রবিবার লিডসে বেন স্টোকসের অবিশ্বাস্য ইনিংসের পিছনে কী রসদ রয়েছে? উত্তর হচ্ছে, ফ্রায়েড চিকেন এবং চকোলেট বার!

কয়েক দিন ধরে ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং করার পরে এক জন ক্রিকেটারের খাদ্যতালিকায় প্রোটিন শেক বা হাইড্রেশন ট্যাবলেট থাকাই স্বাভাবিক। কিন্তু স্টোকস যে আর পাঁচ জন ক্রিকেটার নন। ফলে তাঁর খাদ্যতালিকা কী ভাবে বাকিদের সঙ্গে মিলবে?

হেডিংলেতে দুরন্ত ইনিংস খেলে ইংল্যান্ডকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দেওয়ার পরে স্টোকসকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কাল রাতে কী খেয়ে শুতে গিয়েছিলেন? স্টোকসের জবাব, ‘‘নান্দোজের ফ্রায়েড চিকেন এবং গোটা দুই চকোলেট বার।’’

ভরা পেট নিয়ে রাতে শুতে যাওয়ার সময় স্টোকস জানতেন, ইংল্যান্ডের কাজটা মোটেও সহজ হবে না। তখনও ২০৩ রান বাকি, হাতে সাত উইকেট। পরের দিন সকালে অবশ্য কিছু খাননি স্টোকস। দু’কাপ কফি খেয়েই অ্যাশেজ দ্বৈরথে নেমে পড়েন। কিন্তু দিন যত এগোয়, কাজটা ক্রমশ কঠিন হতে থাকে। স্টোকস একটা দিক ধরে থাকলেও উল্টো দিক থেকে উইকেট পড়তে থাকে। যখন ন’নম্বর উইকেট পড়ে যায়, তখনও জিততে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৭০ রানের বেশি। এর পরে শুরু হয়ে যায় স্টোকসের তাণ্ডব। শেষ উইকেটে যে ৭৬ রান যোগ হয়, তার মধ্যে দশ নম্বরে নামা জ্যাক লিচের রান ছিল এক! 

কী ভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য? স্বাভাবিক ভাবেই সাংবাদিক বৈঠকে উঠেছিল এই প্রশ্ন। স্টোকস জবাব দেন, ‘‘আমার স্ত্রী এবং বাচ্চারা দশটা নাগাদ এসেছিল। আমার স্ত্রীর হাতে একটা পাস্তার প্লেট ছিল।’’ স্ত্রী কি আপনার জন্য কিছু এনেছিলেন? একটু ভেবে স্টোকসের জবাব, ‘‘ফ্রায়েড চিকেন আর গোটা দুয়েক চকোলেট বার।’’ তা হলে এই খাবারই আপনাকে ও রকম একটা ইনিংস খেলার রসদ জুগিয়েছে? মাথা নাড়িয়ে স্টোকস বলে ওঠেন, ‘‘সঙ্গে সকালে দু’কাপ কফিও ছিল।’’

স্টোকসের অপরাজিত ১৩৫ রানের ইনিংসের প্রশংসা ভেসে এসেছে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে। সচিন তেন্ডুলকর যেমন টুইট করেন, ‘‘বেন স্টোকসের খেলা ক্রমশ ভাল হচ্ছে। এই ইনিংসের কথা লোকে অনেক, অনেক দিন আলোচনা করবে।’’