অবশেষে মানরক্ষা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে একমাত্র টেস্টে আর হারতে হল না জো রুটদের। সৌজন্যে স্টুয়ার্ট ব্রড ও ক্রিস ওকসের দুর্দান্ত বোলিং। দ্বিতীয় ইনিংসে আয়ারল্যান্ডের ১০ উইকেট তুলে নেওয়ার জন্য এই দুই বোলার ছাড়া আর কাউকেই দরকার পরল না ইংল্যান্ডের। দ্বিতীয় ইনিংসে স্টুয়ার্ট ব্রড মোট ৮ ওভার বল করে নেন ৪টি উইকেট এবং ক্রিস ওকস ৭.৪ ওভার বল করে নেন বাকি ৬টি উইকেট।

মাত্র ১৫.৪ ওভার খেলে ৩৮ রানেই গুটিয়ে যায় আয়ারল্যান্ড। ফলে ১৪৩ রানের বড় ব্যবধানে জিতে যায় ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় ইনিংসে করা আয়ারল্যান্ডের এই ৩৮ রানের ইনিংসটি হল বর্তমানে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে সপ্তম সর্বনিম্ন স্কোর। মাত্র ২৬ রানের সঙ্গে তালিকার প্রথমে রয়েছে নিউজিল্যান্ড। যা ১৯৫৫ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেই তাঁরা করেছিলেন।

তবে শুরু থেকে একপেশে ছিল না ম্যাচটি। সবাইকে অবাক করে বিশ্বকাপ জয়ী দলকে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৮৫ রানে অলআউট করে দিয়েছিল আয়ারল্যান্ড। যাকে ঘিরে শোরগোল পড়ে যায় বিশ্ব ক্রিকেটে। এরপর আবার ১২২ রানে এগিয়ে যাওয়ায় ম্যাচটিকে ঘিরে কৌতূহল বাড়তে থাকে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে। সদ্য বিশ্বকাপ জয়ী দলের বিশ্বকাপে সুযোগই না পাওয়া একটি দলের কাছে এই পরিণতি যেন কেউ মেনে নিতে পারছিলেন না।

আরও পড়ুন: টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত মহম্মদ আমিরের

তবে অনেকেই আশা রেখেছিলেন ইংল্যান্ডের উপরই। শেষ পর্যন্ত হলও তাই। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাপক ভাবে প্রত্যাবর্তন করে রুট বাহিনী। শুধু বোলিং নয়, মন্থর উইকেটে ব্যাটসম্যানরাও তাঁদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৯২ রান করে ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন ইংল্যান্ডের ওপেনার জ্যাক লিচ। তাঁর সঙ্গে জেসন রয়ের ১৪৫ রানের পার্টনারশিপই এই ম্যাচ জয়ের অন্যতম কারণ বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন: বিদেশের মাটিতে ভারতীয় ডাল রান্না করে চমক হিমার

তবে শেষ রক্ষা হলেও ইতিমধ্যেই ইংল্যান্ডের এই পারফরম্যান্সের জন্য সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছেন অনেকে। কারণ অগস্টের প্রথম সপ্তাহেই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শুরু হতে চলেছে ঐতিহ্যশালী অ্যাসেজ। অ্যাসেজে ভাল পারফর্ম করাই এখন ক্রিকেটের দুই জায়ান্ট ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ারের এক মাত্র লক্ষ্য। তার আগে প্র্যাক্টিস ম্যাচ মনে করে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে খেলা এই একটি মাত্র টেস্টে দলের এই হাল দেখে  যথেষ্টই চিন্তিত ইংল্যান্ড ক্রিকেট।