• সংবাদ সংস্থা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

কোরোর দ্রুততম হ্যাটট্রিকে গোয়ার তৃতীয় জয়

FC Goa
গোলের পর এফসি গোয়ার ফুটবলারদের উচ্ছ্বাস। ছবি: আইএসএল সৌজন্যে।

অপ্রতিরোধ্য ফেরান কোরোমিনাসকে। যার ফল পাচ্ছে এফসি গোয়াও। নিজেদের মাঠে এফসি কেরল ব্লাস্টার্সকে তারা উড়িয়েই দিল ৫-২ ব্যবধানে। পরপর দুটি ম্যাচে হ্যাটট্রিক করলেন স্পেনীয় কোরো। দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক এল ৪৮ থেকে ৫৫, মাত্র সাত মিনিটে! আর নিশ্চিত করে দিলেন, চতুর্থ ম্যাচে তৃতীয় জয়। স্পেনীয় সের্গিও লোবেরার প্রশিক্ষণে এফসি গোয়ার ঘোড়া এখন ছুটছে টগবগিয়ে।

তবে, দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরুর সময় ফলাফল ছিল ২-২। যার অর্থ খেলায় বিরাটভাবেই ছিল কেরল ব্লাস্টার্স। শুধু তাই-ই নয়, রেনে মেউলেনস্টীনের দল এগিয়ে গিয়েছিল বাইরের মাঠে প্রথমে গোল করে। জ্যাকিচাঁদ সিংয়ের পাস ধরে মার্ক সিফনেওস বল নিজের নিয়ন্ত্রণে এনে শট নিয়েছিলেন সোজা গোয়ার গোলরক্ষক কাট্টিমনির দিকে। গোয়ার এই গোলরক্ষকের বহু নজির আছে সহজ গোল খাওয়ার। এবারও তাই, এগিয়ে যেতে দিয়েছিলেন কেরালাকে।

উল্টোদিকে কাট্টিমনিকে দেখেই কি কেরালার গোলরক্ষক পল রাচুবকাও ভুল করেছিলেন প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই? এদু বেদিয়া বল বের করে দিয়েছিলেন আগুয়ান নারায়ণ দাসের জন্য। নারায়ণের থেকে বল পেয়ে মানুয়েল লানজারোতে ভলিতে নিজের প্রথম গোল করলেন যখন, রাচুবকা ছিলেন প্রথম পোস্টেই। ১৮ মিনিটেই দলকে এগিয়েও দিয়েছিলেন লানজারোতে। কিন্তু এবারও রাচুবকার ভুল। তাঁর ভুল পাস সোজা চলে গিয়েছিল কোরোর পায়ে। পাস দিয়েছিলেন লানজারোতেকে, যিনি সহজেই সন্দেশ ঝিঙ্গন ও আরাতাকে পেরিয়ে পরাস্ত করেছিলেন রাচুবকাকে।

কিন্তু ব্যবধান বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি গোয়াও। জ্যাকিচাঁদ খেলায় ফিরিয়ে এনেছিলেন কেরলকে। গোলরক্ষকরা ক্রমাগত ভুল করে গেলে গোলের সংখ্যা তো বাড়বেই। কাট্টিমনি ফিরিয়ে দিলেন রাচুবকাকে! আক্রমণ শুরু হয়েছিল জ্যাকিচাঁদের পায়ে। মিলনের সঙ্গে ওয়ান-টু, কেটে গিয়েছিলেন জাহু-নারায়ণ। কাট্টিমনি এগিয়ে গিয়েও কোনও লাভ হয়নি।

আরও পড়ুন: লাজংকে নাস্তানাবুদ করে ৫-১ জয় ইস্টবেঙ্গলের

দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছিল গোয়া।  রাচুবকা শট এবার জাহুর পায়ে সোজা। তাঁর পাস দুই স্টপার ঝিঙ্গন আর লাকিচ-পেসিচের মাঝে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা কোরোর পায়ে। জালে বল পাঠাতে কোনও অসুবিধাই হয়নি কোরোর। তিন মিনিট পর একই ব্যাপার। এবার ব্রান্দন ফেরনানদেসের পাস ওই একইভাবে দুই স্টপারের মাঝে, সেই কোরোর জন্য। আগুয়ান রাচুবকার মাথার ওপর দিয়ে আলতো চিপ করে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল কোরোর। ঝিঙ্গনকে দায় নিতেই হবে এই গোলের।

হ্যাটট্রিক এল তারও মিনিট তিনেক পর। এবার লানজারোতে সাজিয়ে দিয়েছিলেন কোরোর জন্য, ডানদিক থেকে উঠে এসে। লানজারোতের পায়ে বল এসেছিল জাহুর পাসে, কিন্তু লাকিচ-পেসিচের পায়ে লেগে। লানজারোতে একটু ধরে দূরের পোস্টে বল রেখেছিলেন রাচুবকার হাত এড়িয়ে, বাঁ পা বাড়িয়ে হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন স্পেনীয় কোরো। শেষ দুটি ম্যাচে ঘরের মাঠে দুটি হ্যাটট্রিক তাঁর। সঙ্গে প্রথম ম্যাচে চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে গোয়ার গোল শুরুও হয়েছিল তাঁর পায়েই। চার ম্যাচে সাত গোল কোরোর একারই! আইএসএল-এর ইতিহাসে দ্রুততম হ্যাটট্রিক করে ম্যাচের নায়কও কোরো।

কোরোর পর লানজারোতেও হ্যাটট্রিক পেতেই পারতেন। দূর থেকে নেওয়া তাঁর শট ৭১ মিনিটে সবাইকে বোকা বানিয়ে পোস্ট আর বারের সংযোগস্থলে লেগে ফিরে এসেছিল। তারপরও গোল পেতে পারত গোয়া। এমনকি, কেরালাও। কাট্টিমনি ৮৫ ও ৮৭ মিনিটে পর পর দু’বার দুর্দান্ত দুটি গোল বাঁচিয়েছিলেন, না হলে কেরলও পারত চাপ ফিরিয়ে দিতে।

গোয়া গোল করে চলেছে নিয়মিত যেমন, গোল খেয়েও চলেছে নিয়মিতই। চার ম্যাচে ১৩ গোল তাদের পক্ষে, বিপক্ষে গোল সংখ্যাও কিন্তু ৯! ঠিক সময়ে গোল পেয়ে যাওয়ায় লোবেরার দলকে আটকাতে হচ্ছে না হয়ত, কিন্তু যে কোনও দিন এই গোল খাওয়ার কারণে সমস্যায় পড়তেই হতে পারে গোয়াকে। লোবেরার দলের ফ্রি-ফ্লোইং ফুটবল নজর কেড়েছে যেমন, রক্ষণ নিয়ে আরও ভাবনা জরুরি কোচেরও।

কেরল গোল পেল শেষ দুটি ম্যাচে, কিন্তু খেল অনেক বেশি। গোলরক্ষক, দুই স্টপার, ভুল করছেন বারবার। অফসাইড ট্র্যাপ করতে গিয়ে ডিফেন্ডাররা ওপরে উঠে থাকছেন, মাঝে এত ফাঁক, দ্রুতগতিতে আক্রমণে যেতে পারেন এমন স্ট্রাইকার বা পেছন থেকে নিখুঁত থ্রু বাড়াতে পারেন এমন মিডফিল্ডার থাকলেই কেরল রক্ষণ অসহায়।

গতবারের চ্যাম্পিয়ন এটিকে সবার শেষে, দশম স্থানে যেমন, রানার্স চার ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানে। গতবারের দুই সেরার জন্য একেবারেই ভাল যাচ্ছে না চতুর্থ আইএসএল!

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন