শুধু শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইন-আপকে দুরমুশ করলেন না, কপিল দেবের মাইলস্টোনও পেরিয়ে গেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি পেসার ডেল স্টেন (৪৩৭)। সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেট শিকারিদের তালিকায় কপিলকে (৪৩৪) পেরিয়ে এখন তিনি সাত নম্বরে।  কপিল নয় নম্বরে।

বৃহস্পতিবার ডারবানে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে তাঁর বোলিং দাপটে ১৯১ রানে অল আউট হয়ে গেল শ্রীলঙ্কা। স্টেন চার উইকেট নেন ৪৮ রান দিয়ে। শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংয়ের শুরু থেকে মাঝের চার ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে তাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন ৩৫ বছর বয়সি পেসার। টানা দশ ওভারের স্পেলও করেন তিনি। দিনের শেষে স্টেন বলেছেন, ‘‘দু’বছর বাইরে থাকার পরে আবার মাঠে নামার সুযোগ পাওয়াটা আশীর্বাদের মতো।’’ এ দিন কপিলকে টপকে যাওয়ার পথে লম্বা স্পেল করেন স্টেন। যা নিয়ে এই ফাস্ট বোলার বলেছেন, ‘‘চার উইকেট নেওয়ার পরে আমি বিশ্রাম নিতে পারতাম। ফাইন লেগে দাঁড়িয়ে থাকতে পারতাম। কিন্তু আমি সেটা করতে চাইনি। এই ভাবে উইকেট পেতে দারুণ মজা লাগছে। ব্যাটসম্যানের মাথায় বল মারতেও দারুণ মজা পাচ্ছি।’’ এর পরেই অবশ্য তিনি যোগ করেন, ‘‘তবে অবশ্যই চাইব, গুরুতর কিছু যেন না ঘটে।’’

প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কার চেয়ে ৪৪ রানে এগিয়ে থাকার পরে দ্বিতীয় ইনিংসে দিনের শেষে ১২৬-৪ তুলে ফেলে তারা। ফলে ব্যবধান বেড়ে হয়েছে ১৭০। ব্যবধান তিনশোর বেশি হয়ে গেলে কিংসমিডের উইকেটে সমস্যায় পড়তে পারে শ্রীলঙ্কা। কুশল পেরেরা (৫১) ছাড়া শ্রীলঙ্কার আর কোনও ব্যাটসম্যানকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেননি স্টেনরা। তাঁর দুই সঙ্গী পেসার ভার্নন ফিল্যান্ডার ও কাগিসো রাবাডা। দু’টি করে উইকেট নিয়ে। 

এ দিকে, শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানদের আউট করার নীল নকশা যে গোপন ডায়রিতে লেখা ছিল, সেই ডায়রির পাতা ধরা পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার টিভি সংস্থার ক্যামেরায়। সরাসরি সম্প্রচারে তা দেখিয়েও দেওয়া হয়। সেই নিয়ে শুরু বিতর্ক। গত বছর এই সংস্থার ক্যামেরাতেই ধরা পড়েছিল অস্ট্রেলিয়ার কুখ্যাত বল-বিকৃতির ছবিও। বৃহস্পতিবার এই দৃশ্যে দেখা যায় শ্রীলঙ্কার প্রতি ব্যাটসম্যানের জন্য তিন-চারটি করে পরিকল্পনা লিখে রাখা হয়েছে। টিভির এই দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েও পড়ে। বল-বিকৃতির দৃশ্য যে ভাবে সারা দুনিয়ায় বিতর্কের ঝড় তুলেছিল, সে ভাবে টিভির স্টাম্প মাইক্রোফোনে ধরা পড়া ক্রিকেটারদের বিভিন্ন মন্তব্য নিয়েও কম বিতর্ক হয়নি।