এশিয়াডের দল গঠনের জন্য শিলংয়ে যে জাতীয় শিবির চলছে সেখান থেকে আট দিন আগেই মণিপুরের বাড়িতে ফিরে গিয়েছিলেন সঞ্জিতা চানু। শিবিরে শুক্রবার বিকেলে ফোন করে জানা গেল, শিবির ছাড়ার সময় সতীর্থদের তিনি বলে গিয়েছেন কোমরের ব্যথার জন্য বাড়ি যাচ্ছেন।

বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, মূত্রের নমুনা পরীক্ষায় কিছু ধরা পড়েছে আন্দাজ করেই সম্ভবত আর শিবিরে থাকতে চাননি সঞ্জিতা। অন্য একটি সূত্র অবশ্য বলছে, সাময়িক নির্বাসনের জন্য তাঁকে ফেডারেশনের পক্ষ থেকেই শিবির ছাড়তে বলা হয়েছে। ঘটনা যাই হোক ডোপ পরীক্ষায় ধরা পড়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় কমনওয়েলথ গেমসে রেকর্ড গড়া সোনা জয়ী মেয়ে বলে দিয়েছেন, ‘‘আমি নির্দোষ। কোনও নিষিদ্ধ ওষুধ নিইনি। জাতীয় ফেডারেশনের সাহায্য নিয়ে আমি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই লড়ব।’’ জানা গিয়েছে, সঞ্জিতার মূত্রের নমুনা ডোপ পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছিল নভেম্বরের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের আগে। সম্ভবত সে জন্যই তাঁর পাশে সাহায্যের জন্য দাঁড়িয়ে গিয়েছেন ফেডারেশনের সচিব সচদেব যাদব। ‘‘আমি বুঝতে পারছি না এতদিন পর কেন ডোপিংয়ের দায়ে অভিযুক্ত করা হল সঞ্জিতাকে। ওই নমুনা নেওয়ার পর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে নেমেছেন এবং কমনওয়েলথে সোনা জিতেছেন সঞ্জিতা। আমরা এ বার ‘বি’ নমুনা পরীক্ষার জন্য আবেদন জানাব। এবং সেই ফল আসার পর নামী আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে আন্তর্জাতিক ফেডারেশনের কাছে সওয়াল করব।’’

কার্যক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, ‘এ’ নমুনা পরীক্ষায় কোনও অ্যাথলিট ডোপিং করেছেন প্রমাণিত হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তিনি দোষী প্রমাণিত হন। ‘বি’ নমুনা পরীক্ষার ফলেও হেরফের হয় না। কারণ বিশ্ব ডোপ বিরোধী সংস্থা (ওয়াডা়) সব দিক খতিয়ে দেখার পরই একজনকে দোষী সাব্যস্ত করে। ফলে সঞ্জিতার এই অভিযোগ থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন। তাঁকে সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করা হলেও এর পরে চার বছরের জন্য নির্বাসনের শাস্তি প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু সঞ্জিতার কমনওয়েলথ গেমস পদক কেড়ে নেওয়া হবে কী না তা নিয়ে সংশয় কাটেনি।

২০১৬ সালে সুশীলা পানওয়ার ডোপ পরীক্ষায় ধরা পড়েছিলেন। তারপর আবার সঞ্জিতা। তাঁর ‘বি’ নমুনাতে যদি ডোপিং করেছেন প্রমাণিত হয় তা হলে টোকিও অলিম্পিক্সে  সমস্যায় পড়বে ভারত। কারণ নিয়ম হল, ডোপ পরীক্ষায় যত জন ধরা পড়বেন, শাস্তি হিসেবে অলিম্পিক্সে সংশ্লিষ্ট দেশের ততগুলি অ্যাথলিটের জায়গা কমে যাবে।