• দেবাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

আজ জিতলেই লিগ টেবলে তিন নম্বরে ইস্টবেঙ্গল

লাজংকে হারাতে গতিই অস্ত্র লাল-হলুদ কোচের

East Bengal
মহড়া: জবিকে সামনে রেখেই লাজংকে হারানোর ছক সাজাচ্ছে ইস্টবেঙ্গল। বুধবার অনুশীলনে ফুরফুরে মেজাজে ফুটবলারেরা। ছবি: সুদীপ্ত ভৌমিক

যুবভারতীতে ইস্টবেঙ্গল অনুশীলন  ও সাংবাদিক বৈঠক শেষ করে বাড়ি ফেরার জন্য গাড়িতে উঠছিলেন তিনি। সেই সময়েই ইস্টবেঙ্গল কোচ আলেসান্দ্রো মেনেন্দেসের দিকে ধেয়ে এল একদল খুদে সমর্থকের নিজস্বীর আবদার।

সেই পর্ব মিটিয়ে গাড়িতে ওঠার আগে ইস্টবেঙ্গল কোচ ঘড়ি দেখিয়ে ভাঙা ইংরেজিতে ওই খুদে লাল-হলুদ সমর্থকদের ছুড়ে দিলেন প্রশ্ন, ‘‘স্কুল কখন?’’ যা শুনে দৌড় লাগায় ওই কচি-কাঁচারা। হাসতে হাসতে গাড়িতে উঠে গতি বাড়িয়ে ফেরার পথ ধরেন ইস্টবেঙ্গল কোচ।

বৃহস্পতিবার যুবভারতীতে আলেসান্দ্রোর প্রতিপক্ষ লাজং এফসি। সেই ম্যাচের আগে মাঠের মধ্যেও যে জবি জাস্টিনদের কোচ শিষ্যদের মন্ত্র দিচ্ছেন গতি বাড়ানোর। উদ্দেশ্যটা পরিষ্কার, তারুণ্যের উপর নির্ভর করে লাজংয়ের পাহাড়ি ছেলেরা গতিতে প্রতি-আক্রমণ শানাবে। সেই আক্রমণ রুখে মূল্যবান তিন পয়েন্ট ছিনিয়ে আনতে হবে গতি দিয়েই। সাংবাদিক বৈঠকে তাই ইস্টবেঙ্গল কোচ বলে দেন, ‘‘ম্যাচে গতিটা অপরিহার্য। বিপক্ষ বল-সহ বা বল ছাড়া গতি দিয়েই আক্রমণ শানাবে। আমাদেরও ম্যাচটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে সেই গতি দিয়েই।’’

১৪ ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট সংগ্রহ করে এই মুহূর্তে আই লিগে ইস্টবেঙ্গল দাঁড়িয়ে চার নম্বরে। বাকি ছয় ম্যাচের মধ্যে প্রথম তিন ম্যাচ যুবভারতীতে। পরের তিন ম্যাচ বাইরে। তাই ঘরের মাঠে তিন ম্যাচ থেকে প্রথমে নয় পয়েন্ট নিয়ে আই লিগ খেতাব জয়ের স্রোতে প্রবল ভাবে ভেসে থাকতে মরিয়া লাল-হলুদ শিবির। তার পরে বাকি তিন অ্যাওয়ে ম্যাচ নিয়ে ধাপে ধাপে এগোতে চান লালরিনডিকা রালতেরা। তাঁরা জানেন বৃহস্পতিবার লাজংকে হারাতে পারলেই চার্চিল ব্রাদার্সকে চার নম্বরে ঠেলে দিয়ে ইস্টবেঙ্গল উঠে আসবে তিন নম্বরে। ইস্টবেঙ্গল কোচের সঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলনে আসা দলের স্পেনীয় ডিফেন্ডার বোরখা গোমেস পেরেস তাই বলে গেলেন, ‘‘আমাদের সব ম্যাচই এখন ফাইনাল। প্রতিটি ম্যাচ থেকেই তিন পয়েন্ট চাই।’’

ইস্টবেঙ্গল রক্ষণে বিশ্বকাপার জনি আকোস্তার সতীর্থের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল বাকি ছয় ম্যাচের মধ্যে কোন প্রতিপক্ষ ভাবাচ্ছে তাঁদের? বোরখা বলে যান,  ‘‘আপাতত লাজং এফসি।’’

এ বারের আই লিগের শুরুতে শিলংয়ে গিয়ে লাজংকে ৩-১ হারিয়ে এসেছিল মেনেন্দেসের দল। জোড়া গোল করেছিলেন তাঁর দলের ভারতীয় গোলমেশিন জবি জাস্টিন। কিন্তু মাঝ ফ্রেব্রুয়ারিতে এসে সেই লাজংকে তাড়া করছে অবনমনের সম্ভাবনা। এগারো দলের আই লিগে ১৫ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে সর্বশেষ স্থানে লাজং। যে দলে নেই কোনও বিদেশি। বেশিরভাগই অ্যাকাডেমির ফুটবলার।

তা হলে কি পাহাড়ি দলের বিরুদ্ধে মসৃণ জয়ের অপেক্ষায় মেনেন্দেসের দল? জানতে চাইলে বিস্ফারিত চোখে ইস্টবেঙ্গল কোচ দোভাষী মারফত জানিয়ে দেন, ‘‘লাজংকে কোনও ভাবেই হাল্কা ভাবে নিচ্ছি না। শেষ দুই ম্যাচে ওরা হারিয়ে এসেছে মিনার্ভা এফসি ও চার্চিল ব্রাদার্সকে। ওরা বল ধরে খেলে। নিজেদের মাঝমাঠে ভিড় বাড়িয়ে বিপক্ষকে ধাঁধায় ফেলে। গতিতে ছোট ছোট পাস খেলে দ্রুত প্রতি-আক্রমণ শানায়। কাজেই ম্যাচটা মোটেই সহজ নয়।’’

জবি, খাইমে সান্তোস কোলাদোরা দুর্দান্ত খেলে দলকে আই লিগ খেতাবের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও গত কয়েক ম্যাচে বেশ কিছু সমস্যা হয়েছে ইস্টবেঙ্গলে। যার মধ্যে অন্যতম গোলকিপার ও রক্ষণের মাঝে তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গা। যেখানে বিপক্ষ বল ফেলে তাড়া করলে নড়বড় করেছে ইস্টবেঙ্গল রক্ষণ। এ ছাড়াও কাশিম আইদারা ও লালরিনডিকাদের বেশি বল পায়ে রাখার ফলে কখনও কখনও মন্থর হয়ে পড়ছে খেলার গতি। তাই সেই দুর্বলতা কাটাতে এ দিন পুরোদমে অনুশীলন হল ইস্টবেঙ্গলে। মঙ্গলবারেই সেট-পিসের তালিম দিয়ে রেখেছিলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ। এ দিন বিপক্ষকে ম্যাচে পাল্টা চাপ দিতে রক্ষণে চারটি ‘পুতুল’ রেখে বিশেষ অনুশীলন করালেন আলেসান্দ্রো। চার পুতুলের  ফাঁকফোকড় দিয়ে দুই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার ডিকা ও কাশিম আইদারা মাঝমাঠ থেকে কোণাকুণি পাস বাড়াচ্ছিলেন। সেই বল তাড়া করে দুই প্রান্ত থেকে ‘কাট’ করে ভিতরে ঢুকে আসছিলেন লালডানমাউইয়া রালতে ও টোনি ডোভালেরা। যার অর্থ দুই ফরোয়ার্ড, এনরিকে ও জবির সঙ্গে আক্রমণে লোক বাড়িয়ে বিপক্ষ রক্ষণকে আরও চাপে ফেলা।

লাজং কোচ অ্যালিসন খারসিনতিউ জানেন ইস্টবেঙ্গল এই মুহূর্তে কী রকম আগ্রাসী ফুটবল খেলছে। তা মাথায় রেখে ম্যাচের আগে তিনিও হুঙ্কার ছেড়েছেন, ‘‘মিনার্ভা ও চার্চিলকে হারিয়ে আমাদের ছেলেরাও বিশ্বাস করে বড় দলকে হারানো যায়। ইস্টবেঙ্গল শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তবে আমরাও লড়াই ছাড়ব না। আক্রমণাত্মক ফুটবলই খেলব।’’ 

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন