কলকাতা লিগের প্রথম ম্যাচে ধাক্কা খাওয়ার পর আলেসান্দ্রো মেনেন্দেসের দলের সামনে এ বার ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে যাওয়া নিশ্চিত করার পরীক্ষা।

আজ, মঙ্গলবার যুবভারতীতে বেঙ্গালুরু রিজার্ভ দলের সঙ্গে ম্যাচ ড্র করলেই শেষ চার নিশ্চিত করে ফেলবে ইস্টবেঙ্গল। নৌশাদ মুসার দলের কাছে এটা আবার মরণ-বাঁচন ম্যাচ। যুবভারতীতে কাশিম আইদারাদের হারাতে না পরলে  প্রতিযোগিতা থেকেই ছিটকে যাবে বেঙ্গালুরু। এ সব অঙ্ক মাথায় রাখতে চাইছেন না আলেসান্দ্রো। ম্যাচ জিতেই শেষ চারে যেতে চান তিনি। মঙ্গলবার  লাল-হলুদ কর্তারা যখন ক্লাবের শতবর্ষের অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত, আশির বাদশা মজিদ বাসকারকে নিয়ে মেতে রয়েছেন সদস্য-সমর্থকরা, তখন বোরখা গোমেস-মেহতাব সিংহদের নিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা অনুশীলনে ব্যস্ত থাকলেন আলেসান্দ্রো। তাঁর অনুশীলন থেকে পরিষ্কার যে, ড্র নয় শেষ ম্যাচ জিতেই একই সঙ্গে দুই পাখি মারতে চাইছেন লাল-হলুদ কোচ। এক) ডুরান্ডের সেমিফাইনালে যাওয়া নিশ্চিত করা। দুই) লিগের প্রথম ম্যাচের হার পিছনে ফেলে জয়ের সরণিতে ফেরা। 

কোন তিন বিদেশিকে খেলাবেন তা নিয়ে কোনও ইঙ্গিত এ দিন বুঝতে দেননি ইস্টবেঙ্গল কোচ। তবে জামশেদপুরের বিরুদ্ধে ম্যাচে চোট পেয়েছিলেন খেইমে কোলাদো। তাঁকে বিশ্রাম দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। পুরো দলকে এমন ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলিয়েছেন আলেসান্দ্রো যে, তাঁর সতীর্থ সহকারী কোচেরাও বুঝতে পারেননি দল কী হবে। সাইতে অনুশীলন শুরু হওয়ার পরে নিজের ফ্ল্যাটে ফিরে যান কোলাদোদের কোচ। 

আলেসান্দ্রো সংবাদমাধ্যমকে কিছু না বললেও বেঙ্গালুরু রিজার্ভ দলের কোচ নৌশাদ মুসা বলে দিয়েছেন, ‘‘নয় দিন পর আমরা গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামছি। এতে আমাদের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সুবিধা হয়েছে। ইস্টবেঙ্গল যথেষ্ট শক্তিশালী দল, তা সত্ত্বেও আমরা ম্যাচ জিতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে চাই।’’ এক ম্যাচ খেলে বেঙ্গালুরু রিজার্ভের পয়েন্ট এক। এই ম্যাচ জিতলে তাদের পয়েন্ট হবে চার। সে ক্ষেত্রে গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচ জিতলে শেষ চারে যাওয়ার আশা থাকবে।

সুনীল ছেত্রীরা এখনও মাঠে নামেননি। সেপ্টেম্বরের শেষে হয়তো শুরু হবে বেঙ্গালুরুর মূল দলের অনুশীলন। তবে নৌশাদ মুসা যে দল নিয়ে ডুরান্ডে খেলতে এসেছেন, তাতে এমন সাত জন ফুটবলার রয়েছেন যাঁরা গত বছর আইএসএলে কিছু ম্যাচ খেলেছেন। তাঁদের নিয়েই মরিয়া লড়াই করার চেষ্টা করছেন নৌশাদ। বলে দিলেন, ‘‘আমরা জেতার জন্য সর্বশক্তি প্রয়োগ করব।’’

ডুরান্ড কাপ: ইস্টবেঙ্গল বনাম বেঙ্গালুরু এফসি (যুবভারতী, সন্ধে ৬-০০)।