সমলিঙ্গে সম্পর্ক রাখার কথা স্বীকার করেছিলেন চলতি সপ্তাহের শুরুতে। এ বার সেই সমলিঙ্গে বিবাহের অধিকার চাইছেন দেশের দ্রুততম মহিলা অ্যাথলিট দ্যুতি চন্দ। বৃহস্পতিবার তিনি জানিয়ে দিলেন, এ ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। যদিও এখনও পর্যন্ত ভারতে সমলিঙ্গে বিবাহ আইনসিদ্ধ নয়।

বৃহস্পতিবার দ্যুতি ভুবনেশ্বর থেকে ফোনে বলে দিলেন, ‘‘আনন্দ ও সুখের সঙ্গে প্রত্যেকে বাঁচতে চায়। এটা সকলের জানা উচিত। ধর্ম ও সংস্কৃতির নামে মানুষ অনেক বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কিন্তু ভারত গণতান্ত্রিক দেশ। অনেক নিয়মেরই সংস্কার বা পরিবর্তন এখানে হয়।’’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘‘আমি আশাবাদী, বান্ধবীকে আইনত ভাবে বিবাহ করতে পারব। প্রয়োজনে সকলের সঙ্গে কথা বলব। হৃদয় ও মন থেকে আমরা যারা সমলিঙ্গে সম্পর্ক রাখা ও তা পূর্ণতা দেওয়ার ব্যাপারে সহমত, তাঁরা একজোট হলে কেউ প্রতিরোধ করতে পারবে না।’’

তবে এ দিনও নিজের বান্ধবীর নাম প্রকাশ করেননি দ্যুতি। বলেন, ‘‘ঠিক সময়ে আমার বান্ধবীর নাম ও পরিচয় জানিয়ে দেব। তবে তা এখনই নয়। চার-পাঁচ বছর পরে জানানো যাবে। আপাতত অ্যাথলেটিক্সেই মনোনিবেশ করছি।’’ গত রবিবার প্রচারমাধ্যমের কাছে  নিজের সমলিঙ্গে সম্পর্ক রাখা নিয়ে মুখ খুলেছিলেন ওড়িশার এই ২৩ বছরের অ্যাথলিট। জানিয়েছিলেন, গত সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট সমলিঙ্গে সম্পর্ক রাখা যাবে বলার পরেই নিজের সম্পর্ক প্রকাশের ব্যাপারে সাহস পেয়েছিলেন। এ দিনও জানিয়েছেন, তাঁর দিদি সরস্বতী চন্দ এ বিষয়ে তাঁকে নাকি দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেল করছিলেন। বাধ্য হয়েই তিনি প্রচারমাধ্যমের কাচে নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা জানিয়েছিলেন। ভারতে সমলিঙ্গে বিবাহ এখনও আইনসিদ্ধ হয়। ইউরোপ-সহ পশ্চিমের দেশগুলোতে তা আইনগত ভাবে অনুমতিপ্রাপ্ত। এশিয়ার মধ্যে তাইল্যান্ডই একমাত্র দেশ। যেখানে সমলিঙ্গে বিবাহ আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে।

কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী কৌশিক গুপ্ত সমকামী, রূপান্তরকামীদের নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছেন। তিনি বলছেন, ‘‘সমলিঙ্গে বিবাহ করতে চাওয়ার সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, প্রত্যেকের সমান ভাবে বাঁচার অধিনায়ক রয়েছে। দ্যুতি সহায়তা চাইলে সহায়তা করব।’’