এশীয় ও বিশ্ব জিমন্যাস্টিক চ্যাম্পিয়নশিপে দীপা কর্মকারের অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় তৈরি হল। শুক্রবার ও শনিবার নয়াদিল্লির ইন্দিরা গাঁধী স্টেডিয়ামে বসছে জাতীয় দলের নির্বাচনী ট্রায়াল। কিন্তু চোটের জন্য নামছেন না দীপা। 

মার্চ মাসে বাকুতে জিমন্যাস্টিক্স বিশ্বকাপের ভল্টিং ফাইনালে গোড়ালি ও হাঁটুতে চোট পান রিয়ো অলিম্পিক্সে আলোড়ন ফেলে দেওয়া ত্রিপুরার মেয়ে। দীপা এখন আগরতলাতেই রিহ্যাব করছেন। তাঁর কোচ বিশ্বেশ্বর নন্দী আগরতলা থেকে ফোনে বললেন, ‘‘ফেডারেশনের এই ট্রায়ালে নামতে পারছে না দীপা। তবে পরে ওপেন ট্রায়ালে ও নামবে। আশা করছি তার আগেই সুস্থ হয়ে যাবে।’’ 

টোকিয়ো অলিম্পিক্সের ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য বিশ্ব জিমন্যাস্টিক্সে পদক পাওয়াটা জরুরি। মঙ্গোলিয়াতে ১৩ থেকে ১৬ জুন হবে এশীয় চ্যাম্পিয়নশিপ। তাতেও যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দেশের সেরা মেয়ে জিমন্যাস্টের। কিন্তু তখনও সুস্থ হয়ে উঠতে না পারলে ৪-১৩ অক্টোবর জার্মানিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে দীপা যোগ দেবেন বলে আশাবাদী কোচ।  তিনি বলেছেন, ‘‘বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপকে পাখির চোখ করেই এগোচ্ছি আমরা। আশা করছি দীপা ওখানে সফল হবে।’’ ছাত্রীকে সুস্থ করে তুলতে মুম্বই বা দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার কথাও ভাবছেন তিনি। বলছিলেন, ‘‘জিমন্যাস্টদের জীবন এ রকমই হয়। সব সময় ঝুঁকি নিতে হয়। কিছু করার নেই। বাকু বিশ্বকাপে ভেবেছিলাম দীপা পদক পাবে। ও সে ভাবে তৈরি হয়েই গিয়েছিল। কিন্তু চোট পেয়ে গেল। দোহাতেও যেতে পারল না। ও-ই দু’টি বিশ্বকাপে সফল হলে টোকিয়ো যাওয়ার রাস্তাটা আরও সহজ হত।’’ তিনি যোগ করেছেন, ‘‘যা হয়নি তা নিয়ে অবশ্য ভেবে লাভ নেই। সামনের দিকে তাকাতে চাই।’’  

 জিমন্যাস্টিক্স ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের সেরা ছেলে ও মেয়ে জিমন্যাস্টরা ট্রায়ালে অংশ নিচ্ছেন। এক কর্তা বললেন, ‘‘এশীয় প্রতিযোগিতার এক মাস আগে আমরা ট্রায়াল করছি এ জন্যই যে, যাতে নির্বাচনের ব্যাপারটি স্বচ্ছ থাকে।’’

৩ থেকে ৫ মে পুণেতে জাতীয় আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিক্স প্রতিযোগিতারও আয়োজন করছে ফেডারেশন। এক কর্তা বললেন, ‘‘মনে রাখবেন জাতীয় প্রতিযোগিতা থেকেই আমরা দেশের সেরা জিমন্যাস্টদের কিন্তু বেছে নেব। তার পরে র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী তালিকা তৈরি করা হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে দল নির্বাচন করতে সুবিধে হবে। আমরা চাইছি দেশের সব জিমন্যাস্টকে দেখে নিতে।’’