ভিবি চন্দ্রশেখরের মগজাস্ত্রের জন্যই মহেন্দ্র সিংহ ধোনিকে পেয়েছিল চেন্নাই সুপার কিংস। তিনি না থাকলে ধোনিকে হয়তো পেতই না সিএসকে। আর ধোনি না এলে আইপিএলে চেন্নাইয়ের দৌরাত্ম্যও হয়ত দেখা যেত না।

বৃহস্পতিবার রাতে আত্মঘাতী হন ভারতের প্রাক্তন ওপেনার ভিবি চন্দ্রশেখর। চেন্নাই সুপার কিংস দলটা তৈরির আসল কারিগর ছিলেন তিনিই। ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক এন শ্রীনিবাসন হলেও চন্দ্রশেখরই ভেবে চিন্তে দল তৈরি করেছিলেন। চলতি বছরের গোড়ার দিকে এক সাক্ষাৎকারে ধোনিকে সিএসকে-তে আনার রহস্য ফাঁস করেছিলেন তিনি। সেই সাক্ষাৎকারে চন্দ্রশেখর বলেছিলেন, ‘‘সিএসকে-র মালিক শ্রীনিবাসন আমাকে ফোন করে একদিন বললেন, আইপিএলে তিনি একটা দল কিনছেন। দল গঠনের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়।’’ শ্রীনিবাসনের কথা শুনে প্রথমটায় অবাক হয়ে গিয়েছিলেন চন্দ্রশেখর।

২০০৮ সালের আইপিএল নিলামে প্লেয়ার কেনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সদ্য প্রয়াত ক্রিকেটারের উপরেই। চন্দ্রশেখরের কাজে যাতে কেউ হস্তক্ষেপ না করেন, সে কথা আগাম জানিয়ে দিয়েছিলেন শ্রীনিবাসন। নিলামের আগে সিএসকে-র মালিক চন্দ্রকে ডেকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি কাকে দলে নিতে চান। শ্রীনিবাসকে চন্দ্রশেখর জানিয়ে দেন, তিনি ধোনিকে দলে চাইছেন। ধোনিকে দলে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে চন্দ্রশেখর জানিয়েছিলেন, মুম্বইয়ের আইকন সচিন তেন্ডুলকর, কলকাতার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, বেঙ্গালুরুর রাহুল দ্রাবিড়। চেন্নাইয়ের আইকন কেউ নেই। সুতরাং ধোনিকে দলে নেওয়া দরকার। কারণ ধোনি তখন দেশের ‘ইউথ আইকন’।

আরও পড়ুন: প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটারের আত্মহত্যা, শোকার্ত ক্রিকেট মহল

আরও পড়ুন: আজ কোচ নির্বাচনী বৈঠক, এগিয়ে শাস্ত্রী

চেন্নাই-ভক্তরা জানতেন না সিএসকে-তে ধোনিকে আনার পিছনে রয়েছে কার বুদ্ধি। নিলামে কী ভাবে ধোনিকে নেওয়া হল, সেই প্রসঙ্গে চন্দ্রশেখর সেই সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, ‘‘ধোনির জন্য ১.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু, অন্যান্য দলগুলো ধোনিকে নেওয়ার জন্য যে ঝাঁপাবে নিলামে, সেই ব্যাপারে আমি নিশ্চিত ছিলাম।’’ চন্দ্রশেখরের আশঙ্কা সত্যি হয়েছিল। অন্যান্য দলগুলো ধোনিকে দলে নেওয়ার জন্য প্রচণ্ড লড়াই করেছিল। শেষ রাউন্ডে অবশ্য ১.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাধ্যমে ধোনিকে কিনে নেয় চেন্নাই।

চন্দ্রশেখর চলে গিয়েছেন পৃথিবী ছেড়ে। তাঁর এই অবদান কোনও দিন ভুলবেন না শ্রীনিবাসন। চেন্নাই সুপার কিংসের ফেসবুক পেজেও চন্দ্রশেখরের ছবি পোস্ট করে তাঁর কৃতিত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।