চলতি বিশ্বকাপে ইতিমধ্যে বার পাঁচেক একই ঘটনা ঘটে গিয়েছে। উইকেটে বল লাগলেও বেল পড়েনি। যা নিয়ে সরব হয়েছেন শোয়েব আখতার থেকে মাইকেল ভনের মতো প্রাক্তন ক্রিকেটারেরা। ভারত-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে যশপ্রীত বুমরার বল ডেভিড ওয়ার্নারের উইকেটে লাগলেও বেল পড়েনি। যা নিয়ে ম্যাচের পরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিরাট কোহালি। বিস্মিত হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চও। 

বেল নিয়ে সমস্যা হল, অতিরিক্ত ওজন হয়ে যাওয়া। বেলের ভিতরে এখন আলো, তার ইত্যাদি ইলেকট্রিক সরঞ্জাম থাকার কারণে ওজন বেড়ে গিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এই কারণের জন্যই বেল পড়ছে না। দাবি উঠছে, বেলের ওজন কমানোর। কিন্তু মঙ্গলবার আইসিসি জানিয়ে দিয়েছে, তারা বেল পরিবর্তন করবে না। 

আইসিসি-র এক মুখপাত্র এ দিন বলেছেন, ‘‘আমরা প্রতিযোগিতার মাঝপথে কোনও রদ বদল ঘটাব না। কারণ, তাতে প্রতিযোগিতার নিরপেক্ষতা নষ্ট হয়ে যাবে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ১০টি দল একই সরঞ্জামে খেলবে। ৪৮টি ম্যাচে একই সরঞ্জাম ব্যবহার করা হবে। এখন বেশ কয়েকটি ম্যাচ হয়ে যাওয়ার পরে এই ভাবে কিছু বদল করা যায় না। তাতে সব দলের প্রতি সুবিচার করা হবে না।’’

ওয়ার্নারের ঘটনার দিন শোয়েব আখতার টুইট করেছিলেন, ‘‘বিশ্বকাপে এই নিয়ে পাঁচ বার উইকেটে বল লাগলেও বেল পড়ল না। পাঁ-চ বার। আমার ক্রিকেট জীবনে কখনও এত বার এই ঘটনা ঘটতে দেখিনি।’’ মাইকেল ভন বলেছিলেন, ‘‘যে যুগে ব্যাটসম্যানরা বোল্ড হয় না, সে যুগে ব্যাটসম্যান হওয়ার মজাই আলাদা।’’ 

কিন্তু এত সব সমালোচনার পরেও আইসিসি তাদের মনোভাবে অনড় থাকছে। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থার মুখপাত্রটি আরও বলেন, ‘‘গত চার বছর ধরে একই স্টাম্প এবং বেল ব্যবহার করা হচ্ছে ক্রিকেটে। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে সমস্ত আইসিসি প্রতিযোগিতা এবং ঘরোয়া ক্রিকেটেও একই বেল ব্যবহার করা হয়েছে। তার মানে, প্রায় হাজার ম্যাচে একই রকম বেল থেকেছে। এই নিয়ে কথা আগেও উঠেছে। কিন্তু ঘটনা হল, উইকেট ভাঙতে হলে একটু জোরেই বল লাগতে হবে উইকেটে।’’