি।  ভারত তাঁর নেতৃত্বেই দু’বার জেতে এশিয়া কাপ (২০১০, ২০১৬)। সঙ্গে ২০১৩-র চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিও।

উইকেটের পিছনে ধোনির ক্ষিপ্রতা আজও প্রশ্নাতীত। তবে ক্রিকেট মহলে অনেকে মনে করছেন, ‘ফিনিশারের’ ভূমিকায় এখন আর আগের মতো দক্ষ তিনি নন। কিন্তু জ়াহির মনে করেন, বিশ্বকাপের মতো সুবিশাল মঞ্চে ধোনির অভিজ্ঞতার মূল্য অপরিসীম।

আরও পড়ুন: কোহালি থেকে বুমরা, ভারতের বিশ্বকাপ দলের কোন বিভাগে সেরা কারা

জ়াহির বলেছেন, ‘‘ভারতীয় দলে একজন সত্যিকারের ‘জিনিয়াস’ রয়েছে। তার নাম মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। ও-ই ভারতীয় দলের মস্তিষ্ক। ক্রিকেটটা অসম্ভব ভাল বোঝে। তা ছাড়া ধোনির নেতৃত্বে ভারত দু’বার বিশ্বকাপও জিতেছে।’’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘‘ভারতীয় দলের অধিনায়ক (বিরাট কোহালি) এবং কোচের (রবি শাস্ত্রী) কাছে ওর অভিজ্ঞতার মূল্য মারাত্মক। ধোনিই বিশ্বকাপে ভারতের তুরুপের তাস হয়ে উঠতে পারে।’’

জ়াহির আব্বাসের আরও কথা, ‘‘মনে রাখতে হবে বিরাট কোহালির নেতৃত্বে এই প্রথম ভারত বিশ্বকাপে খেলবে। নিশ্চিত ভাবে বিরাটও চেষ্টা করবে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে।’’ সঙ্গে পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক মনে করেন ইংল্যান্ডের পিচ ভারতীয় ব্যাটিংয়ের পক্ষে খুবই উপযোগী হয়ে উঠতে পারে। বিরাটদের ৪০০ থেকে ৪৫০ রানের ইনিংস গড়ার সম্ভাবনা তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

জ়াহির বলেছেন, ‘‘সদ্য শেষ হওয়া ইংল্যান্ড-পাকিস্তান সিরিজের দিকে তাকান। সেখানে বারবার ৩০০-র বেশি স্কোর হয়েছে। সেই রান তাড়া করেছে দু’দলই। আমার তো মনে হচ্ছে, বিশ্বকাপে ৪৫০ রানের ইনিংসও দেখা যাবে। তার উপর উইকেটে ঘাস থাকছে না। আবহাওয়া যা, তাতে বোলাররাও বিশেষ সুবিধে পাবে বলে মনে হয় না।’’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘‘ভারতীয় দলের ব্যাটিং অসম্ভব শক্তিশালী। গভীরতাও রয়েছে। ইংল্যান্ডের পরিবেশের পুরো ফায়দা ওরা তুলতে পারে। আর ইংল্যান্ডের উইকেট তো এখন আক্ষরিক অর্থে ব্যাটসম্যানদের স্বর্গ।’’

এই মুহূর্তে ভারতীয় দলে কে চার নম্বরে ব্যাট করবেন তা নিয়ে প্রচুর আলোচনা হচ্ছে। ‘এশিয়ার ব্র্যাডম্যান’ বলা হয় যাঁকে, সেই জ়াহিরের এই প্রসঙ্গে বক্তব্য, ‘‘এটা ঠিক করবে অধিনায়ক। তবে আমার ব্যক্তিগত মত, প্রথম চারজনের জায়গাটা ঘনঘন পরিবর্তন করা ঠিক নয়। মিডল অর্ডারের নীচের দিকে সেটা করা যেতে পারে। কিন্তু কখনওই উপরের
দিকে নয়।’’

জ়াহির নিজে ১৯৬৯ থেকে ১৯৮৫ সালের মধ্যে পাকিস্তানের হয়ে ৭৮টি টেস্ট ও ৬২টি ওয়ান ডে খেলেছেন। জানিয়েছেন, এ বারের বিশ্বকাপে ভারত ছাড়া সেমিফাইনালে খেলার দাবিদার, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজ়িল্যান্ড ও ইংল্যান্ড। জ়াহিরের কথায়, ‘‘বিশ্বকাপের যা কাঠামো, ইংল্যান্ডে আবহাওয়া যা, তাতে এই বিশ্বকাপে ক্রিকেটারদের ফিটনেস একটা বড় ব্যাপার। আমার মতে, শারীরিক দিক থেকে যারা সেরা জায়গায় থাকবে তারাই শেষ চারে খেলবে।’’

পাকিস্তান দল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জ়াহিরের বিশ্লেষণ, ‘‘আমাদের দলটায় বেশ কয়েক বার পরিবর্তন হয়েছে জানি। তবু আমি এই দলটাকেই এখনকার সেরা বলব।’’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘‘বিশ্বকাপের ঠিক আগে ইংল্যান্ডের কাছে সিরিজ হারা নিয়ে ভাবার দরকার নেই। বরং এখন শুধু বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবতে হবে। তবে সবার আগে আমাদের ফিল্ডিংয়ে উন্নতি করতে হবে।’’

বিশ্বকাপে বারবার পাকিস্তান ভারতের কাছে হারে। এ বার কি ছবিটা পাল্টাবে? জ়াহিরের জবাব, ‘‘রেকর্ডের বিচার করতে বসলে অবশ্যই পাল্লা ভারতের দিকে ভারী। কিন্তু পাকিস্তান নিজেদের দিনে যে কোনও দলকে হারাতে পারে। কারা চাপটা ঠিকমতো সামলাতে পারছে, তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। কোনও সন্দেহ নেই ভারত-পাকিস্তান লড়াই এ বারের বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ম্যাচ হতে যাচ্ছে। কে জিতল বা হারল সেটা বড় ব্যাপার নয়।’’

বিশ্বকাপে ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ ১৬ জুন। ম্যাঞ্চেস্টারে। জ়াহির মন্তব্য করেছেন, ‘‘আমার কাছে ভারত-পাকিস্তান মানে অ্যাশেজের থেকেও বড় ব্যাপার। প্রতিটি ক্রিকেট ভক্তের মতো আমিও এই ম্যাচটার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকি।’’