একটা হারেই ইস্টবেঙ্গল শিবিরে পরিবর্তনের হাওয়া! মহমেডানের বিরুদ্ধে কলকাতা প্রিমিয়ার লিগের পরের ম্যাচে দলকে দুই স্ট্রাইকারে খেলানোর ভাবনা টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সুভাষ ভৌমিকের।

এই মরসুমে প্রথম ম্যাচ থেকেই ৪-৫-১ ছকে খেলাচ্ছেন সুভাষ। এক স্ট্রাইকার হিসেবে কখনও খেলেছেন বালি গগনদীপ। কখনও আবার জবি জাস্টিন। কিন্তু কখনওই দুই স্ট্রাইকারকে শুরু থেকে নামাননি তিনি। এমনকি, কাস্টমসের বিরুদ্ধে ড্র করার পরেও ছক বদলাননি। কিন্তু আগের ম্যাচে পিয়ারলেসের বিরুদ্ধে হেরে খেতাবি দৌড়ে পিছিয়ে পড়ার পরেই ছবিটা বদলে গিয়েছে।

পিয়ারলেসের বিরুদ্ধে ম্যাচের পরের দিন ফুটবলারদের বিশ্রাম দিয়েছিলেন সুভাষ। শনিবার সকালে জনি আকোস্তাদের নিয়ে ক্লাবের মাঠে মহমেডান ম্যাচের মহড়ায় নেমে পড়েন লাল-হলুদ টিডি। ওয়ার্মআপের পরে ফুটবলারদের দু’দলে ভাগ করে ম্যাচ খেলান। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, জবি ও গগনদীপকে সামনে রেখে ৪-৪-২ ছকে অধিকাংশ সময় ম্যাচ প্র্যাক্টিস করালেন। কখনও আবার দেখা গেল, সামনে একা জবি। একটু পিছন থেকে খেলাচ্ছেন গগনদীপকে। অর্থাৎ, ৪-৪-১-১ ছক। এখানেই শেষ নয়। আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়াতে মাঝমাঠে পাঁচ ফুটবলারকে রেখে ৩-৫-২ ছকে কাশিম আইদারাদের খেলিয়েও দেখে নিলেন আসিয়ান কাপ জয়ী কোচ। তবে চোখের সংক্রমণ পুরোপুরি না কমায় এ দিনও প্র্যাক্টিস ম্যাচ খেলেননি মাঝমাঠের প্রধান ভরসা মহম্মদ আল আমনা।

মহমেডানের বিরুদ্ধে তা হলে রণকৌশল কী লাল-হলুদ টিডির? এ দিনের অনুশীলন থেকে যা বোঝা গিয়েছে, তাতে জবি ও গগনদীপকে সামনে রেখে ৪-৪-২ ছকেই খেলানোর সম্ভাবনাই বেশি। যাতে গোলের সংখ্যা বাড়িয়ে নেওয়া যায়। কারণ, অঙ্কের বিচারে ইস্টবেঙ্গলের কলকাতা লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। এই মুহূর্তে নয় ম্যাচে ২০ পয়েন্ট আমনাদের। সমসংখ্যক ম্যাচ খেলে মোহনবাগানের পয়েন্ট ২৩। দুই প্রধানেরই দু’টো করে ম্যাচ বাকি রয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের প্রতিপক্ষ মহমেডান (১২ সেপ্টেম্বর) ও  এফসিআই (১৮ সেপ্টেম্বর)। মোহনবাগানের ম্যাচ কাস্টমস (১৩ সেপ্টেম্বর) ও মহমেডান (১৮ সেপ্টেম্বর)-এর বিরুদ্ধে। শেষ দু’টো ম্যাচ জিতলে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে লিগ শেষ করবেন আকোস্তারা। কিন্তু লিগ জয়ের জন্য তাকিয়ে থাকতে হবে দিপান্দা ডিকাদের দিকে। 

মোহনবাগানের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য দরকার অন্তত চার পয়েন্ট। অর্থাৎ, একটা জয় ও একটা ড্র। সে ক্ষেত্রে মোহনবাগান ২৭ পয়েন্ট নিয়ে লিগ শেষ করবে। কিন্তু শেষ দু’টো ম্যাচ যদি ড্র করে মোহনবাগান। অথবা, দেখা গেল একটি ম্যাচ হেরেছেন পিন্টু মাহাতোরা। আর একটি ম্যাচ ড্র করেছেন। তা হলে? সেক্ষেত্রে দু’দলেরই পয়েন্ট সমান হবে। তখন দেখা হবে গোলপার্থক্যে কে এগিয়ে। তাতেও যদি দেখা যায়, দু’দল এক জায়গায় রয়েছে? তখন দেখা হবে কারা বেশি গোল দিয়েছে। এখানেই অনেক পিছিয়ে ইস্টবেঙ্গল।

এই মরসুমে কলকাতা লিগে ন’ম্যাচে আমনারা এখনও পর্যন্ত করেছেন ১৭টি গোল। অর্থাৎ, ম্যাচ প্রতি গোলের সংখ্যা ১.৮৮। সমসংখ্যক ম্যাচ খেলে মোহনবাগানের মোট গোলের সংখ্যা ২৩টি। অর্থাৎ, ম্যাচ প্রতি ২.৫৫টি গোল করেছেন হেনরি কিসেক্কারা। দু’দলই এখনও পর্যন্ত পাঁচটি করে গোল খেয়েছে। 

তবে শুধু গোল করলেই চলবে না। গোল খাওয়াও আটকাতে হবে ইস্টবেঙ্গলকে। এ দিন ম্যাচ প্র্যাক্টিস শেষ হওয়ার পরেই মাঠের এক দিকে মেহতাব সিংহ-সহ সতীর্থ ডিফেন্ডারদের ডেকে নিলেন কোস্টা রিকার বিশ্বকাপার। সুভাষের সামনেই বোঝালেন, বিপক্ষের স্ট্রাইকারেরা যখন আক্রমণে উঠবেন, কোথায় দাঁড়াতে হবে। কী ভাবে বল কেড়ে নিতে হবে তাঁদের পা থেকে। গ্যালারিতে বসে দেখলেন নতুন কোচ আলেসান্দ্রো মেনেন্দেসও। অনুশীলন শেষ করে একাই পুরো মাঠে বার তিনেক চক্কর দিলেন তিনি। দু’ম্যাচে চার গোল খাওয়ার পরে আকোস্তার পারফরম্যান্স নিয়েও যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে।