মিতালি রাজকে নিয়ে বিতর্ক সোমবার নতুন মোড় নিল। বোর্ডের পরিচালন দায়িত্বে থাকা সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্সের (সিওএ) অন্যতম ডায়ানা এডুলজি এ দিন মুখ খুলেছেন। এবং, তাঁর সমর্থন যে বর্তমান টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরের দিকে, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন। 

কার্যত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে মিতালিকে বাদ দেওয়াকে সমর্থনই করেছেন ডায়ানা। বলে দিয়েছেন, ‘‘আমার মনে হয়, এটা নিয়ে বড্ড বেশিই কথা হচ্ছে। টিম ম্যানেজমেন্ট একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওরা ঠিক করেছিল, উইনিং কম্বিনেশন পাল্টাবে না। আমি নিশ্চিত ভারত যদি জিতত, কেউ এটা নিয়ে কথা বলত না।’’ তার পরেই যোগ করেছেন, ‘‘প্রথম একাদশ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলা ঠিক নয়। এই তো ক্রুনাল পাণ্ড্যর উদাহরণই রয়েছে। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ভাল না করতে পারলেও দুর্দান্ত ভাবে ফিরে এসেছে। সাফল্য-ব্যর্থতা খেলার অঙ্গ।’’ 

ডায়ানা বর্তমান অধিনায়ক এবং টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও প্রশ্ন থাকছে। মিতালি শেষ যে দু’টি ম্যাচ খেলেছিলেন, তাতে তাঁর স্কোর ছিল ৫১ এবং ৫৬। এর পরে গ্রুপের শেষ ম্যাচটিতে তিনি খেলতে পারেননি চোট থাকায়। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মিতালির অভিজ্ঞতার দরকার ছিল বলে অনেকে মনে করছেন। বিশেষ করে তাঁর ফর্ম যখন মোটেও খারাপ ছিল না। ভারতে মহিলা ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত কারও কারও মতে, সেমিফাইনালে বাইশ গজ কঠিন ছিল। রান করা মোটেও সহজ হয়নি ব্যাটসম্যানদের পক্ষে। এ ধরনের পিচে মিতালির কোনও বিকল্প নেই। তা হলে তাঁকে বাইরে রাখা হল কেন? 

কারও কারও মতে, সিদ্ধান্তের পিছনে শুধুই ক্রিকেটীয় কারণ রয়েছে জোর দিয়ে বলা যাবে না। ওয়াকিবহাল মহলের খবর, মিতালি এবং হরমনপ্রীতের সম্পর্ক বেশ কিছু সময় ধরেই খুব মধুর ছিল না। মিতালির ব্যক্তিগত ম্যানেজার আক্রমণাত্মক ভাষায় হরমনপ্রীতকে তোপ দাগায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ডায়ানা এ দিন বলেন, মিতালির ম্যানেজারের মন্তব্য মোটেও অভিপ্রেত নয়। ‘‘আমার মতে, ভারতীয় দলের একটা খারাপ দিন ছিল সেমিফাইনালে। ব্যাটিং ব্যর্থ হয়েছে, ইংল্যান্ড রান তাড়া করছিল। পরের দিকে শিশির থাকায় আমাদের বোলারদের কাজ কঠিন হয়ে যায়,’’ বলেছেন সিওএ সদস্য ডায়ানা।

তিনি মুখ খোলার দিনেই আবার মিতালি এবং হরমনপ্রীতের সঙ্গে কথা বলেছেন বোর্ডের বিতর্কিত চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার (সিইও) রাহুল জোহরি এবং জেনারেল ম্যানেজার (ক্রিকেট অপারেশনস) সাবা করিম। দু’জনের সঙ্গে আলাদা আলাদা করে কথা বলেন দুই কর্তা। এই বৈঠকের সত্যতা স্বীকার করে নেন জোহরি। একই সঙ্গে জানিয়ে দেন, বৈঠকে কী হয়েছে তা নিয়ে বোর্ড কোনও মন্তব্য করবে না। একটা মত হচ্ছে, বোর্ডের তরফে বিতর্ক থামানোর প্রয়াস শুরু হয়েছে। অন্য মত বলছে, সম্প্রতি সিওএ-র মধ্যেও যে মতামত বিভাজনের উদাহরণ দেখা দিয়েছে, মিতালি-বিতর্কেও সেটা এসে পড়ল। ডায়ানা যে দিন মুখ খুললেন সে দিনই মিতালি এবং হরমনপ্রীতের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করলেন অন্য দুই বোর্ড কর্তা। 

কাকতালীয় বলা যাবে কি?