পুরুষদের কোয়ার্টার ফাইনালের সময়েই কিছুটা বিশ্বকাপ থেকে নজর ঘোরানো গিয়েছিল টেনিসের দিকে। অবশ্যই সব চেয়ে বড় খবর হচ্ছে রজার ফেডেরারের ছিটকে যাওয়া। বিগ সার্ভার কেভিন অ্যান্ডারসনের কাছে হারল রজার। দক্ষিণ আফ্রিকার অ্যান্ডারসন কিন্তু ঘাসের কোর্টে সহজ প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। অনেক বড় খেলোয়াড়কেই ও অতীতে হারিয়েছে বা সমস্যায় ফেলেছে। এই প্রতিযোগিতায় ওর অষ্টম বাছাই হিসেবে আসাটাই প্রমাণ করে, হেলাফেলা করার মতো নয় ও।

তবু বুধবারের জয়টাই নিশ্চয়ই অ্যান্ডারসনের জীবনের সেরা। তৃতীয় সেট থেকে ফেডেরারের ছন্দ নষ্ট হওয়াটা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল। তার পরেও ফেডেরারের মতো চ্যাম্পিয়নকে হারানো সহজ ব্যাপার নয়। যে ভাবে লড়াইটা চালু রেখেছিল অ্যান্ডারসন, তার জন্য ওকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। বিশেষ করে শেষ সেটে ওর মানসিকতা দারুণ লেগেছে। অ্যান্ডারসনের প্রধান অস্ত্র সার্ভ। ম্যাচ যত গড়িয়েছে, ততই যেন ওর সার্ভ আরও ভাল হতে থাকল। এর আগে গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে খেলেছে অ্যান্ডারসন, সেটা নিশ্চয়ই ওর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছিল।

ফেডেরার কেন হারল? আমার মনে হয়, ম্যাচটা ব্যাগে পুরেই ফেলেছিল বলে মনে করছিল ও। কিছুটা হাল্কা মেজাজেই ছিল। বলা যেতে পারে, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ঢুকে পড়েছিল ওর মধ্যে। মোক্ষম সময়ে অ্যান্ডারসন ওর খেলায় উন্নতি ঘটিয়ে ফেডেরারকে চমকে দিল। সার্ভেই শেষ করে দিল কিংবদন্তি প্রতিপক্ষকে। দুই সেটে এগিয়ে গিয়েও তাই পারল না ফেডেরার।

আমার মনে হয়েছে, রাফায়েল নাদাল এবং খুয়ান দেল পোত্রোর ম্যাচটা আরও হাড্ডাহাড্ডি হয়েছে। নাদালকে ঘাসেও অপ্রতিরোধ্য দেখাল। আমি আগেই লিখেছি, শুকনো আবহাওয়া এ বারের উইম্বলডনে ঘাসের কোর্টকে শক্ত করে তুলেছে। এর ফলে সুবিধে হচ্ছে নাদালের। দারুণ গ্রাউন্ডস্ট্রোক মারতে পারছে ও। আজ, শুক্রবার সেমিফাইনালে নোভাক জোকোভিচের মুখোমুখি হচ্ছে নাদাল। মাঝের ব্যর্থতা কাটিয়ে নোভাক আবার প্রাণবন্ত টেনিস খেলছে। টেনিসে রজার-রাফার পরে এটাই দ্বিতীয় সেরা দ্বৈরথ। ঘাসের কোর্টে অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ জোকোভিচ এবং নাদালের চেয়ে এগিয়ে থেকেই শুরু করবে ও। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে নাদাল যে রকম খেলেছে, তার পর ভবিষ্যদ্বাণী করার সাহস আমি দেখাতে পারছি না। নাদাল এ বারের উইম্বলডনে দারুণ ফর্মে রয়েছে এবং জোকোভিচকে সেরা খেলাটা খেলতে হবে ওকে হারাতে গেলে। অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি অ্যান্ডারসন এবং জন ইসনার। আবারও বড় সার্ভ অ্যান্ডারসনের অস্ত্র হতে যাচ্ছে। তবে এটাও দেখতে হবে যে, ফেডেরারের সঙ্গে পাঁচ সেটের দুরন্ত লড়াইয়ের পরে ও ক্লান্ত থাকে কি না। আমি ইসনারের উপর টাকা লাগাতে চাইব কারণ কোয়ার্টার ফাইনালে ও অনেক শান্ত পরিস্থিতিতে জিতে গেল। আমাদের কমেন্ট্রি বক্সে যদিও সে রকম শান্ত পরিবেশ ছিল না। সামনের দু’টো মনিটরে একটাতে চলছিল নাদাল আর দেল পোত্রোর ম্যাচ। অন্যটাতে ইংল্যান্ড বনাম ক্রোয়েশিয়া ফুটবল!