চব্বিশ ঘণ্টা আগে রিয়াল কাশ্মীর এফসি-র বিরুদ্ধে দুরন্ত জয়ের পরেও ইস্টবেঙ্গল শিবিরে কোনও উচ্ছ্বাস ছিল না। চার্চিল ব্রাদার্স বনাম চেন্নাই সিটি ম্যাচ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। শুক্রবার ঘরের মাঠে উইলিস প্লাজ়াদের রুদ্ধশ্বাস জয়ের পরে কিছুটা স্বস্তি ফেরে লাল-হলুদ অন্দরমহলে।

ইস্টবেঙ্গলের পরের ম্যাচ মিনার্ভা এফসি-র বিরুদ্ধে রবিবার পঞ্চকুল্লায়। কিন্তু দিল্লিতেই দলকে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। আজ, শনিবার দুপুরের উড়ানে চণ্ডীগড় রওনা হবেন এনরিকে এসকুয়েদারা। দিল্লিতে থাকলেও এ দিন সকলেরই মন পড়েছিল গোয়ায়।

ম্যাচের পরের দিন কখনও অনুশীলন বন্ধ রাখেন না কোচ আলেসান্দ্রো মেনেন্দেস। মাঠে নেমে ফিজিক্যাল ট্রেনার কার্লোস নোদারের কাছে রিকভারি ট্রেনিং করেন ফুটবলারেরা। এ দিন অবশ্য মাঠে নামেননি তাঁরা। টিম হোটেলের জিমে ও সুইমিং পুলে রিকভারি সেশন চলে জনি আকোস্তাদের। বিকেলে সবাই যে যার ঘরে টিভির সামনে বসে পড়েছিলেন ম্যাচ দেখতে। কিন্তু স্যান্দ্রো রদ্রিগেসের গোলে চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে চেন্নাই এগিয়ে যেতেই নিস্তব্ধতা নেমে আসে। উইলিস প্লাজ়া গোল করে সমতা ফেরানোয় স্বস্তি ফেরে। জানা গিয়েছে, ক্রাইস্ট রেমির গোলে চার্চিল এগিয়ে যাওয়ার পরে কেউ কেউ আনন্দে লাফিয়ে উঠেছিলেন। পেনাল্টি থেকে পেদ্রো মানজ়ি সমতা ফেরানোর পরে ফের বদলে যায় লাল-হলুদ অন্দরমহলের আবহ। প্লাজ়া ফের গোল করে চার্চিলকে এগিয়ে দেওয়ার পরেও আতঙ্ক দূর হয়নি। রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পরেই হাসি ফোটে লালরিনডিকা রালতেদের মুখে। ফোনে লাল-হলুদ অধিনায়ক বললেন, ‘‘প্রচণ্ড চাপে ছিলাম। চেন্নাই জিতলেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যেত। ওদের হারিয়ে চার্চিল আমাদের অক্সিজেন জোগাল।’’ 

হারলেও চেন্নাইয়ের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। মানজ়িদের বাকি মাত্র একটা ম্যাচ। ৯ মার্চ তাঁদের প্রতিপক্ষ মিনার্ভা। ইস্টবেঙ্গলের খেলা বাকি মিনার্ভা ও গোকুলম এফসি-র বিরুদ্ধে। এই মুহূর্তে ১৯ ম্যাচে ৪০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে চেন্নাই। এক ম্যাচ কম খেলে ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ইস্টবেঙ্গল। পরের দু’টো ম্যাচ জিতলে ৪২ পয়েন্ট শেষ করবেন খাইমে সান্তোস কোলাদোরা। সে ক্ষেত্রে চেন্নাই শেষ ম্যাচ ড্র করলেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু চেন্নাই জিতলে লাল-হলুদের আশা শেষ। ডিকার কথায়, ‘‘কোচ বলেছেন, লিগের শেষ দিকে অনেক দলই পয়েন্ট নষ্ট করতে পারে। তাই কখনও হাল ছাড়তে নেই। শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।’’

শুক্রবার সন্ধ্যায় ফুটবলারদের ঘণ্টা দু’য়েকের জন্য ছুটি দিয়েছিলেন আলেসান্দ্রো। তবে অধিকাংশ ফুটবলারই হোটেলে ছিলেন। কেউ কেউ কাছাকাছি ঘুরতে বেড়িয়েছিলেন। 

এরই মধ্যে জবি জাস্টিন ও করিম ওমোলোজার শুনানি দু’দিন পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। ৫ মার্চ নয়াদিল্লিতে হাজির থাকতে হবে দুই ফুটবলারকে।