• নিজস্ব প্রতিবেদন
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

চ্যাম্পিয়ন বলরুম নাচিয়ে থেকে ইতালির নতুন প্রেম

goal
মাঠে দুরন্ত ভলিতে পেল্লের গোল।

মায়াবী চোখ, অনিন্দ্যসুন্দর দেহ-ভাস্কর্য দেখলে ভ্রম হয়। মন বিশ্বাস করতে চায় না, এই ছেলেটাই তো? মঙ্গলবার রাতে এত সুন্দর ছেলেটা সত্যিই বেলজিয়ান গোলে অত জোরে শট মেরেছিল তো?

গ্রাজিয়ানো পেল্লে-কে পিয়ানো বাদক হিসেবে বেশ মানায়। বা হলিউডের রোম্যান্টিক নায়ক। কিন্তু ফুটবল? স্ট্রাইকার পজিশন? গোলার মতো শট? ধুর, অত কাঠিন্য এই চেহারার সঙ্গে যায় নাকি?

ইবিজায় কয়েক বছর আগে বেড়াতে গিয়ে রোনাল্ড কোমান্সের বন্ধুর সঙ্গে ঘটনাচক্রে যদি দেখা না হত, ইতালি জার্সি হয়তো পরতেনই না কোনও দিন। বান্ধবী নিশ্চয়ই সুন্দরী হতেন, কিন্তু ভিক্টোরিয়া ভার্গার মতো সুইমওয়্যার মডেল? মনে হয় না। সাউদাম্পটন, তারা বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে গোলটার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে বলে দিয়েছে পেল্লেকে তারা ছাড়ছে না। এভার্টন চুলোয় যাক। কিন্তু গ্রাজিয়ানো পেল্লের জীবনে সাউদাম্পটন শব্দটাই আসত কি, ইবিজায় ছুটি কাটাতে না গেলে? নাহ্।

গ্রাজিয়ানো পেল্লে দুর্দান্ত বলরুম ডান্সার ছিলেন। হয়তো সেটাই হয়ে যেতেন শেষ পর্যন্ত।

মন্তেরোনি দি লিস বলে ইতালির যে জায়গায় জন্ম, অর্ধেকের বেশি ছেলে সেখানে বখে যায়। গতিপথ হারিয়ে ফেলে আর জীবনের রাজপথে ফিরতে পারে না। গ্রাজিয়ানোকে বাঁচিয়ে দেন তাঁর দাদু পিপে। তাঁকে নিজেদের ভিলায় খেলতে দেখতেন রোজ। দেখতেন তাঁর ভাইপো আলেসান্দ্রোর সঙ্গে চুটিয়ে খেলছে ছোট্ট গ্রাজিয়ানো আর তার মা ডোরিয়ানার উন্মাদপ্রায় দশা। দেখতেন আর ভাবতেন, এ ছেলেকে ফুটবলে নিয়ে যেতে হবে। বেঁধে দিতে হবে জীবনের গণ্ডি। ‘‘দাদুই আমাকে ঠেলে ঠেলে প্র্যাকটিসে নিয়ে যেতেন। দিয়ে আসতেন, নিয়ে আসতেন,’’ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন পেল্লে। শুধু দিয়ে আসা-নিয়ে আসা নয়, নাতির কানের কাছে একটা জপমন্ত্র অবিরত দিয়ে যেতেন দাদু পিপে—গ্রাজিয়ানো, তুমি যদি জোরে শট না মারো, কখনও গোল পাবে না।

গ্যালারিতে প্রেমিকের পুতুল নিয়ে উৎসব বান্ধবীর। ছবি: টুইটার

থিবাও কুর্তোয়া এমনি এমনি গত রাতে হতবুদ্ধির মতো দাঁড়িয়ে থাকেননি।

এক রাতে রোম থেকে মিলান তাঁকে নিয়ে মত্ত। ইউরোর ইতালির স্বপ্নের নামই এখন সাউদাম্পটন স্ট্রাইকার। কিন্তু কেউ তাঁকে সাফল্যের মহাসমুদ্রে ভেসে যেতে দেখল কি? না। বেলজিয়াম ম্যাচে কনিষ্ঠার হাড় একটু সরেছে বলে এ দিন প্র্যাকটিসে নামেননি। কিন্তু লোকে তাঁকে চুপচাপ বসে থাকতেই দেখেছে, তারকাসুলভ আচরণ করতে দেখেনি। করতে পারতেন, কিন্তু সম্ভব হয়নি। নির্ঘাৎ পারিবারিক মূল্যবোধ বিশাল প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। যে মূল্যবোধ তাঁকে ছোটবেলায় স্থানীয়দের নিয়ম মেনে অপরাধ জগতে পা রাখতে দেয়নি। যে মূল্যবোধ নতুন স্কুটারের বদলে বাড়ির পুরনো গাড়িতেই দাদুর পাশে বসতে শিখিয়েছে।

আসলে পেল্লে পরিবার তো গ্রাজিয়ানোকে ফুটবল-যোদ্ধা নয়, সুদক্ষ নাচিয়ে বানাতে চেয়েছিল। প্রত্যেক শনিবার রাতে পেল্লে পরিবার নাচতে যেত, ছোট্ট গ্রাজিয়ানোও যেত সঙ্গে। এক দিন সে অনূর্ধ্ব-১২ বলরুম ডান্সিংয়ে চ্যাম্পিয়নও হল। গ্রাজিয়ানো বলেন তাঁর নাচ, নাচের সময় শরীরের ঘূর্ণি ফুটবল মাঠে ডিফেন্ডারদের ছিটকে দিতে সাহায্য করে। কতটা, বুঝেছে বেলজিয়াম। বুঝেছে, আপাত রোম্যান্টিক ছেলেটা কেমন রক্তাক্ত করে দিতে পারে তাদের বিশ্বকাঁপানো টিমকে।

রোম্যান্টিক! শব্দটা বোধহয় পেল্লের জন্যই তৈরি। সোমবার তাঁর বান্ধবী ভিক্টোরিয়ার ইনস্টাগ্রাম পোস্ট নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছে। কারণ, ভিক্টোরিয়া পেল্লের হাওয়া ভরা পুতুল তৈরি করে ছবিটা পোস্ট করেছিলেন। কিন্তু পেল্লের বান্ধবীর প্রতি ভালবাসার কথা জানেন ক’জন? ভিক্টোরিয়ার জন্মদিন গোটা বছর ধরে উদযাপন করেন পেল্লে। এক বার প্রথম মাসে একশোটা গোলাপ দিয়েছিলেন, দু’মাস পর কেক, ন’মাস পর নিজের জার্সি নম্বর লেখা চকোলেট! এমন প্রেমিকের পুতুল নিয়ে বান্ধবী বসবে না তো কারটা নিয়ে বসবে?

সোমবারের পর পেল্লে নিয়ে শুরু হওয়া নানা তুলনার একটা হল লুকা টোনি। কিন্তু সব দেখলে মনে হবে, কেন লুকা টোনি? পেল্লের তো দরকার নেই টোনি হওয়ার। দরকার নেই রর্বাতো বাজ্জো বা ক্রিশ্চিয়ান ভিয়েরি হওয়ার। সবাইকে কারও মতো হতে হবে কেন?

তিনি, গ্রাজিয়ানো পেল্লে বরং ইতালির রোম্যান্টিক স্ট্রাইকার হয়েই থাকুন না! 

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন