এশিয়া কাপের প্রস্তুতি নিয়ে খুশি সরফরাজ আমেদ। পাশাপাশি, পাকিস্তানের অধিনায়ক রওনা হওয়ার আগে তাঁর দেশের সাংবাদিকদের বলে গিয়েছেন, ভারতের জন্য তৈরি তাঁরা। 

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তাপ। বিশেষ করে সাম্প্রতিক কালে দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ থাকার কারণে নিরপেক্ষ দেশে আইসিসি বা এশীয় প্রতিযোগিতাতেই শুধু তাদের দেখা হয়। সেই কারণে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে এ বার এশিয়া কাপ নিয়ে বাড়তি আগ্রহ। পাক অধিনায়ক স্বীকার করে নিচ্ছেন, ভারত ম্যাচের গুরুত্ব সব সময়ই আলাদা এবং এ বারও তার ব্যতিক্রম হবে না। 

‘‘ভারতের বিরুদ্ধে সব ম্যাচই খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের চেষ্টা থাকবে ওই ম্যাচটার আগেই নিজেদের সেরা ফর্মে চলে আসা। প্রথম ম্যাচে জিতে আমাদের আত্মবিশ্বাসটা তৈরি করে নিতে হবে,’’ বলেছেন সরফরাজ। তাঁরই নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ফাইনালে বিরাট কোহালির ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাকিস্তান। এশিয়া কাপে ভারতের বিরুদ্ধে নামার আগে হংকংয়ের সঙ্গে খেলবে পাকিস্তান। সরফরাজ চান সেই ম্যাচে দারুণ ভাবে জিতে মহারণের জন্য তৈরি থাকতে। 

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারতকে ১৮০ রানের বিরাট ব্যবধানে হারিয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু সরফরাজ মনে করছেন, তার কোনও প্রভাব এ বারে পড়বে না। ‘‘সেই ম্যাচটা অতীত হয়ে গিয়েছে। প্রায় দেড় বছর আগে সেটা হয়েছিল। এখন আর সেই জয় নিয়ে ভেবে লাভ নেই,’’ বলে তিনি যোগ করছেন, ‘‘পেশাদাররা অতীত ভুলে সামনের দিকে তাকায়। দু’টো দলই সেটা করবে।’’ 

এশিয়া কাপে অনেক ভাল দলই রয়েছে বলে শুধু এই একটি ম্যাচের উপরে নজর রাখলেই চলবে না। শ্রীলঙ্কা রয়েছে, বাংলাদেশ রয়েছে। আফগানিস্তানকেও হেলাফেলা করে দেখার উপায় নেই। হংকং চমক দেখাতে পারে। পাক অধিনায়ক তাই সাবধানী, ‘‘আমি প্রত্যেকটা দলের দিকেই চোখ রেখেছি। প্রত্যেকেই শক্তিশালী। কাউকেই হাল্কা ভাবে নেওয়া যাবে না। এশিয়া কাপ জিততে গেলে সব ম্যাচে ভাল খেলতে হবে।’’ তবে এটাও অস্বীকার করার উপায় নেই যে, অন্যদের চেয়ে পাকিস্তানের কিছুটা হলেও সুবিধা হবে। যে-হেতু সাম্প্রতিক কালে দুবাই এবং আবু ধাবিতেই তাদের বেশির ভাগ ক্রিকেট খেলেছে পাকিস্তান।

‘‘ওখানে বেশ গরম আছে। আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি। রাতের দিকে ব্যাট করা কঠিন হয় কারণ বল সুইং করে। আমরা সেই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব,’’ বলছেন সরফরাজ। নৈশালোকে বেশ কয়েকটি প্র্যাক্টিস সেশন রেখেছেন তাঁরা। গরমের জন্য প্রথমে ব্যাট করে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলেও তাঁর মনে হচ্ছে। তবে শুধু ফাস্ট বোলাররাই সুইং পাবে এমন নয়। আমিরশাহির শুকনো পিচে স্পিনাররাও ভাল সাহায্য পেয়ে থাকেন। পাক অধিনায়ক মনে করছেন, তাঁর দল সব বিভাগেই শক্তিশালী। ‘‘পিচ কিছুটা মন্থর থাকে বলে স্পিনাররাও সাহায্য পাবে। প্রথমে ব্যাট করলে আমাদের টার্গেট হবে ৩৩০। জানি। ওই রানটা রক্ষা করার মতো বোলিং আক্রমণ আমাদের আছে,’’ বলে  দিচ্ছেন সরফরাজ।