গত সপ্তাহেই ১৬ বছর বয়সে কমনওয়েলথ শুটিংয়ে ভারতের হয়ে সোনা জিতেছিল মনু ভাকের। সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই সবচেয়ে কম বয়সে মনুর কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জয়ের সেই রেকর্ড শুক্রবার ভেঙে গেল।

নতুন ইতিহাস গড়ল ভারতীয় দলের আর এক শুটার! পুরুষদের ২৫ মিটার র‌্যাপিড ফায়ার পিস্তল বিভাগে সোনাজয়ী সেই অনীশ ভানওয়ালার বয়স ১৫।  দেশে ফিরেই যাকে বসতে হবে দশম শ্রেণীর সিবিএসই পরীক্ষায়। ভারতের এই প্রতিভাবান শুটারের তিনটি পরীক্ষা অনীশ দেশে ফেরার পরে নেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পরীক্ষা নিয়ামকরা। পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে হরিয়ানার এই বিষ্ময়বালকের অন্যতম প্রিয় বিষয় অঙ্ক। শুক্রবার ব্রিসবেনে ৩০ পয়েন্ট তুলে সোনা জয়ের পরে উচ্ছ্বসিত অনীশ বলে যায়, ‘‘কমনওয়েলথ গেমসে এসে সবচেয়ে কম বয়সি ভারতীয় হিসেবে সোনা জিতে দারুণ লাগছে। সোনা জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। এ বার দেশে ফিরে পরীক্ষায় বসতে হবে।’’

অনীশের পাশাপাশি বেলমন্ট শুটিং সেন্টারে ভারতের হয়ে সোনা জিতলেন প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন তেজস্বিনী সবন্ত। ৫০ মিটার রাইফেল থ্রি পজিশন বিভাগে সোনা জিতলেন তিনি। এই বিভাগে রুপো জিতলেন অ়ঞ্জুম মৌদগিল।

বক্সিংয়ে ব্রোঞ্জ পেলেন তিন ভারতীয়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নমন তানওয়ার (৯১ কেজি), মহম্মদ হুসামুদ্দিন (৫৬ কেজি) এবং মনোজ কুমার (৬৯ কেজি)। তবে বিকাশ কৃষণ (৭৫ কেজি), সতীশ কুমার (৯১ কেজির বেশি), অমিত পাঙ্ঘল (৪৯ কেজি) গৌরব সোলাঙ্কি (৫২ কেজি) ও মণীশ কৌশিক (৬০ কেজি) ফাইনালে যাওয়ায় কমনওয়েলথ গেমস বক্সিংয়ে এটাই এ পর্যন্ত ভারতের সেরা সাফল্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতীয় বক্সিং দলের ‘হাই-পারফরম্যান্স ডিরেক্টর’ সান্তিয়াগো নিয়েভা বলছেন, ‘‘অভাবনীয় ফল। ফাইনালে যারা গিয়েছে তারা প্রত্যেকেই সোনা জিতবে বলে বিশ্বাস রয়েছে।’’ তবে হকিতে এ দিন সোনার স্বপ্নভঙ্গ হল ভারতের। সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে ২-৩ হারল তারা। এস ভি সুনীলদের এ বার লড়তে হবে ব্রোঞ্জ পদকের জন্য। গত দু’টি কমনওয়েলথ গেমসে রুপো পেয়েছিল ভারত।

স্কোয়াশের মিক্সড ডাবলস ফাইনালে গিয়েছে দীপিকা পাল্লিকাল ও সৌরভ ঘোষাল জুটি। সেমিফাইনালে তাঁরা হারিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের জোয়েল কিং-পল কোল জুটিকে।