দুই প্রধানের চিঠি। সঙ্গে সেনা ও পূর্ত দফতরের অনুরোধের চিঠি।

চার চিঠির জেরে আপাতত বন্ধ হয়ে গেল কলকাতা লিগ। তৈরি হয়েছে জট। আজ, শনিবার ইস্টবেঙ্গল বনাম বিএসএস স্পোর্টিং ক্লাবের ম্যাচ তো হচ্ছেই না। কবে থেকে দুই প্রধানের ম্যাচ শুরু হবে, তা নিয়েই প্রবল সমস্যায় আইএফএ। ২১ অগস্ট অগস্ট ডুরান্ড সেমিফাইনালে দুই প্রধানের ম্যাচের ফল দেখে নতুন সূচি তৈরি হবে। আইএফএ সচিব জয়দীপ মুখোপাধ্যায় বলে দিলেন, ‘‘কলকাতা ডার্বির আগে দুই প্রধান সমসংখ্যক ম্যাচ খেলে যাতে নামে, সে ভাবেই সূচি তৈরি করা হবে। ডুরান্ড কাপের ফল দেখেই নতুন সূচি ঘোষণা করব আমরা। যাতে কোনও বিতর্ক তৈরি না হয়।’’ এখনও পর্যন্ত ঠিক আছে, পয়লা সেপ্টেম্বর মরসুমের প্রথম ডার্বি হবে। কলকাতা ডার্বির জন্য পুলিশের অনুমতি পাওয়া গিয়েছে। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান—দুই প্রধানের কর্তারাও রাজি আছেন বলে খবর।  

শুক্রবার সকাল থেকেই চিঠি আসা শুরু হয় আইএফএ দফতরে। মোহনবাগান মাঠে কিবু ভিকুনা যখন দলকে অনুশীলন করাচ্ছেন তখনই চিঠি পাঠান কর্তারা। সেই চিঠির সঙ্গে পূর্ত দফতরের একটি চিঠিও জুড়ে দেওয়া হয়। তাতে কলকাতা লিগের ম্যাচ খেলব না, এটা বলা হয়নি। লেখা হয়েছে, ‘‘গ্যালারির নিচে নতুন পরিকাঠামো তৈরির কাজ চলছে। জিনিসপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। পূর্ত দফতর জানিয়েছে, ৭ সেপ্টেম্বরের আগে কাজ শেষ হবে না। ওই সময় পর্যন্ত নিজেদের মাঠে খেলা সম্ভব নয়।’’ কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, লিগের পরপর দুটি ম্যাচই জেতেনি মোহনবাগান। শুরুতেই পাঁচ পয়েন্ট নষ্ট করে তীব্র চাপে রয়েছে কিবুর দল। সে জন্যই কি নিজেদের মাঠে ম্যাচ খেলতে চাইছেন না মোহনবাগান কর্তারা? তার উপরে দলের স্প্যানিশ কোচ বারবারই বৃষ্টিতে মাঠের হাল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি যুবভারতীতে ম্যাচ খেলতে চাইছেন। ফলে সমস্যায় কর্তারা। সে জন্যই পূর্ত দফতরের চিঠিকে ঢাল করেই ম্যাচ পিছোতে চাইছেন তারা। এই অভিযোগ অবশ্য মানতে চাননি সবুজ মেরুনের কেউই। এক কর্তা বললেন, ‘‘পূর্ত দফতর অনুমতি না দিলে ম্যাচ হবে কী করে।’’ তবে শোনা যাচ্ছে, আইএফএ ইতিমধ্যেই সরকারি পর্যায়ে চেষ্টা করছে অনুমতি আদায়ের।  ২১ তারিখ ডুরান্ড সেমিফাইনালের পরে যাতে মোহনবাগান মাঠে খেলা করা যায়, সেই চেষ্টা চালাচ্ছেন তাঁরা।

ইস্টবেঙ্গলের সমস্যা অবশ্য অন্য। সেনাবাহিনীর পক্ষ একটি চিঠি এসেছে আইএফএ-তে। তাতে অনুরোধ করা হয়েছে, ডুরান্ডের সেমিফাইনালের ম্যাচে যাতে ইস্টবেঙ্গল পুরো শক্তি নিয়ে নামতে পারে, সে জন্য ১৭ অগস্টের লিগের ম্যাচটি স্থগিত রাখা হোক। ইস্টবেঙ্গলও চিঠি পাঠিয়ে একই অনুরোধ জানায়। আইএফএ সচিব বললেন, ‘‘সেনাবাহিনী আমাদের সারা বছর সাহায্য করে। ডুরান্ড কাপ ওরা প্রথমবার বাংলায় করছে। ওদের অনুরোধ তো রাখতেই হবে।’’ যা থেকে স্পষ্ট, নতুন নির্বাচিত সচিব দুই প্রধান এবং সেনাদের সঙ্গে কোনও বিতর্কে যেতে চাইছেন না। তিনি বলেও দিলেন, ‘‘দুই প্রধানকে অনুরোধ করেছি ডুরান্ডের খেলা শেষ হলে সূচিতে যে দিন ম্যাচ দেওয়া হবে, সে দিন খেলতে হবে।’’

ইতিমধ্যেই লিগে ম্যাচ খেলেছে দুই প্রধান। ইস্টবেঙ্গল একটি ম্যাচ খেলেছে এবং হেরেছে। মোহনবাগান একটি হেরেছে, একটি ড্র। আইএফএ কর্তারা ঠিক করেছেন, ডুরান্ডের পরে ইস্টবেঙ্গল-বিএসএস ম্যাচ করিয়েই ডার্বি করবেন। সোমবার মহমেডান বনাম সাদার্ন সমিতির ম্যাচ অবশ্য হচ্ছে। আইএফএ-র এক কর্তা বললেন, ‘‘সেমিফাইনালে দুই প্রধান জিতলে ২৪ অগস্ট ডুরান্ড ফাইনালটাই ডার্বি হবে। সে ক্ষেত্রে ফাইনালের পরেই ম্যাচ হবে। আর যদি সেমিফাইনালে কোনও দল হেরে যায় তা হলে তাদের ম্যাচ দু’দিন পর থেকেই শুরু করে দেওয়া হবে।’’ বোঝাই যাচ্ছে ডুরান্ড কাপের উপরেই নির্ভর করছে কলকাতা লিগের ভাগ্য। সবই দাঁড়িয়ে ‘যদি’, ও ‘কিন্তু’-র উপরে।