• নিজস্ব প্রতিবেদন
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

আজ নামছে জার্মানি-ব্রাজিল, পরের রাউন্ডেই কি মুখোমুখি?

Neymar and Kroos
নেমার ও খোস কি মুখোমুখি হবেন নকআউটে?

ফুটবল ঐতিহ্যে, মর্যাদায়, গৌরবে, গরিমায় উজ্জ্বল দুই দেশ। দুই দেশ মিলিয়ে মোট ন’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। এতটাই দাপট। অথচ কী আশ্চর্য, বুধবার সন্ধে থেকে রাত, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জার্মানি ও ব্রাজিল, সেই দুই দেশকেই নামতে হচ্ছে বিশ্বকাপে টিকে থাকার লড়াইয়ে!

দুই ম্যাচে জার্মানির পয়েন্ট ৩। ভারতীয় সময় সন্ধে সাড়ে সাতটায় শুরু হওয়া ম্যাচে কোরিয়াকে হারালেও পুরোপুরি দুশ্চিন্তামুক্ত হওয়া যাবে না। তাকিয়ে থাকতে হবে মেক্সিকো-সুইডেন ম্যাচের দিকে। মোদ্দা কথা, জড়িয়ে রয়েছে অনেক জটিল অঙ্ক। সমীকরণে আসতেই পারে গোল-পার্থক্য থেকে ফেয়ার প্লে পয়েন্ট, সব কিছুই। মেক্সিকোর বিরুদ্ধে কাপ অভিযানের শুরুতেই পরাজয়ের জের পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা যায়নি এখনও।

ব্রাজিলের হিসাব অবশ্য সোজা-সাপ্টা। পকেটে ৪ পয়েন্ট। মাঝরাতে শুধু হারাতে হবে সার্বিয়াকে। তা হলেই গ্রুপের শীর্ষস্থান পাকা। ড্র হলেও ওঠা যাবে নকআউটে। তবে হারলে সমস্যা হতেই পারে। তখন সুইত্জারল্যান্ডের বিরুদ্ধে কোস্টা রিকার জয়ের অপেক্ষায় থাকতে হবে। এবং সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে গোল পার্থক্য চলে আসবে হিসাবে।

সার্বিয়াকে অবশ্য জিততেই হবে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে। নতুন দেশ হলেও যুগোস্লাভিয়ার অংশ হিসাবে থাকার ফলে ফুটবলের একটা নিজস্ব ঘরানা রয়েছে সার্বদের। সুইত্জারল্যান্ডের বিরুদ্ধে হারতে হয়েছে দুর্ভাগ্যের কারণে। তিন পয়েন্ট পেলেই সার্বিয়া উঠে যাবে নকআউটে। পিছনে খাদ বলেই মরিয়া থাকবে তারা। রক্ষণ করতে করতে দ্রুত গতিতে কাউন্টার অ্যাটাক সার্বিয়ার শক্তি। সেটপিসেও ভাল।

 

ব্রাজিলকে তাই উদ্ভাবনী ক্ষমতা দেখাতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নেমার নয়, কুটিনহোই আসল শক্তি ব্রাজিলের। টুর্নামেন্টে দু’টি গোলও করে ফেলেছেন তিনি। নেমারের গোলে ফেরাও স্বস্তির লক্ষণ। যা নিশ্চয়ই আত্মবিশ্বাস বাড়াবে চোট সারিয়ে ফেরা দশ নম্বর জার্সির মালিককে। কিন্তু, ব্রাজিলের ফরোয়ার্ডরা গোল পাচ্ছেন না। গ্যাব্রিয়েল জেসুস ক্লাবের হয়ে যতটা তীক্ষ্ণ, ততটা দেখা যাচ্ছে না হলুদ জার্সিতে। তবে প্রথম ম্যাচের তুলনায় দ্বিতীয় ম্যাচে উন্নতি করেছে ব্রাজিল। নেমারও ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠবেন বলে আশায় কোচ তিতে। তবে লিওনেল মেসির মতো দলকে একা টেনে নিয়ে যাওয়ার চাপ তাঁর নেই।

আরও পড়ুন: আইরিশদের বিরুদ্ধে আজ কেমন হতে পারে ভারতের প্রথম একাদশ

আরও পড়ুন: রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের শেষে অসুস্থ মারাদোনা, নিয়ে যাওয়া হল হাসপাতালে

জার্মানির সঙ্গী আবার দুর্দম জেদ আর প্রতিজ্ঞা। প্রথম ম্যাচে পরাজয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচও ড্র হতে চলেছিল। স্টপেজ টাইমের অন্তিম লগ্নে টোনি খোসের দুরন্ত ফ্রি-কিক ছিনিয়ে এনেছিল জয়। যাতে প্রতিফলিত হার-না-মানা জার্মান মানসিকতা। কোচ জোয়াকিম লো-র দলের অবশ্য দক্ষিণ কোরিয়াকে হারাতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। সমস্যাটা অন্য জায়গায়। আসলে গোল করতে পারছেন না জার্মানির স্ট্রাইকাররা। টমাস মুলার পুরনো মেজাজে নেই। এ ক্ষেত্রে ব্রাজিল ও জার্মানির উদ্বেগ মিলে-মিশে যাচ্ছে। দুই দলেরই কাঁটা হয়ে উঠেছেন স্ট্রাইকাররা। জার্মানির রক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কোরিয়াও ঝোড়ো গতিতে ওঠে প্রতি-আক্রমণে। যা বিপদে ফেলতেই পারে। আর প্রথম দুই ম্যাচেই গোল খেয়েছে জার্মানি। ফলে, কী ভাবে আক্রমণ করলে ভেঙে যাচ্ছে জার্মান রক্ষণ, সেটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘কখনই ড্রয়ের কথা ভেবে খেলে না ব্রাজিল’

আরও পড়ুন: অঙ্ক মাথায় নিয়েই নামছে লো-র জার্মানি

আশঙ্কা আর উদ্বেগ নিয়েই আজ রাশিয়ার মাঠে চোখ থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের। চার বছর আগে এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল সেমিফাইনালে। সেই ম্যাচ ইতিহাসে ঢুকে পড়েছে জার্মানির সাত গোলের সুবাদে। ভাগ্যের অদ্ভুত পরিহাস, এ দিনের চ্যালেঞ্জ সামলে উঠলে সেই ম্যাচের পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা যথেষ্ট। ব্রাজিল যদি এক নম্বরে শেষ করে আর জার্মানি অন্য গ্রুপে দুইয়ে থাকে, তাহলেই তো মুখোমুখি দু’দল!

গ্রাফিক: শৌভিক দেবনাথ 

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন